২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নতুন শুল্ক আইন আগামী অধিবেশনে সংসদে উঠছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ নতুন শুল্ক আইন সংসদে পাস করার জন্য আগামী অধিবেশনে উঠতে যাচ্ছে। আর আইনটি আগামী বছরের জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইনের সঙ্গে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে নতুন শুল্ক আইন এবং সর্বোচ্চ প্রায়োগিক চর্চা বিষয়ক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান এ তথ্য জানান। এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আগামী ১ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশন বসতে যাচ্ছে।

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বরে ‘কাস্টমস আইন-২০১৫’ এর খসড়া মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন দিয়েছে। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে শেষ সময়ের পরামর্শ ও আলাপ-আলোচনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) যৌথভাবে চার দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে কাস্টমের মাঠপর্যায়ের ২৬ জন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বণিক সমিতির প্রতিনিধিসহ মোট ৪০ জন অংশ নেন। কর্মশালা শেষে একটা কৌশলপত্র তৈরি করা হবে। যার আলোকেই ‘কাস্টমস আইন-২০১৫’ চূড়ান্ত করা হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওতানাবে ও বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি।

এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটি সংশোধিত কিয়োটো কনভেনশন ও ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউসিও) কাঠামো অনুযায়ী হচ্ছে। ফলে এটি ব্যবসাবান্ধব হবে। নতুন আইনে বেশকিছু আমদানি-রফতানিতে অটোমেশনসহ বেশকিছু উদ্যোগ থাকায় ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ১৯৬৯ সালের আইন দিয়ে এখনও কাস্টমস চলছে। এই আইনে অনেক সংশয় রয়েছে। তাই এ আইন সংশোধন করে ‘কাস্টমস আইন-২০১৫’ হচ্ছে। যাতে কোন ধরনের সংশয় থাকবে না। এছাড়া নতুন এ আইন হবে তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর। যা ব্যবসাবান্ধব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনে আমদানি-রফতানিতে বিল অব এন্ট্রি দাখিলের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক ডিক্লারেশন ও অটোমেশনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আমদানি-রফতানির কিছু প্রক্রিয়ায় শুল্ক ও কর প্রদান ছাড়াই কেবলমাত্র ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকছে। আমদানিকারকদের পণ্য পরীক্ষা ও খালাসের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মান অনুসরণ করা হবে। এনবিআরের শুল্ক সংক্রান্ত যে কোন প্রজ্ঞাপন (এসআরও), আদেশ বা বিধি গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এ সব প্রজ্ঞাপন বা আদেশ বাধ্যতামূলকভাবে প্রকাশ করাসহ বেশকিছু উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। কর্মকর্তাদের অবাধ ক্ষমতাও সীমিত করা হচ্ছে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া