২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আত্মঘাতী বোমায় পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিহত

পাকিস্তানের পাঞ্জাবের অটকের কাছে শাদি খানে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রদেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) সুজা খানজাদাসহ অন্তত দশজন নিহত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে রবিবার এই হামলার ঘটে। এসময় তিনি সেখানে নেতাকর্মীদেও সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। খবর ডন ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

নিহতদের মধ্যে যে সুজা খানজাদাও আছেন, সে খবর নিশ্চিত করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. সাঈদ এলাহী। পাঞ্জাবের উদ্ধার ও ত্রাণ বিভাগের প্রধান মোহাম্মাদ আশিক জিও টিভিকে বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুজা খানজাদা শহীদ হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, এতে পুরো ভবন ধসে পড়ে এবং আশপাশের বাড়িঘরের জানালা ভেঙ্গে যায়। ২০-২৫ জন ভবনটির ধ্বংসস্তূপের মাঝে আটকা পড়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে সোহরাব খানজাদা জিও নিউজকে বলেছেন, তার বাবা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটজনের লাশ উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে ডিএসপি হাজরো শওকত শাহও রয়েছেন। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে বেশ কয়েক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, এটা একটা আত্মঘাতী হামলা। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলোও দাবি করেছে, এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন লস্কর-ই-জাংভি (এলইজি)। তারা অভিযোগ করেছে, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে জুলাই মাসে এলইজির প্রধান মালিক ইসাক নিহত হওয়ার পর থেকেই খানজাদাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এদিকে এ ‘হামলার’ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী। উদ্ধারকাজের জন্য ঘটনাস্থলে একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। ২০১৪ সালের অক্টোবরে সুজাকে পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র দফতরের ভার দেয়া হয়। দায়িত্ব নিয়েই তিনি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চালানো বেশকিছু বড় অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা নেন। এমনকী রাজনৈতিক মহলেও জঙ্গীদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বরাবর সরব হয়েছেন। সম্প্রতি তাকে আল-কায়দা এবং তেহরিক-ই-তালেবান জঙ্গীগোষ্ঠী হুমকি দিয়েছিল। জেলা তথ্য কর্মকর্তা বলেছেন, এ দিন শাদি খান গ্রামে নিজের বাড়িতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে একটি বৈঠক করছিলেন মন্ত্রী। তখন ৫০-১০০ লোক ওই ভবনে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় সকলের নজর এড়িয়ে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি মন্ত্রীর বাড়িতে ঢুকে পড়েন। তারপরই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় ওই ব্যক্তি। ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মন্ত্রীর বাড়ি ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তুপের নীচে চাপা পড়ে যান মন্ত্রী সুজা খানজাদাসহ ২০-২৫ জন। পুলিশ জানিয়েছে, জোর কদমে উদ্ধার কাজ চলছে।