২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভিসা জটিলতায় অনেক হজযাত্রীর দুর্ভোগ সীমাহীন

  • আশকোনা ক্যাম্পে অলস সময় কাটাচ্ছেন

আজাদ সোলায়মান ॥ ঢাকার সৌদি দূতাবাসের তথ্য প্রযুক্তিগত জটিলতায় ফ্লাইট সিডিউল মতো প্রয়োজনীয় ভিসা পাচ্ছেন না হজ যাত্রীরা। হজ ফ্লাইট শুরুর সপ্তাহখানেক আগে থেকেই ভিসা প্রদানের কাজ শুরু করলেও অনেক হজযাত্রী নির্ধারিত সময়ে ভিসা না পাওয়ায় সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তারা এখন আশকোনা হজ ক্যাম্পে ভিসার অপেক্ষায় অলস সময় কাটাচ্ছেন।

সোমবার আশকোনায় হজ-ক্যাম্পে সরেজমিন পরিদর্শনে এমন চিত্রই চোখে পড়ে। পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট ধরার জন্য বাড়ি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়ে এসে জানতে পারেন তাদের ভিসা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের হজ ক্যাম্পে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এ রকম বেশ ক’জনকে হজ ক্যাম্পের মেঝেতে শুয়ে-বসে সময় পার করতে দেখা যায়।

সূত্র জানায়, হজ পালনে সৌদি আরব গমনেচ্ছু সরকারী ব্যবস্থাপনার ৫৫০ যাত্রী এবং বেসরকারী ব্যবস্থাপনার ২২১ যাত্রী এ ভিসা জটিলতায় পড়েছেন। অবশ্য মঙ্গলবারের মধ্যেই তাদের ভিসার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন হজ অফিসার ডক্টর আবু সালেহ মোস্তফা কামাল।

অন্যদিকে যাত্রীরা জানান, সরকারী ব্যবস্থাপনায় বেশ কজন যাত্রীর ১৬ আগস্ট একটি ফ্লাইটে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। সোমবার সকালের ফ্লাইটেই তার রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভিসা না হওয়ায় তাদের ফ্লাইট শিডিউল পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে পরিবর্তিত সূচী এখনও জানানো হয়নি। আবার অনেকেরই সোমবার মধ্যরাতে ফ্লাইট ছাড়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এখনও ভিসা না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট ছাড়বে কি না সে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

এ সম্পর্কে বেশ কজন যাত্রী সোমবার অভিযোগ করেন, সরকারী ব্যবস্থাপনার কিছু যাত্রীর রবিবার জেদ্দা যাওয়ার কথা ছিল। ভিসা পাননি বলে তাদের ফ্লাইটের শিডিউল পরিবর্তন করা হয়েছে। সোমবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০১৩ ফ্লাইটে সৌদিতে রওনা দেয়ার কথা ছিল ৪১৯ যাত্রীর। কিন্তু সরকারী ব্যবস্থাপনার এ যাত্রীদের ভিসা না হওয়ায় তাদের ফ্লাইটের শিডিউলও পরিবর্তন করা হয়েছে।

এদেরই একজন ময়মনসিংহের হজযাত্রী মতিউর রহমান বলেন, ১৭ আগস্ট দিবাগত রাত তিনটা ৩৫ মিনিটে আমাদের ফ্লাইট। সরকারী ব্যবস্থাপনায় এই ফ্লাইটে মোট ৪১৯ যাত্রী হজে যাবেন। কিন্তু এখনও আমরা ভিসা পাইনি। ভিসা না পাওয়ায় ক্যাম্পের আরাম কক্ষে যেতে পারছি না। ক্যাম্পের নিচে মেঝেতে শুয়ে-বসে সময় কাটাতে হচ্ছে। ভিসা কবে পাব আর কবে যাব, তা এখনও জানি না। বাইরেও কোন আবাসিক হোটেলে উঠতে পারছি না, কারণ আমাদের পাসপোর্ট জমা দেয়া। আর পাসপোর্ট ছাড়া কোন হোটেলও কক্ষ ভাড়া দিচ্ছে না।

মতিউর রহমানের মতো ক্যাম্পের ভেতরে অনেক যাত্রী তাদের ব্যাগ নিয়ে ভিসার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের কেউ ক্যাম্পের মেঝেতে বসেই দিন-রাত যাপন করছেন, কেউ বসে থাকতে না পেরে গামছা ও কাপড় বিছিয়ে শুয়ে পড়েছেন। অনেককেই দেখা যায় পায়চারি করতে। তারা বার বার হজ অফিসারের কাছে গিয়ে জানতে চান কবে তাদের ভিসা হবে। তাদের আশ্বস্ত করা হয়, আজকালের মধ্যে এ জটিলতার নিরসন হবে।

আছমা নামের এক মহিলা জানান, তার ভিসা হয়েছে। কিন্তু তার মোহরামের ভিসা না হওয়ায় তার ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। এমন অনেকেই নিজস্ব গ্রুপ থেকে ভিসার অভাবে ছিটকে পড়েন। ফলে একজনের জন্য পুরো টিমের ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। এ সঙ্কটের দরুন বিমানের এক ফ্লাইটের আসন পূর্ণ করার জন্য পরবর্তী ফ্লাই্ট থেকে যাত্রী নিতে হচ্ছে।

হামিদ নামে একটি বেসরকারী এজেন্ট জানান, গত পরশু তিনি ৭৬টি পাসপোর্ট সৌদি দূতাবাসে জমা দিয়েছেন। কিন্তু তার ভিসা হয়েছে মাত্র ৫৯টি। বাকিগুলো হয়নি। এজন্য সবারই ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

এ জন্য দায়ী কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সৌদি দূতাবাসের সার্ভারের প্রবলেম। এজন্য সব পাসপোর্টের ভিসা হয়নি।

এ বিষয়ে বেসরকারী এজেন্সি কিবলা ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলসের স্বত্ব¡াধিকারী মোহাম্মদ কেফায়াত উল্লাহ বলেন, আমার এজেন্সির মাধ্যমে ২২১ যাত্রী পবিত্র হজ পালনের জন্য যাবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত যাত্রীদের ভিসা হাতে পাওয়া যায়নি। এ জন্য দায়ী যাত্রীদের আবেদনপত্রে ছবি সংক্রান্ত জটিলতা। আমার এজেন্সির মাধ্যমে যারা যাবে, তাদের ফ্লাইট ২৬-২৭ আগস্ট হবে।

এক কর্মকর্তা বলেন, হজযাত্রীদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আশা করছি বিকেলের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সরকারীভাবে যেসব হজযাত্রীর ফ্লাইট শিডিউল পরিবর্তন হয়েছে, তাদের ভাবনার কিছু নেই। তাদের যাওয়ার সব ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে।

হজ-ক্যাম্পের তথ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ কবির আল মামুন জনকণ্ঠকে বলেন, পবিত্র হজ পালনে সরকারীভাবে যেসব যাত্রী যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ শ’ যাত্রী ভিসা জটিলতায় পড়ে আছেন। আশা করছি বিকেলের মধ্যে এগুলো ঠিক হয়ে যাবে।

হজযাত্রীরা কী কারণে ভিসা জটিলতায় পড়েছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছবি সংক্রান্ত জটিলতায় ভিসা পেতে দেরি হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার সৌদি দূতাবাসে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তিগত কারিগরি সহায়তা দেয়ার জন্য হজ ক্যাম্প একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ সঙ্কটের সুরাহা হয়ে যাবে।

হজ অফিস সূত্র জানায়, সৌদি দূতাবাসের তথ্য প্রযুক্তি শাখায় হজ যাত্রীদের ভিসা প্রিন্ট দিলে সেখানে আবেদনকারীর ছবির ক্ষেত্রে ব্ল্যাংক দেখাচ্ছে, তাই ভিসা পেতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। ছবির প্রয়োজনীয় সাইজ দেয়া হলেও প্রিন্টারে সেটা ধারণ করছে না। মূলত নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সৌদির ই-হজের ওয়েবসাইটে ছবি আপলোডের জটিলতায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। ছবি বড়-ছোট করার কাজের দায়িত্ব সৌদি দূতাবাসের। তারা যদি এ সম্পর্কে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিত তাহলে এ সঙ্কট দেখা দিত না।

এদিকে সর্বশেষ পাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়-মঙ্গলবার পর্যন্ত সৌদি দূতাবাস থেকে বিশ হাজারেরও বেশি ভিসা দেয়া হয়েছে। আর সরকারী-বেসরকারীভাবে হজ পালনে ইতোমধ্যে ২৬শ’ যাত্রী জেদ্দায় পৌঁছেছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম থেকেও মঙ্গলবার শুরু হয়েছে হজফ্লাইট। রাত নয়টায় ৪১৯ জন বিমানের বোয়িং ট্রিপল সেভেন নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন ওই ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ও বিমানের সাবেক এমডি শেখ নাসির উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, হজ যাত্রীদের ইন ফ্লাইট সেবা নিশ্চিত করার জন্য কর্তব্যরত সবাই আন্তরিক থাকবে।