২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তানে সন্ত্রাসীরা কি অপ্রতিরোধ্য?

  • পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হত্যায় নিরাপত্তা ঘাটতি দায়ী ॥ বিশ্লেষকদের অভিমত

পাকিস্তানের পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্নেল (অব) সুজা খানজাদাকে হত্যা দেশের বেসামরিক ও সামরিক কর্তৃপক্ষের একটি নতুন সন্ত্রাস দমননীতি কৌশল প্রণয়নের পর প্রথম আলোড়ন সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী হামলা। গত ডিসেম্বরে পেশোয়ারে আর্মি পাবলিক স্কুলের হত্যাযজ্ঞের পর ওই নীতিকৌশল প্রণয়ন করা হয়। রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজনৈতিক দফতরে ওই আত্মঘাতী হামলায় আরও ১৮ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা এই কঠিন সত্যকেই স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই শেষ করতে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, পাঞ্জাবে সন্ত্রাস দমন অভিযানের নেতৃত্বদানের জন্য খানজাদা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর হত্যার তালিকায় ছিলেন। গত ২৯ জুলাই নিষিদ্ধ ঘোষিত লস্কর-ই-জাংভির প্রধান মালিক ইসহাক পুলিশের সঙ্গে এক সংঘর্ষে নিহত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জীবন ক্রমবর্ধমান হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল। এখানে প্রশ্ন উঠেছে তার জন্য কেন যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। সরকারের তরফে এখানে কী নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল? অথবা এ হামলা দেখাতে চায় যে, জাতীয় কর্ম পরিকল্পনার (এনএপি) অধীনে সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাম্প্রতিক অর্জন সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদীরা এখনও তাদের ইচ্ছামতো তাদের লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে। সরকারের কাছ থেকে এখনও এ ব্যাপারে পরিষ্কার জবাব পাওয়া যায়নি অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে এটি সুস্পষ্টভাবে একটি নিরাপত্তা ঘাটতির ঘটনা।

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব পিস স্টাডিজের (পিআইপিএস) আমির রানা মন্তব্য করেছেন, তিনি (খানজাদা) স্বাভাবিকভাবেই কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠীর হত্যার তালিকায় ছিলেন। আর তাই তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা হওয়া উচিত ছিল নিñিদ্র। পিআইপিএস নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করে থাকে এবং এনএপির অধীনে অর্জিত অগ্রগতির ওপর নজর রাখে। রানা বলেন, ‘আমরা সরকারকে আগে থেকেই সতর্ক করে আসছি যে, পরবর্তী বড় হুমকিটা আসতে পারে শহুরে এলাকায় সক্রিয় চরমপন্থী গোষ্ঠীর কাছ থেকে।’

সামরিক বাহিনী উত্তর ওয়াজিরিস্তান এজেন্সি ও অন্যান্য উপজাতীয় অঞ্চলে চলমান অভিযানে সন্ত্রাসবাদীদের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ গুঁড়িয়ে দেয়ার দাবি করেছে। তবে কিছু কিছু চরমপন্থী আফগানিস্তান অথবা পাকিস্তানের শহরাঞ্চলে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নিরপত্তা কর্মকর্তা বলেন, সামরিক বাহিনী এ সমস্যার প্রতি নির্লিপ্ত নয় এবং এ ধরনের সন্ত্রাসবাদীদের খুঁজে বের করে নির্মূল করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, চরমপন্থীদের ঘাঁটি পাঞ্জাবসহ শহর এলাকার গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে অভিযান অব্যাহত আছে। কর্মকর্তা বলেন, আগামী দিনগুলোতে এই অভিযান জোরদার করা হবে এবং শুধু চরমপন্থী সংস্থাগুলো নয়, বরং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল, সমর্থক এবং অর্থদাতাদেরও এই অভিযানের আওতায় আনা হবে। জিজ্ঞাসার জবাবে কর্মকর্তা স্বীকার করেন যে, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে খানজাদার হত্যাকা- প্রতিরোধ করা যেত। তবে সন্ত্রাস দমন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে একথা বলা যাবে না।