২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শান্তিচুক্তির অর্জন ম্লান করার নীলনক্সা ॥ পাহাড়ে ফের সশস্ত্র গ্রুপ, অস্ত্রে

  • প্রায়ই লাশ পড়ছে, অহরহ ঘটছে গুম অপহরণ

মোয়াজ্জেমুল হক/জীতেন বড়ুয়া ॥ ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৭ বছর পরও পাহাড়ে অশান্তির বাতাস যেন থামছে না। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার পাহাড়ে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকা- নিয়ে তৎপর থাকার পরও পাহাড়ীদের অধিকার আদায়ের নামে আঞ্চলিক দুটি রাজনৈতিক সংগঠন যেন রহস্যজনক পথে এগোচ্ছে, যা দিনে দিনে অস্ত্রের ঝনঝনানিতে রূপ নিয়েছে। আর এতে প্রতিনিয়ত পড়ছে লাশ; গুম, অপহরণ অহরহ। আর চাঁদাবাজি নজিরবিহীন পর্যায়ে।

এসব নিয়ে পাহাড়ে বসবাসরত শান্তিপ্রিয় পাহাড়ী-বাঙালীরা একদিকে যেমন চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে, তেমনি নিরাপত্তা বাহিনী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের যে কোন অপতৎপরতা রুখে দিতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু থেমে নেই অস্ত্রহাতে বহুমুখী অপতৎপরতা। সুযোগ পেলেই পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা কখনও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রতিশোধ নিচ্ছে। আবার কখনও বাঙালীদের ওপর চড়াও হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের কর্মকা- প্রমাণ করেছে এরা সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-কেও প্রতিহত করতে চায়। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙ্গামাটিতে প্রথমবারের মতো একটি সরকারী মেডিক্যাল কলেজ চালু করতে গিয়ে বিভ্রান্ত পাহাড়ীদের মধ্য থেকে এ কাজে ব্যাপকভাবে বাধা দেয়া হয়, যা ছিল সবচেয়ে বিস্ময়কর একটি ঘটনা। অবশ্য পরবর্তীতে তাদের ওই অপতৎপরতা ব্যর্থ হয়ে যায়।

১৯৯৭ সালে জনসংহতি সমিতি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। অস্ত্র হাতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) প্রধান সন্তু লারমা ও সমিতির সামরিক উইং শান্তিবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। বিলুপ্তঘোষিত হয় শান্তিবাহিনী। আত্মসমর্পণের এ ঘটনার পর থেকেই বিরোধিতা শুরু করে জেএসএসের আরেক নেতা প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ। তারা শান্তি চুক্তিকে বর্জন করে এবং ওই দিন খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে কিছুক্ষণের জন্য কালো পতাকাও প্রদর্শন করে। এরপর থেকে শান্তিবিরোধী ওই গ্রুপের তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তীতে ওই গ্রুপটি আত্মপ্রকাশ করে ইউপিডিএফ (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) নামে। ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে জেএসএস প্রধান সন্তু লারমাকে সরকারের দালাল আখ্যা দিয়ে পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে।

শান্তি চুক্তির দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সকল মহলে প্রতীয়মান জনসংহতি সমিতির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি গ্রুপ সংস্কারপন্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে সন্তু লারমার কর্মকা-ে বিরোধিতা শুরু করেছে। এই গ্রুপটি এমএন (মানবেন্দ্র নারায়ণ) লারমার গ্রুপ নামে পরিচিত। এ অবস্থা চলতে থাকার প্রেক্ষাপটে শান্তি চুক্তির প্রায় দুই দশকের কাছাকাছি এসে লক্ষণীয় যে, জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপ ও ইউপিডিএফ পৃথক পৃথক প্লাটফর্মে থেকে জেএসএস প্রধান সন্তু লারমা গ্রুপের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে। এরা পাহাড়কে আবার অস্থিতিশীল করতে নীলনক্সা প্রণয়ন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গোটা পাহাড়কে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে এ গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা মাঠে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত তারা চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু নেপথ্যে এদের চিন্তাধারা মূলত স্বায়ত্তশাসন অর্জনের লক্ষ্যে। এদের এ তৎপরতাকে প্রতিনিয়ত উস্কে দিচ্ছে দেশী-বিদেশী কিছু এনজিও সংস্থা। এ অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

পাহাড়ে সর্বশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের যে ঘটনা ঘটেছে তা শান্তি চুক্তি পরবর্তী সময়ে বৃহত্তম একটি ঘটনা। ঘটনাটি ঘটেছে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৫ সন্ত্রাসী। এরা সবাই ছিল সেনা সদৃশ পোশাক পরিহিত। এদের কাছে ছিল ভারি অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ। এ ঘটনায় একজন সেনাসদস্য গুরুতর আহত হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট বাঘাইছড়ির রূপকারী ইউনিয়নের দোখাইয়া নামক এলাকায় সংঘবদ্ধ পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের অবস্থানে অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। এতে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উদ্ধার হয় একে-৪৭ রাইফেলসহ বিভিন্ন ধরনের ভারি অস্ত্র ও প্রায় সাড়ে ৫শ’ রাউন্ড গুলি। ঘটনার পরপরই ইউপিডিএফের তথ্য বিভাগের প্রধান নিরন চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়Ñ একটি বিশেষ মহল ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে গোলাগুলির ঘটনায় ইউপিডিএফকে জড়াতে চাচ্ছে। অপরদিকে জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা জানান, তাদের কোন সশস্ত্র শাখা নেই। তাই সন্ত্রাসীরা তাদের সংগঠনের সদস্য হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের এগুজ্জেছড়ি এলাকায়ও সেনাবাহিনীর টহল দলের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময় হয়। এতে একজন নিহত এবং অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখার আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটলেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পাহাড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের অপতৎপরতা সকল মহলকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। সবুজের সমারোহে পাহাড় যেন পরিণত হয়েছে অবৈধ অস্ত্রের পাহাড়ে।

পাহাড়ে কেন অবৈধ অস্ত্রের আবারও ঝনঝনানি। শান্তি চুক্তির পর এ পর্যন্ত সরকারের দাবি রয়েছে চুক্তির ৯৮ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। অবশিষ্ট ২ শতাংশও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অথচ শান্তি চুক্তি সম্পাদনকারী জেএসএস দাবি করে যাচ্ছে, সরকারী প্রচার মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক। সরকার ইতোমধ্যে চুক্তির যেসব ধারা বাস্তবায়ন করেছে এবং তা দৃশ্যমান-জেএসএস এগুলোও যেন স্বীকার করতে নারাজ। এর ওপর জেএসএস বিরোধী ইউপিডিএফ এবং জেএসএসের সংস্কারপন্থী গ্রুপটিও সরকারের এ আন্তরিকতাকে প্রাধান্য না দিয়ে ভিন্নপথে পা বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার লক্ষ্যে সশস্ত্র গ্রুপ সৃষ্টির পেছনে কিছু কিছু দেশী-বিদেশী সংস্থার ষড়যন্ত্র ও পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে।

অনুসন্ধানে এখন স্পষ্ট যে, ১৯৯৮ সালের ২ ডিসেম্বর যখন বাংলাদেশ সরকার ও জনসংহতি সমিতির সঙ্গে পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয় মূলত তখন থেকেই নতুন ষড়যন্ত্রের নীলনক্সা রচিত হয়। মহলবিশেষ নিজেদের স্বার্থ হাসিল ও তাদের গুরুত্ব অনুধাবনের জন্য পাহাড়ে সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে শুরু করে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।

অথচ পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর শান্তি প্রিয় পার্বত্যবাসীর প্রত্যাশা ছিল সবুজ পাহাড়ে আর অস্ত্রের ঝনঝনানি হবে না, প্রাণহানি ঘটবে না। বাড়িঘর, সহায় সম্পত্তি আগুনে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাবে না। ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিতে হবে না। কিন্তু তা যেন অধরাই রয়ে গেল। পাহাড়ের কোথায় কখন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা কার ওপর হামলে পড়বে তা নিয়ে সর্বক্ষণিক উৎকণ্ঠায় থাকতে হচ্ছে পাহাড়ী-বাঙালী শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোকে। শান্তি চুক্তির দীর্ঘ সময় পরও পাহাড় অশান্তই থেকে গেলÑ এর পেছনে কী রহস্য রয়েছে তা পার্বত্যবাসীর মনে অজানাই রয়ে গেল। গত পাঁচ মাসে বাঘাইছড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির এটি দ্বিতীয় ঘটনা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে নিহত যুবকদের শরীরে ছিল সেনাবাহিনীর সদৃশ্য ইউনিফর্ম (পোশাক)। আগে এ ধরনের পোশাক সন্ত্রাসীদের শরীরে দেখা যায়নি। অস্ত্র হাতে নেয়ার পর নতুন ইউনিফর্ম প্রমাণ করছে এরা ইতোপূর্বেকার চেয়ে বেশি গুণে সংঘবদ্ধ এবং সংঘটিত। শান্তি চুক্তির পর আত্মসমর্পণের সময় পরিলক্ষিত হয়েছিল, শান্তি বাহিনীর বহু সদস্য ওই দিন যেমন অনুপস্থিত ছিল। তেমনি তাদের হাতে থেকে যায় ভারি অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদও। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে বিলুপ্ত শান্তি বাহিনীর সদস্যরা পাহাড়জুড়ে চাঁদাবাজি করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন আবার এরা ইউনিফর্ম পরিধান করছে।

পাহাড় পরিস্থিতি নিয়ে বোদ্ধামহলের বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, জেএসএস প্রধান সন্তু লারমা শান্তি চুক্তির পর থেকে সরকারী সুযোগ সুবিধা শতভাগ গ্রহণ করে সরকারের বিরুদ্ধে মাঠ গরম করতে তৎপর রয়েছেন। অপরদিকে তার গ্রুপ থেকেও নেতাকর্মীদের একটি অংশ বেরিয়ে নিজেদের সংস্কারপন্থী হিসেবে জানান দিয়েছে। তারা নিজেদের জেএসএসের প্রতিষ্ঠাতা এমএন লারমা গ্রুপ বলে পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে ইউপিডিএফ শুরু থেকেই সন্তু লারমার পক্ষে সরকারের সঙ্গে যে চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে তার বিরুদ্ধাচারণ করেই চলেছ। এদের চাঁদাবাজির অপতৎপরতায় পাহাড়ের সাধারণ পাহাড়ী-বাঙালী, ব্যবসায়ী, পর্যটক, বিদেশী, দাতা সংস্থার সঙ্গে জড়িতরা অতিষ্ঠ হয়ে আছে। নিরাপত্তা বাহিনী এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলেই ‘আদিবাসী’ বিরুদ্ধে সরকারী দমননিপীড়ন চলছে বলেই সারাবিশ্বকে জানান দেয়া হয়। দেশের এক শ্রেণীর সুশীল সমাজে পাহাড়ের অন্তর্নিহিত অবস্থা না জেনেই বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে মাঠ গরম রাখতে তৎপর থাকেন। অথচ জেএসএসের নামে, ইউপিডিএফের নামে রাজনৈতিক তৎপরতার ব্যানারে এরা এক নাগাড়ে চাঁদাবাজি চালিয়ে, অপহরণ, গুম, গোলাগুলি করে পাহাড়ের পরিবেশকে অশান্ত করে রাখার বিষয়টি তারা তলিয়ে দেখতে চান না।

এদিকে জনসংহতি সমিতির প্রধান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা বার বার চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারকে হুমকি দিচ্ছে এই বলে যে, প্রয়োজনে নতুন করে তারা আন্দোলন করবে। গেল আদিবাসী দিবস উদযাপন কর্মসূচীতে তিনি পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সরকার পার্বত্য শান্তি চুক্তির ৯৮% বাস্তবায়ন করেছে। বাকি ২% কিছু আইনগত জটিলতার কারণে ভূমি সমস্যা ও আলাদা ভোটার তালিকা তৈরিতে জটিলতা রয়েছে। তারপরও সরকার পার্বত্য চুক্তির সাথে অসামঞ্জস্য বিভিন্ন ধারা উপধারাগুলো সংশোধন করে এ সরকারের আমলেই শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে তৎপর। অপরদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী আঞ্চলিক ৩টি দলেরই রাজনৈতিক কর্মকা-ের পাশাপাশি সশস্ত্র শাখা রয়েছে। এরা অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালান কিভাবে পাচ্ছে, কোথায় থেকে আসছেÑ সবই রহস্যময়। পাহাড়কে নিয়ে এদের যত নীলনক্সা থাকুক না কেনÑ সকল অপতৎপরতা রুখে দিতে নিরাপত্তা বাহিনী সদা তৎপর রয়েছে।

এসব ঘটনা ও বাঘাইছড়ির বন্দুকযুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে জেএসএসের দুটি গ্রুপ ও ইউপিডিএফের পক্ষে কেউ মুখ খুলছে না। শুধু বলা হয়েছে, নিহতরা তাদের কারও নয়। তাহলে প্রশ্ন উঠে এরা কারা। এদের গায়ে সেনাবাহিনীর সদৃশ ইউনিফর্ম এলো কিভাবে। কারা এসব যোগান দিচ্ছে। কারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। এসব প্রশ্নের সংশ্লিষ্ট সকল মহলে নানা জিজ্ঞাসার সৃষ্টি করেছে। এ পর্যন্ত যে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়েছে তা হচ্ছে, পার্বত্য সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত বাঘাইছড়ি বিভিন্ন গ্রুপের চাঁদাবাজির মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়ে আছে। তবে চাঁদাবাজির নেপথ্যে এদের সুদূরপ্রসারী যে নীলনক্সা রচিত হয়েছে তা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে এগিয়ে নেয়া, যা ইউপিডিএফের মূল সেøাগান।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর ১৯৯৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিবাহিনীর ১৯৪৭ জন সদস্য, সহস্রাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলেও তাদের সশস্ত্র আরও বহু সদস্য আড়ালে আবডালে থেকে যায়। যে কারণে পাহাড়ে সশস্ত্র চাঁদাবাজির সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে জেএসএসের একটি গ্রুপের শান্তি চুক্তির বিরোধিতা এবং পরবর্তীতে জেএসএসের সংস্কারপন্থী গ্রুপের জন্মসহ নানা ঘটনায় পাহাড়ী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন গ্রুপে শেল্টারে রয়েছে। এরাই বিভিন্ন সময়ে পাহাড়ে সশস্ত্র বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। তবে সেনা সদৃশ ইউনিফর্ম নিয়ে অস্ত্রের ঝনঝনানির সঙ্গে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি এই প্রথম পরিলক্ষিত হওয়ায় নতুন করে নানা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পাহাড়ের বিভিন্ন সূত্রে এ ব্যাপারে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছে।