২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে শ্রেণীবিভেদ থাকবে না ॥ মুহিত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আর শ্রেণীবিভেদ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এজন্য জাতীয় বেতন স্কেল থেকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী বিলুপ্ত করে ১ থেকে ২০টি গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে অর্থ বিভাগ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের ব্যানারে কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি লেখা দেখে তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুহিত বলেন, মহানায়ক হতে গেলে জন্মগত কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। সেগুলা তাঁর মধ্যে ছিল। তিনি হাজার বছরের নয়, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শেখ মুজিবই বাঙালীদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু বাঙালী আছে। যদি তাদের কাছে জিজ্ঞেস করা হয়, তোমাদের স্বকীয়তা দেখতে কোথায় যাব, তাহলে বলা হয় বাংলাদেশের নাম। তিনি বলেন, ৬৪ জেলায় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। সংগঠনের সভাপতি মোতালিব ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম প্রমুখ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জেলা সরকারে বিশ্বাসী ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি আমাকে দুটি বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এর একটি হচ্ছে, দেশে তখন যে ৬০টি সাব-ডিভিশন ছিল সেগুলোকে কীভাবে জেলায় উন্নীত করা যায়, এর জন্য কত ব্যয় হবে, প্রশাসনিক দায়িত্ব কীভাবে বণ্টন করতে হবে। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, গঠিতব্য ৬০টি জেলা যাতে নিজস্ব শক্তিতে চলতে পারে এবং একই সঙ্গে ৬০টি অংশ যেন একটি রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করতে পারে সেই সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে বলেছিলেন। তিনি বলেন, এখন আমরা যদি প্রতি জেলায় স্বায়ত্তশাসিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ে ঘটনার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বললেই বাংলাদেশ ও স্বাধীনতার কথা মনে হয়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতিতে নিজস্ব স্বকীয়তা ও পরিচয় দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু বললেই সামাজিক সমতার বিষয়টি চলে আসে। এ বিষয়গুলোর সঙ্গে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন তিনি। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অসাম্প্রদায়িক ছিলেন।