১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকার দিনরাত

  • মারুফ রায়হান

জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো/এমন করে আকুল হয়ে আমায় কেন ডাকো... ১৫ আগস্ট অফিসের উদ্দেশে ঘর থেকে বেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠতেই মন ভরিয়ে দিল গানটা। কিছুটা পথ এগোতেই শুনতে পেলাম মাইকে বাজছে সেই বজ্রকণ্ঠ, যে কণ্ঠের অমোঘ আকর্ষণে সাড়ে সাত কোটি বাঙালী প্রাণবাজি রেখে যুক্ত হয়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে। সেই মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে একদল বাঙালীই তো হত্যা করেছিল! কী ভয়ঙ্কর কথা। সকালেই এক মিশ্র অনুভূতি। চকিতে ফিরে গেলাম যেন একাত্তরের দিনগুলোয়। আবার ইতিহাসের বর্বরতম নৃশংস হত্যাকা-ের বিষয়টিও মনের ভেতর ক্রিয়াশীল থাকল। একদিকে শোক, অন্যদিকে ক্রোধ। তখনও কি ভেবেছিলাম রাতে সংবাদ আসবে এক নেত্রীর বিশাল কেক কেটে জন্মদিন পালনের! ওই নেত্রীর আরও দুটি প্রচারিত জন্মদিন রয়েছে, দুটোই সরকারী নথির হিসাব, সে দুটির যে কোন একটি দিবসে কেক কাটলে কি হতো না? ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে নব্বই দশকের মাঝামাঝি থেকে তিনি জাতীয় শোক দিবসকেই বেছে নিয়েছেন ঘটা করে জন্মদিনের উৎসব উদ্যাপনের জন্য। এটি রাজনৈতিক কারণে বলেই অনেকে মনে করেন। রাজনীতি কি নির্মম রসিকতা কিংবা বেহায়াপনার দৃষ্টান্ত হতে পারে? না, পারে না। তাই এটি অপরাজনীতি।

স্মৃতিময় আলোকচিত্রমালা

আয়োজনটি দারুণ ব্যতিক্রমী, উন্মুক্ত সুপরিসর স্পেসে বড় বড় ফটোগ্রাফের প্রদর্শনী। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বঙ্গবন্ধু স্মরণে ‘চিত্রগাঁথায় শোকগাথা’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে মহান নেতার বর্ণাঢ্য জীবনের বিরল অনেক ছবি দর্শকদের আপ্লুত করে। ভিনদেশী দর্শকদের আগমনও ছিল লক্ষণীয়। বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক আটপৌরে অন্তরঙ্গ জীবনের ছবিগুলো দেখতে দেখতে বহু দর্শক অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা ছাড়া সকলেই একই রাতে নিহত হন। এমন নৃশংস-বর্বরতা মানব ইতিহাসে বিরল।

নিন্দনীয়

আত্মপ্রচার কতটা নির্লজ্জ ও বিবেকবর্জিত হতে পারে জাতীয় শোক দিবসে তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক শ্রেণীর উঠতি রাজনীতিক। এ যেন অরুচির বিশাল হাট। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে বিরাট বিরাট বিলবোর্ড স্থাপন করা হয় রাজধানীর ব্যস্ততম কয়েকটি সড়কের পাশে। সেসব বিলবোর্ডে মহান নেতার ছবিটির তুলনায় নিজেদের ছবি বড় আকারে তুলে ধরা হয়। প্রথম নজরে মনে হবে এটি বোধহয় কোন নির্বাচনী বিলবোর্ড। সেক্ষেত্রে নেতার ছবি ছোট করে দিয়ে নিজেরটা বড় দেয়ার একটা যুক্তি মিললেও মিলতে পারত। আসলে তা নয়। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষেই ওই আয়োজন। তবে এটাও তো সত্যি যে ওইসব অবিবেচক নির্লজ্জ আত্মপ্রচারকারীরা ভবিষ্যতের কোন নির্বাচনের প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবেই বেছে নিয়েছেন মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকী। তারা হয়ত ভেবেছেন এতে এক খরচে দুটো ফায়দা হবে। এক. বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো যাবে। দুই. নিজেদের চেহারারও প্রদর্শন হবে। কিন্তু এটা যে প্রকারান্তরে গর্হিত কাজ, এক ধরনের ধৃষ্টতাÑ এটা তাদের মোটা মাথায় আসেনি। অনেকে নিজের হাস্যোজ্জ্বল ছবিও ব্যবহার করেছেন। শুধু বিলবোর্ডের কথা কেন বলছি, রাজধানীজুড়ে পোস্টার ব্যানার ফেস্টুনেও একই অর্বাচীনতার প্রকাশ ঘটেছিল। এদের ব্যাপারে কেন্দ্রীয়ভাবেই ব্যবস্থা নিতে পারে দলটি। কারণ শোক দিবসের আয়োজনে শোকের আবহটাই প্রধান। সেখানে জাতির জনকের আলোকচিত্রই প্রধান বিষয়।

অবিশুদ্ধ পানির ব্যবসা

গত সপ্তাহে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে পানির সঙ্কট। পানি সঙ্কটকে পুঁজি করে নকল ও নিম্নমানের বোতল এবং জারজাত পানিতে বাজার সয়লাব। ইতোমধ্যেই বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ নকল ও ভেজাল পানি বোতলজাতকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করেছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, বছরে দুয়েকবার এমন সঙ্কট দেখা দেয়। এবার বর্ষা মৌসুমে পানির সঙ্কট দেখা দিল। ওয়াসার আওতাভুক্ত কিছু এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি। ফলে বহু মানুষ বাধ্য হয়েই বোতলজাত পানি কিনছেন। অবশ্য নগরবাসীর বড় একটি অংশ এ জাতীয় পানি ব্যবহার করে থাকেন। আর সেই সুযোগটাই নেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। বিএসটিআই সূত্রে আমরা জানতে পারলাম, ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ ও পানি সঙ্কটকে পুঁজি করে শহরময় কয়েক শত পানি বিক্রয় কোম্পানি গড়ে উঠেছে, যাদের অধিকাংশেরই বিএসটিআইয়ের সনদ নেই। ইতোমধ্যেই বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের নানা স্থানে অভিযান চালিয়ে শতাধিক ভেজাল কোম্পানির পানি জব্দ করেছে। জরিমানাসহ বাতিল করেছে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন। এ ব্যাপারে মামলাও হয়েছে একাধিক। পানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পানির মূল উৎস নষ্ট হওয়ায় পানি সঙ্কট দিন দিন বাড়ছে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগসহ রাজধানীর চারপাশের নদীগুলো রক্ষা করে চলমান পানি সঙ্কট মোকাবেলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলকে ভাবতে হবে। পানির অপর নাম জীবন, এটা সর্বজনবিদিত। পানি মরণ বা রোগশোকের কারণ হোক, এটা কারও কাম্য নয়।

কবিস্মরণ

গতকাল সোমবার ছিল দেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমানের নবম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি স্মরণে সত্তর দশকের কবি মিনার মনসুর ফেসবুকে দুটি ছবি পোস্ট করেন। কবি সিকদার আমিনুল হকের বাসায় আশির শেষার্ধে আয়োজিত একটি ঘরোয়া আড্ডার ছবি। শামসুর রাহমানকে ঘিরে আমরা কয়েকজন সেই আড্ডায় উপস্থিত ছিলাম। ছবির সঙ্গে এই ছোট্ট লেখাটি পোস্ট করেছেন মিনারÑ “শামসুর মরতে চাননি। ছিল না অমরত্বের বাসনাও। খুব দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, ‘আমি মৃত্যুকে ঘৃণা করি। আমার মৃত্যুর পরে আমাকে নিয়ে কে কী করল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি আমার মার ছবিটি প্রাণভরে দেখতে চাই। হাত দিয়ে স্পর্শ করতে চাই নয়না-দীপিতার ভালোবাসার উষ্ণতাকে।’ শুনে প্রথমে আমিও অবাক হয়েছিলাম। স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলাম রবীন্দ্রনাথের হৃদয় মন্থন করা সেই আকুলতার কথা, ‘আজি হতে শতবর্ষ পরে...’ কিংবা ‘যখন পড়বে না মোর...’। কিন্তু তা বিন্দুমাত্র চিড় ধরাতে পারেনি কবির অবস্থানে। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে দুটি সাক্ষাতকার নিয়েছিলাম। ‘কালি ও কলম’ ও ‘সংবাদ’-এর জন্য। সেখানে তিনি কথা বলেছিলেন মৃত্যু, মৌলবাদ, কবিতা, অমরতা ইত্যাদি নানা বিষয়ে। শামসুর রাহমানের চেয়ে ভাল কবি বাংলা ভাষায় হয়ত আরও পাওয়া যাবে, কিন্তু এত পরিশীলিত, এত বিনয়ী এবং এত মুক্তমনের কবি ও মানুষের এমন সম্মেলন ভবিষ্যতে আর হবে কিনা বলা মুশকিল। চার পাশ দাপিয়ে বেড়ানো কদাকার বামনদের বিকট হৈহুল্লা দেখে আশ্চর্য রূপবান রাহমান ভাইয়ের শূন্যতা আরও বেশি করে বুকে বাজে। মনে হয়, মৃত্যুও শোকার্ত আজ কবির বিচ্ছেদে।”

প্রসঙ্গত, আমারও ইচ্ছে হলো অন্তত একটি স্তবক লিখি। ব্যক্তির প্রয়াণের পর আমরা ব্যক্তিত্বকে পূর্ণতায় বুঝে নিতে চাই। কবি-ভাবমূর্তির সঙ্গে সে অবয়ব সংযুক্ত হয়ে ব্যক্তিকে বিরাট ব্যাপ্তি দেয়। দেশের প্রধান কবির সম্মান আমরা দিয়েছি শামসুর রাহমানকে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে, আরও স্পষ্ট করে বললে পঁচাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যে সেনাশাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে, সেই বাংলাদেশে জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর আমরা শুনেছি শামসুর রাহমানের কবিতায়। দেশের প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনকে অনুসরণ করেছে তাঁর পঙ্ক্তিমালা, যুগিয়েছে শক্তি ও প্রেরণা। মৌলবাদ ও স্বৈরাচারের সমান্তরাল উত্থানে বিপন্ন বিপর্যস্ত বাংলাদেশে আন্দোলনে সংগ্রামে শামসুর রাহমান গর্জে ওঠা শব্দে ও শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে এমন একটি পর্যায়ে নিজেকে উত্তীর্ণ করতে সক্ষম হন, যেখানে পৌঁছতে পারেন শতাব্দীতে একজন কি দু’জন। তাঁর উজ্জ্বল অংশগ্রহণÑ নান্দনিক কবিতায় ও তীক্ষ্ম প্রতিবাদেÑ নিবিষ্ট পাঠক ছাড়াও ব্যাপক গণমানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। তিনি হয়ে ওঠেন আইকন। সমৃদ্ধ শাণিত শৈল্পিক আইকন। বৃহত্তর সাংস্কৃতিক জগতের এক অসামান্য প্রতিভূ।

প্রশংসনীয় উদ্যোগ

নগরবাসীর ভেতর একটা প্রবণতা বহুদিন ধরেই লক্ষ্য করছি। চলতি পথে রাস্তাটাকে বহু লোক ডাস্টবিন ভেবে যা খুশি তাই রাস্তার ওপরেই ছঁড়ে ফেলেন। অবশ্য মানুষকে আর বেশি দোষ দিয়েও বা কী হবে। পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষও দেখি সড়ককে খোলা ডাস্টবিন জ্ঞান করেন। রাস্তার ওপরেই খোলা কন্টেইনার থেকে নোংরা আবর্জনা ও বিচিত্র বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে চলাচলের রাস্তাটিকে নরকতুল্য করে রাখে। এমন বাস্তব পরিস্থিতিতে ছোট্ট উদ্যোগও বড় প্রেরণা হয়ে কাজ করতে পারে- সে কথাই বলছি। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন সড়কটি অন্য সব সড়ক থেকে একটু আলাদা। অন্যান্য সড়কে যখন ময়লায় ভর্তি, তখন এই সড়কটি পরিচ্ছন্ন। এই সড়কটি পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্যোগী হয়েছে ‘মোহাম্মদপুর ক্লাব’। এ ক্লাবের সদস্যরা জাকির হোসেন রোডের গাছে বা ইলেকট্রিক পোলে একটা করে প্লাস্টিক বাস্কেট লাগিয়ে দিয়েছেন। যার প্রত্যেকটার উপরে লেখা রয়েছেÑ ‘আমাকে ব্যবহার করুন’। এতে বেশ কাজে দিয়েছে। সড়কে যেন কেউ ময়লা না ফেলে সেজন্য তারা পাহারাও দিয়েছেন। স্থানীয় হোক বা বাইরের কেউ হোক সড়কে ময়লা ফেললেই তা একটা সিগারেটের প্যাকেটই হোক না কেন, তারা খুব ভদ্রভাবে তাকে বোঝাচ্ছেন আর ময়লাটা তুলে নির্দিষ্ট পাশের বাস্কেটে ফেলে দিচ্ছেন। ফলে এলাকাবাসীরা সবাই সচেতন হয়ে যান। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় এমন উদ্যোগ নেয়া হলে রাজধানী অনেকাংশে পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে।

পান্থকুঞ্জে পাবলিক টয়লেট

কাগজে-কলমে ঢাকায় ৪৭টি পাবলিক টয়লেট রয়েছে, তবে এর কয়টি ব্যবহারযোগ্য সেটা বড় প্রশ্ন। সব ধরনের পাবলিক টয়লেটে সেবা মানের অবস্থা নাজুক এবং নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কোন সুবিধা নেই বললেই চলে। অথচ লাখো মানুষ প্রতিদিনই পথে বেরিয়ে প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদনের সুব্যবস্থার অভাবে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। আশার কথা নতুন মেয়ররা এ বিষয়ে সচেতন। নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা কারওয়ান বাজারের পান্থকুঞ্জ পার্কে বৃহস্পতিবার পাবলিক টয়লেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। পাবলিক টয়লেটের নির্মাণকাজ উদ্বোধনকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহানগরীর বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় আরও ৫০টি আধুনিক ও নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। রাজধানীতে পরিকল্পিত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বেসরকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ারটার এইড, সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা ওয়াসা যৌথভাবে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের এ উদ্যোগ নিয়েছে।

দুর্দশায় হাতিরঝিল

মহানগরীর দর্শনীয় স্থান হিসেবে হাতিরঝিলকেই নগরবাসী প্রাধান্য দেন। সুবিস্তৃত নয়নাভিরাম এলাকা বহুজনের জন্য বেড়ানোর উৎকৃষ্ট স্থান। দেড় হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প নিয়ে গর্বেরও সীমা নেই। বিশেষ করে রাতের বেলা হাতিরঝিলে গেলে মনে হয় ইউরোপের কোন দর্শনীয় এলাকা এটি। অথচ চরম দুঃখের বিষয় ধীরে ধীরে আমরা হাতিরঝিলকে দুর্দশাগ্রস্ত করে তুলছি। হাতিরঝিলের পশ্চিম অংশ, যেটি প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পেছনের অংশ, সেখানকার পানিতে সবচেয়ে বেশি দূষণ দেখা যাচ্ছে। যেন বুড়িগঙ্গার দূষণ, ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ, পানির কালো রং এবং দগদগে ফেনা দেখে মনে হয় শুকনো মৌসুমের বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নেমে এসেছে হাতিরঝিলের লেকে। এবার বর্ষার টানা বৃষ্টির কারণে কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, পরীবাগ ও ধানম-ি এলাকার বর্জ্য ও পয়োবর্জ্য পান্থপথ বক্স কালভার্ট দিয়ে ফেলা হচ্ছে হাতিরঝিলে। দূষিত হচ্ছে ঝিলের পানি। এ অবস্থার সমাধানের জন্য কি কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবে না?

অনুসরণীয়

জাতীয় শোক দিবসে সাধারণ ছুটি থাকে। মিডিয়ার ছুটি নেয়ার সুযোগ নেই। হাসপাতালও কি ছুটি নিতে পারে? অথচ ছুটি করার মানসিকতা কাজ করে অনেক চিকিৎসকের ভেতরেই। তাই ভাল লাগে যখন শুনি সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকরা ছুটির দিনের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। এ তো মানবসেবাই। এবার ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে সরকারী-বেসরকারী সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও খোলা ছিল সরকারী হাসপাতালগুলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সেদিন ২১৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ৬ হাজার ৩৮৭ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, ১৫ আগস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে ১ হাজার ৩৫৫ ও জরুরী বিভাগে ৩৩২ জন রোগী সেবা পেয়েছেন। এ ছাড়া শাহবাগে বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-১ ও সেগুনবাগিচায় বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২-এ রোগীরা বিনামূল্যে সেবা পেয়েছেন। আহা! সব সরকারী ছুটির দিনে যদি এমনটা হতো।

১৭ আগস্ট ২০১৫

marufraihan71@gmail.com