২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাদের গোলে ফাইনালে বাংলাদেশ

  • বাংলাদেশ ১- আফগানিস্তান

মোঃ মামুন রশীদ ॥ একবার না পারিলে দেখো শতবার। অবশ্য অতবার অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৬ ফুটবল দলকে। নেপালে হওয়া আগের দুটি অনুর্ধ ১৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশের কিশোররা। তৃতীয়বারেই শেষ চারের সেই ফাঁড়াটা কাটিয়ে ফাইনালে উঠেছে। রবিবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে আফগানিস্তান অনুর্ধ ১৬ দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ করার শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৬ দল। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে মিডফিল্ডার সাদ উদ্দিনের করা গোলে এ জয় পায় বাংলাদেশের কিশোর ফুটবল দল।

খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল বিকেল ৩টায়। কিন্তু কর্দমাক্ত মাঠ খেলার অনুপযুক্ত থাকার কারণে এক ঘণ্টা পিছিয়ে বিকেল ৪টায় শুরু হয়। তবে স্বাগতিক বাংলাদেশের কিশোরদের সমর্থন দিতে শুরু থেকেই মাঠে উপস্থিত ছিলেন বিপুল পরিমাণ দর্শক। কর্দমাক্ততার কারণে প্রথম থেকেই উভয় দলের ফুটবলারদের বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে পরস্পরের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে বাংলাদেশ-আফগান শিবির। একাধিকবার গোলের সুযোগও পেয়েছে দু’দল। কিন্তু কোন দলই সেটা কাজে লাগিয়ে কাক্সিক্ষত গোল আদায় করে নিতে পারেনি। যদিও ১২ মিনিটের মাথায় গোল করে উল্লাসে মেতে উঠেছিল আফগান কিশোররা। তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। ১৬ মিনিটের সময় বাংলাদেশের সারওয়ার জামান নিপু গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি। তবে আক্রমণ থেমে থাকেনি। ২৭ মিনিটের সময় অধিনায়ক শাওনের পাস থেকে বল পেয়ে নিপু দারুণ প্লেসিং করলেও সেটাতে পা ছোঁয়াতে না পারলে সাদ গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন। তবে ৩৭ মিনিটে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয়েছে আফগানিস্তান নিজেদের ভুলে। বাংলাদেশের ডি-বক্সে বিপজ্জনকভাবে এগিয়ে আসতে থাকা আবদুল নাসের আমিনীকে ফাউল করেন বাংলাদেশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় জাহাঙ্গীর আলম সজীব। পেনাল্টি লাভ করে আফগানরা। মাঠ নীরব হয়ে যায়। কিন্তু একটু পড়েই সিলেট স্টেডিয়ামের বিপুল দর্শক উল্লাসে ফেটে পড়ে। কারণ আফগান অধিনায়ক অমিদ হায়দার পেনাল্টি শটে গোল করতে ব্যর্থ হন, তিনি পোস্টের ওপর দিয়ে শট নেন। শেষ পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশের কিশোররা। সুফল পেতে দেরিও হয়নি। ৫০ মিনিটের সময় কর্ণার থেকে অধিনায়ক শাওন বল পেয়ে ফাঁকায় দাঁড়ানো সাদের কাছে বল পাঠিয়ে দিলে তিনি লক্ষ্যভেদ করেন (১-০)। তবে গোল হজমের পর তা পরিশোধে শশব্যস্ত হয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় আফগানরা। ৫৯ মিনিটের সময় সহজ একটি সুযোগও মিলেছিল। কিন্তু নাসের সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও গোল করতে পারেননি। খেলা চলতে থাকে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে। ৭১ মিনিটে গোল পরিশোধের দারুণ আরেকটি সুযোগ পেয়েছিল আফগানিস্তান। রামিন আজিজীর দুর্দান্ত একটি ক্রস ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক ফয়সাল। ৭৭ মিনিটেও রামিনের ক্রসে দারুণ হেড নিয়েছিলেন হাবিবুল্লাহ কাইয়ুমি। কিন্তু সেটা গোলপোস্টের সামান্য ওপর দিয়ে চলে গেলে এবারও গোলের দেখা পায়নি আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হেরে সেমি থেকেই বিদায় নেয় তারা। বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৬ দল প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে।

২০১১ সালে প্রথম আসরে সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণীতেও হেরে চতুর্থ হয়েছিল বাংলাদেশের কিশোররা। ২০১৩ সালের আসরে এই আফগানিস্তানকে হারিয়েই তৃতীয় হয়েছিল। টানা দুই আসরে (প্রথম ও দ্বিতীয়) সেমি থেকে বিদায় নেয়ার পর অবশেষে ফাইনালে উঠতে সক্ষম হলো বাংলাদেশ। এবার শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলছে প্রথমবারের মতো নিজ দেশে সাফ অনুর্ধ ১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪-০ এবং শক্তিশালী ভারতকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই সেমিতে উঠেছিল। তারপর থেকেই শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাস এবং অনুপ্রেরণা জেগেছে দলের মধ্যে। সে পথে আর একটি মাত্র বাধা। শিরোপা জয়ের কৌশল আর পরিকল্পনা এখন থেকেই আটতে শুরু করেছেন কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী। সেটা রপ্ত করে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেই অনুর্ধ ১৬ সাফ আসরের নতুন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করবে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা।