২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কোটিপতি ইয়াবা সম্রাট আলো নিহত

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ইয়াবা সম্রাট জাহিদুল ইসলাম ওরফে আলো (৩৫) নিহত হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম বন্দর-ভাটিয়ারী বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাত পৌনে তিনটার দিকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হলে আলো ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‌্যাব সদস্যরাও গুলি ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে বেধে যায় বন্দুকযুদ্ধ। এ সময় র‌্যাব-৭-এর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করেছে। এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর র‌্যাব-৭ তাকে নগরীর হালিশহরের তাসফিয়া কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় প্রায় সোয়া দুই লাখ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। প্রায় ৭ মাস কারাভোগের পর গত মাসে জেল থেকে বেরিয়ে আবারও সে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, আলো নগরীর হালিশহর থানাধীন মধ্যম রামপুরা এলাকার মাদক সম্রাট। যে কোন ধরনের মাদক সে এলাকায় বিক্রির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীও বিভিন্ন সময়ে থানায় অভিযোগ করেছে। আলো ওই এলাকার মৃত নজির আহম্মদের ছেলে। বিভিন্ন সময়ে সে গাড়ির ইঞ্জিন ও চেসিসে লুকিয়ে ইয়াবার বিশাল বিশাল চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে অল্প সময়ে কোটিপতি বনে যায়। মাত্র ৩৫ বছর বয়সী আলো প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার মালিক।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-৭-এর এএসপি ও মিডিয়া উইং সোহেল মাহমুদ জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বরে প্রায় সোয়া দুই লাখ পিস ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয় আলোকে। এ ঘটনায় প্রায় ৭ মাস কারাভোগের পর মাসখানেক আগে আলো জেল থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু আবারও সে আগের পেশায় ফিরে যায়। গত মাসেও র‌্যাব-৭-এর সদস্যরা আলোর ৮০ হাজার পিসের একটি ইয়াবার চালান একটি পিকআপসহ আটক করে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই র‌্যাব-৭ কর্তৃক মিনি পিকআপসহ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়ভাবে চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট হিসেবে তার পরিচয় রয়েছে। এর আগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর আলোকে ২ লাখ ১৫ হাজার ৩১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১টি বিদেশী পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, ১টি প্রাইভেটকার, ১টি মোটরসাইকেলসহ র‌্যাব-৭ গ্রেফতার করে। আলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। র‌্যাব-৭ গত সাত মাসে ২৬ লাখ ১০ হাজার ৩৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

র‌্যাব-৭ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত পৌনে তিনটার দিকে নিয়মিত ডিউটির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টহলরত ছিল র‌্যাবের টিম। টহল দলটি আকবরশাহ থানাধীন চট্টগ্রাম বন্দর-ভাটিয়ারী বাইপাস সড়ক এলাকায় থেমে থাকা একটি হলুদ মিনি পিকআপ দেখতে পায়। পরে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকআপটি নিয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় গাড়িটিকে থামতে সিগন্যাল দেয়া হলেও তারা তা অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে র‌্যাব সদস্যদের সন্দেহ হয়। এ সময় গাড়িটিকে ধাওয়া করা হলে অপরাধীরা পালিয়ে যেতে র‌্যাবের টহল দলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। একপর্যায়ে আত্মরক্ষা ও সরকারী জানমাল রক্ষার্থে র‌্যাবও গাড়িটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে।

উভয় পক্ষের গুলিবর্ষণের একপর্যায়ে পিকআপটি চট্টগ্রাম শহর অভিমুখে পালিয়ে যায়। তবে গুলিবর্ষণের পর ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করা হয়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে আকবরশাহ থানা টহল পুলিশের সহায়তায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়াও উভয়পক্ষের গোলাগুলিতে টহল কমান্ডার ডিএডি অসিত কুমার নন্দী বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্মস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৩ রাউন্ড তাজা গুলি, পিস্তলের ২টি খালি খোসা এবং ২টি রিভলবারের খালি খোসা উদ্ধার করা হয়।