১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রবীর সিকদারকে জেলে প্রেরণ, আজ রিমান্ড শুনানি

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর, ১৭ আগস্ট ॥ ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে সোমবার ফরিদপুরের আদালতে হাজির করা হয়। ফরিদপুরে দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজুর রহমান এই আবেদন জানিয়ে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে সোমবার বিকেল ছয়টায় আদালতে হাজির করেন। ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলি আদালতের বিচারক হামিদুল ইসলাম রিমান্ড শুনানির তারিখ মঙ্গলবার ধার্য করে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। আদালত প্রাঙ্গণে ফরিদপুরের সাংবাদিক এবং প্রবীর সিকদারের পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে তাকে গভীর রাতে ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় বসিয়ে রাখা হয়। প্রবীর সিকদার নিউজপোর্টাল উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ এবং বাংলা দৈনিক বাংলা ৭১ ও উত্তরাধিকার নামের এক ত্রৈমাসিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। রাজধানীর ইন্দিরা রোডে পত্রিকা দু’টির কার্যালয়। প্রবীর শিকদারকে তার রাজধানীর ইন্দিরা রোডের কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে তিনি ফরিদপুরে অবস্থান করে জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার জন্মস্থান ফরিদপুরের কানাইপুরে।

ফরিদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা, আওয়ামী লীগ নেতা এপিপি এ্যাডভোকেট স্বপন কুমার পাল রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে ওই মামলা করেন। লিখিত এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত ১০ আগস্ট বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ‘আমার জীবন শঙ্কা তথা মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী থাকবেন’ শিরোনামে জনসমক্ষে একটি স্টেটাস পোস্ট করেন। এই পোস্টটি পড়ে আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে উক্ত প্রবীর সিকদার ইচ্ছাকৃতভাবে গণমানুষের প্রিয় নেতা মাননীয় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি সম্পর্কে মিথ্যা অসত্য লেখা লিখে সেটি তার নিজস্ব ফেসবুকে পোস্ট করে মাননীয় মন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছেন এবং উক্ত লেখাটি জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে উস্কানি প্রদান করে শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। এর ফলে মাননীয় মন্ত্রীর মানহানী ঘটেছে। যা একটি ফৌজদারি অপরাধ।

মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, গত ১০ আগস্ট এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে প্রবীর সিকদার বলেনÑ তার মৃত্যু হলে স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার দায়ী থাকবেন।

প্রবীর শিকদারকে গ্রেফতারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা তথ্য প্রযুক্তি আইনে সুনির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষিতে প্রাবীর শিকদারকে ঢাকা পুলিশ গ্রেফতার করে। আমরা সোমবার সকালে প্রবীর শিকদারকে বুঝে নেই।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিনুল কবির বলেন, ফেসবুক স্ট্যাটাসে মন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার অভিযোগে আইসিটি আইনের ৫৭(২) ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭(২) ধারায় প্রবীর শিকদারকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজুর রহমান জানান, প্রবীর শিকদারের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। কোর্ট পরিদর্শক এনায়েত হোসেন জানান, আদালত সাংবাদিক প্রবীর শিকদারকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। রিমান্ডের শুনানি হবে মঙ্গলবার। প্রবীর শিকদারের ভাই সুবির শিকদার জানান, আমার বাবা একাত্তরে শহীদ হয়েছেন। প্রবীর দা এর আগে সন্ত্রাসী হামলায় পা হারিয়েছেন। এ রকম এক সাংবাদিকের প্রতি এ আচরণ আমানবিক ও দুঃখজনক।

সাংবাদিক প্রবীর সিকদার মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সন্তান। তার বাবাসহ পরিবারের ১৪ জন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শহীদ হয়েছিলেন। দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদপুরের নিজস্ব সংবাদদাতা থাকাকালে পত্রিকায় প্রকাশিত ‘সেই রাজাকার’ কলামে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুসা বিন শমসেরের বিতর্কিত ভূমিকার বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। এরপর ২০০১ সালের ২০ এপ্রিল সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হন। বর্তমানে একটি পা হারিয়ে পঙ্গু জীবন যাপন করছেন তিনি।