২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মায়ার মন্ত্রিত্ব ও এমপি পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটের বিভক্ত আদেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটে দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পল্টন থানায় দায়ের করা গাড়ি পোড়ানোর তিন মামলায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপীল বিভাগ। আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) শুনানির এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানি আগামী বুধবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ চেয়ে করা আপীলের শুনানির জন্য ২০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। সোমবার আপীল বিভাগে ও হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন।

মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সংসদ সদস্য পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটে দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী কোন্ ক্ষমতাবলে মায়া মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত আছেন তা জানতে চেয়ে দুই সপ্তাহের রুল জারি করেছেন এবং অপর বিচারপতি আশরাফুল কামাল এই রিট আদেনটি খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি তার আদেশে বলেছেণ্ড নির্বাচন কমিশন ও সংসদের স্পীকার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন।

নিয়মানুযায়ী এ রিট আবেদনটি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। প্রধান বিচারপতি এটি শুনানির জন্য তৃতীয় বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। সেই বেঞ্চে সিদ্ধান্ত হবে মায়ার মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না। আদালতে আবেদনের পক্ষে রিটকারী এ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ নিজে শুনানি করেন। মায়ার পক্ষে শুনানি করেন এ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার ও এ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা।

রিজভী ও পাপিয়ার জামিন বহাল ॥

পল্টন থানায় দায়ের করা গাড়ি পোড়ানোর তিন মামলায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপীল বিভাগ। বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপীল বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন।

এ সময় আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন সুপ্রীমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও এ্যাডভোকেট সগির হোসেন লিয়ন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত এ্যাটর্র্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

লতিফ সিদ্দিকীর রিটের শুনানি ১৯ আগস্ট ॥ আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) শুনানির এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানি আগামী বুধবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। বিচারপতি এসএম এমদাদুল হক ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনটির শুনানি শেষে এই দিন ধার্য করেন।

রিট আবেদনে নির্বাচন কমিশন, আইন সচিব, জাতীয় সংসদের স্পীকার ও নির্বাচন কমিশনের উপসচিবকে (আইন) বিবাদী করা হয়েছে। লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে রিট আবেদনটি রবিবার বিকেলে হাইকোর্টের শাখায় দাখিল করেছেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। এর আগে ওই বেঞ্চ থেকে রিট আবেদনটি দায়েরের অনুমতি নেন তিনি। রিট আবেদনের শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী অংশ নেন।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, পার্লামেন্ট মেম্বার্স (ডিটারমিনেশন অব ডিসপুটস) এ্যাক্ট ১৯৮০-তে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে, সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ে কোন বিবাদ এলে নির্বাচন কমিশন তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তিনি দুটি বিষয় তুলে ধরে বলেন, এর একটি হচ্ছে সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের যোগ্যতা, অযোগ্যতার বিষয় এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যদি আমি কোন রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ করি অথবা আমি যদি নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিয়ে থাকি। কিন্তু এর কোনটিই আমি করিনি। আবার ৬৬(২) অনুচ্ছেদের মধ্যেও আমি পড়ি না। তাই আমার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে শুনানির এখতিয়ারও নির্বাচন কমিশনের নেই। তাই আমরা রিট করেছি।

ঢাবিতে ভর্তি আপীলের শুনানি ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ চেয়ে করা আপীলের শুনানির জন্য ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপীল বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এর আগে গত ৬ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানির জন্য রবিবার দিন ধার্য করা ছিল। কিন্তু আবেদনকারীর পক্ষ থেকে নিয়মিত আপীল আবেদন করতে না পারায় ২০ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করা হয়।