২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার কেরানীগঞ্জে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে শিশু হত্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেরানীগঞ্জ, ১৭ আগস্ট ॥ কেরানীগঞ্জে মোবাইল চুরির অভিযোগে রাব্বি হাসান (১৩) নামে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার রাতে কালিগঞ্জে ইমরান গার্মেন্টস নামে একটি তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের ভেতর এ ঘটনা ঘটে। সোমবার দুপুরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের মামা বাবুল মিয়া জানান, ১৫ দিন আগে গ্রামের বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া থানার লবণছড়া থেকে মিরাজ নামে এক বন্ধুর সঙ্গে রাব্বি ঢাকার কেরানীগঞ্জে আসে। এরপর সে কালিগঞ্জের ‘ইমরান গার্মেন্টস’ নামে একটি তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেয়। রাব্বির বাবা মোঃ দুলাল একজন কৃষক।

তিনি অভিযোগ করেন, রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর একটি মোবাইল খোয়া যায়। এতে সবাই রাব্বিকে সন্দেহ করে। তখন প্রতিষ্ঠানের কয়েক কর্মচারী মিলে রাব্বিকে বেঁধে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে কর্মচারীরা রাব্বিকে বাথরুমে নিয়ে গলায় দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে ফাঁসির নাটক সাজায়। রাত ১২টার দিকে পাশের প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তারা রাব্বিকে বাথরুম থেকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং রাব্বি আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতের শরীরে বিভিন্ন অংশ আঘাতের চিহ্ন ও নীলাফুলা দাগ রয়েছে। রাব্বির মৃত্যু সংবাদ শুনে সঙ্গে থাকা মিরাজ নামে এক সহকর্মী পালিয়ে গেলেও আক্তার ও সেলিম নামে অপর দুই সহকর্মীকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ আটক করে। পাশাপাশি তারা ঘটনাটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় জানিয়ে দেয়। তবে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ কাউকে আটকের কথা অস্বীকার করেন।

এদিকে সোমবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোজাম্মেল হোসেন হাসপাতালে গিয়ে নিহতের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সেখানকার মর্গে পাঠিয়ে দেন।

তিনি জানান, শরীরের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

সোমবার বিকেলে কালিগঞ্জের ইমরান গার্মেন্টসে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পাশের দোকানদাররা জানান, রাব্বির মৃত্যু সংবাদ শোনার পর মালিকসহ অন্য কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছেন।

নিহত রাব্বির বড় বোন শারমিন। গাজীপুরের টঙ্গীতে থাকেন। ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ছুটে এসেছেন। হাসপাতালে কান্নারত শারমিন জানান, রাব্বি গ্রামের বাড়িতে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ত। অভাবের কারণে কয়েক দিন পূর্বে এক বন্ধুর সঙ্গে ঢাকার কেরানীগঞ্জে চলে আসে। সেখানে একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিকের কাজ নেয়। রাতে ওই প্রতিষ্ঠানের কারখানায় ঘুমাত।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।