২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওজন নিয়ে ভয় আর নয়

  • নজরুল হোসেন

দৈনন্দিন জীবনে চাকরি বা পেশাগত ব্যস্ততার কারণে আমরা শরীরের যথাযথ যতœ নিতে পারি না অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। আর এ কারণে আমাদের অনেকেরই শারীরিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ওজন নিয়ে চিন্তিত নন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। কেউ তার ওজন কমাতে চায়, আবার কেউ চায় বাড়াতে। যিনি শুকনো বা সিøম তিনি যেমন মোটা হতে চান, আবার যিনি মোটা তিনি চান শুকনা বা সিøম হতে। মূলত প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা আপনাকে ওজন বা ফিগার নিয়ে অহেতুক সব টেনশন, হতাশা ও ভোগান্তি দিয়ে থাকে।

প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার জন্য অনেকেই বলিউড নায়ক-নায়িকাদের মতো ফিগার করতে চেষ্টা করেন। আর এক্ষেত্রে ফিগার মানে হলো ছেলেদের হাত-পায়ের অস্বাভাবিক মাসল আর মেয়েদের ৩র্৬র্ -২র্৪র্ -৩র্৬র্ । মেয়েদের অধিকাংশই মনে করে সুন্দর ফিগার ধরে রাখতে হলে প্রতিবেলায় চড়ুই পাখির মতো খেতে হবে। এ ইচ্ছার বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রাণান্ত চেষ্টা করা, কঠোর ডায়েট কন্ট্রোল এবং দিনের পর দিন না খেয়ে থাকে। অনেকে আবার দিনের পর দিন না খেয়ে কিংবা তথাকথিত ফিটনেস সেন্টারে কসরত করে করে মারাত্মক সব শারীরিক জটিল রোগ সৃষ্টি করছেন। অধিকাংশেরই একটি তথ্য অজানা যে, ওজন কমা বা বাড়ার ব্যাপারে একেকজনের শরীরে একেকভাবে সাড়া দেয়।

প্রথমত আপনার খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হতে হবে। কারণ ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একেক ব্যক্তির দেহ একেক রকমভাবে সাড়া দেয়। তাই খাবারের বেলায়ও আপনাকে সচেতন থাকতে হবে যে, খাদ্যাভ্যাসের কোন বিষয়টি আপনার স্থূলতার কারণ।

প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা শুধরে নিয়ে সঠিক ধারণা পোষণ করতে চেষ্টা করুন। অর্থাৎ তথ্যের পুনর্বিন্যাস করতে হবে। গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসানোর মতো প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার ওপর নিজের খাদ্যাভ্যাস ছেড়ে দেবেন না।

কি খাবেন

আপনার রুচি মতো পুষ্টিকর সবই খাবেন। তবে খেতে হবে পরিমিত। রুচিসম্মত এবং পুষ্টিকর খাবার বেশি খাওয়া যাবে না।

কখন খাবেন

আপনার শরীরের ওজন কমবে না বাড়বেÑ অধিকাংশ সময়ে তা নির্ভর করে আপনি খাবারটি কখন গ্রহণ করছেন তার ওপর। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য কখন খাবেন এটা নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, একই পরিমাণ খাবার সকালে খেলে ওজন কমবে, আর রাতে খেলে বাড়বে। এক্ষেত্রে সকালে ভরপেট নাস্তা বা খাবার গ্রহণ করুন। প্রথমদিকে এই অভ্যাস কঠিন হলেও পরে তা আপনার শরীরের সঙ্গে কন্ডিশনিং হয়ে যাবে। আর দুপুরে ভাল করে তৃপ্তির সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করুন। রাতে অনেকটা হালকা খাবার গ্রহণ করতে পারলেই দেখবেন, আপনার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই আপনার আয়ত্তে চলে আসবে।

কতটা খাবেন

খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন আপনার পাকস্থলির আয়তন অনুসারে। পাকস্থলির এক-তৃতীয়াংশ খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানি এবং এক-তৃতীয়াংশ ফাঁকা রাখার চেষ্টা করুন। পছন্দসই খাবার পেলেই হুমড়ি খেয়ে পড়বেন না। আপনার খাবার এখন গ্রহণ করা উচিৎ কিনা, তা নিজেকে নিজে জিজ্ঞেস করুন, তারপর খাবার গ্রহণ করুন। এমনকি কখনও কারও পীড়াপীড়িতেও খাবার গ্রহণ করবেন না। মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতাই আপনার ওজন নিয়ন্ত্রক।

ব্যায়াম

আজকাল কাউকে ব্যায়ামের কথা বললেই আপনাকে বলবে সময় কই। অফিসের ব্যস্ততা, পারিবারিক কাজকর্ম আর তথাকথিত টিভি সিরিয়ালের মাধ্যমে বিনোদন উপভোগ করতে গিয়ে ব্যায়ামের নাম মুখে আনা ভার। আবার এর উল্টোটাও ঘটছে। অনেকে ব্যায়ামের নামে তার শরীরকে ভল্লুক সদৃশ করার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। আসলে সুস্থ থাকার জন্য শারীরিক কসরত আপনার প্রয়োজন। তবে অবশ্যই এটা যেন আপনার শরীরের স্বাভাবিক গঠনকে পরিবর্তন করে না ফেলে সেই ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।

চিনি জাতীয় দ্রব্য খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন। অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাদ্য গ্রহণে আপনার ওজন বাড়বে আবার রোগবালাইও বৃদ্ধি পাবে।

চকলেট ভাল লাগে না এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। কিন্তু আপনি যদি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার চকলেট খাওয়া কমাতে হবে।

বোতলজাত ফ্রুট জুস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ এ ধরনের ফ্রুট জুসে আপনার শরীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাবে। এ ধরনের বোতলজাত জুসগুলোর কারণে পেটে পিত্তসহ নানা ধরনের রোগ বালাই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

খাবার গ্রহণের সময় অবশ্যই চিবিয়ে খাবেন। এতে আপনার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং খাবার সহজে হজম হবে।

ফাস্টফুড খাবার গ্রহণ থেকে নিজেকে সচেতনভাবে দূরে রাখুন। প্রয়োজনে চিড়া-দই খেতে পারেন, যা আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ কিন্তু আপনারই হাতে। শুধুমাত্র আপনার একটু সচেতনতাই আপনার শরীরের ওজন কমবে বা বাড়বে। শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য সব সময় সচেতন থাকুন। প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের জন্য ব্যয় করুন।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : মুনিয়া