২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফেনীর রাজাপুরের টুপি ওমানের বাজারে

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফেনী ॥ ফেনীর দাগনভুঞা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের হাতের তৈরি টুপি মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে বেশ জনপ্রিয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের মহিলা-পুরুষ এই টুপি তৈরি করে সংসার চালাচ্ছেন। সরকারী সহায়তা ও স্বল্পসুদে ঋণ পেলে এ ব্যবসাকে সম্প্রসারণ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব হবে মনে করেন উদ্যোক্তারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের ওমানের মাসকাটের প্রবাসী বাংলাদেশী সাইফুল ইসলামের আত্মীয় বেলাল হোসেন প্রায় ১৫ বছর আগে সেখানে ব্যবসা করতেন। সেখানে দোকানে বাংলাদেশী টুপির ব্যাপক চাহিদা বাড়তে থাকে। বেলাল হোসেন এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের তার স্বজনদের মাধ্যমে ওমানের নাগরিকদের চাহিদা অনুযায়ী টুপি তৈরি করে তা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ওমানে নিয়ে বাজারজাত করা শুরু করেন।

ধীরে ধীরে ওমানে অবস্থানরত এ এলাকার অন্যান্য বাংলাদেশী দোকানিরাও দেশে টুপি বানিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ওমানে নিয়ে বিক্রয় শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ওমানে বাংলাদেশী টুপির চাহিদা ও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। বর্তমানে এ এলাকার প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ব্যবসায়ী ফেনী থেকে টুপি নিয়ে ওমানের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করছে। ফেনীতে প্রতি টুপি তৈরি করতে খরচ এক হাজার টাকা হলেও ওমানের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ব্যাংক ঋণের কমসুদে টাকা পাওয়া গেলে এ ব্যবসা সম্প্রসারিত করাসহ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়ানো সম্ভব হবে। সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানে যেখানে ১ হাজার মহিলার কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সেখানে এলাকার আরও বেকার যুবক ও মহিলার কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

টুপির কারু-কাজের ডিজাইনার জিয়াউদ্দিন জানান, টুপি তৈরির কাজ ফেনীর রাজাপুর এলাকা ছাড়িয়ে সম্প্রসাতি হয় নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার চরঞ্চালে।

ফেনী এলাকার ও চরাঞ্চলে গ্রামের মহিলারা তাদের দৈনন্দিন কাজের অবসরে টুপি সেলাইয়ের কাজ করে বাড়তি টাকা আয়ের সুযোগ করে নেয়। বাড়তি টাকায় তাদের সংসারের সচ্ছলতা আসতে থাকে। অনেক স্কুলের ছাত্রী পড়া লেখার পাশাপাশি টুপি সেলাইয়ে কাজ করে লেখা পড়ার খরচ জোগান দিয়ে আসছে। সেলাই কারিগন (কারখান শ্রমিক) মিলন মিয়া জানান, প্রতি টুপি সেলাই ৩০ টাকা করে প্রতিদিন ১০/১৫টি টুপি সেলাই করে দৈনিক ৩০০/৩৫০ টাকা দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন, সেলাই মেশিন কারিগরদের নিজেদের। মহিলা সুইয়ের কাজ করছেন জরিনা বেগম, তিনি জানান, তিনি টুপিতে হাসুর কাজ করেন। প্রতি টুপিতে হাসুর কাজের জন্য মূল ঠিকাদার ১৭ টাকা নেয় তাদের য়ে ১৪ টাকা। প্রতিদিন ২/৩টা টুপিতে হাসুর কাজ করা যায়। ববি, রহিমা, সকিনারা এ কাজ করে বাড়তি টাকা আয় করে কেউ লেখা-পড়ার টাকা, আবার কেউ সংসার খরচের যোগান দিচ্ছেন।

এলাকার বেকার যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়ানোর জন্য এ ধরনের ক্ষুদ্র-হস্তশিল্প সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রযোজন বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।