২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিরোপা স্বপ্নে বিভোর

শিরোপা স্বপ্নে বিভোর
  • সবুজ জমিনে লাল সূর্য আঁকা পতাকার বাংলাদেশ;###;সিলেটে বাংলাদেশ-ভারত জমজমাট ফাইনাল আজ

রুমেল খান ॥ এক দল এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিততে মরিয়া। আরেক দল তিন আসরে অংশ নিয়ে এই প্রথম ফাইনালে উঠে প্রথমবারের মতো শিরোপাজয়ের স্বপ্নে বিভোর। জিতবে কোন দল? তারই জবাব পেতে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ রাখতে হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায়। সাফ অনুর্ধ ১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে জমজমাট ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ বনাম ভারত।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। একে স্মরণীয় করে রাখার উপায় একটাইÑ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তাহলেই গড়া হবে নয়া ইতিহাস। অপরদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতও চায় শিরোপাটা নিজেদের কাছেই রাখতে। ফলে দুই দলের মধ্যে ফাইনাল-দ্বৈরথটি উপভোগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সিলেটের ফুটবলপাগল দর্শক এবং সেই সঙ্গে গোটা দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

মুখোমুখি পরিসংখ্যানে দু’দলই আছে সমান অবস্থানে। দুটি ম্যাচে প্রত্যেক দলই জিতেছে একটি করে ম্যাচ। ২০১৩ সালে নেপালের কাঠমান্ডুর আর্মি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আসরে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে চলমান আসরে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে বাংলাদেশ। মজার বিষয়Ñ ‘এ’ গ্রুপের দুটি দলই এখন খেলতে যাচ্ছে ফাইনালে। যেখানে বাংলাদেশকে হারিয়ে ভারতেরও বদলা নেয়ার সুযোগ থাকছে।

নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত বাংলাদেশের ছেলেরা। প্রত্যাশার চাপটা তাই একটু বেশিই। তবুও নিজেদের মাটিতে জয় ছিনিয়ে নিয়েই টুর্নামেন্টকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ দলের কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী বলেন, ফাইনালের জন্য প্রস্তুত আছে তার শিষ্যরা, ‘বৃষ্টির কারণে মাঠ অনেক ভারি। মাঠের পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে কে কতটা ভাল করবে তার ওপর নির্ভর করছে ম্যাচের ফল। ফাইনালে ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’ অধিনায়ক শাওন হোসেনও জানালেন প্রস্তুত আছে তার দল, ‘সিলেটের দর্শকদের অনেক ধন্যবাদ। তাদের সমর্থন আমাদের মাঠে ভাল খেলতে উৎসাহ জুগিয়েছে। ভারতের সঙ্গে লড়াই করতে আমরা তৈরি।’ চাপটা অবশ্য ভারতের জন্যও সমান। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রতি ম্যাচেই নেমেছিল দর্শকের ঢল। স্বাগতিকদের এত সমর্থক ফাইনাল ম্যাচে চাপের কারণ হতে পারে ভারতের জন্য, এমনটাই ভাবছেন ভারত দলের কোচ বিথান সিং, ‘প্রতি ম্যাচেই দেখেছি এখানে প্রচুর দর্শক হয়। বাংলাদেশের এত সমর্থক আমাদের জন্য একটা বাড়তি চাপ। তারপরও বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়তে আমার ছেলেরা প্রস্তুত আছে।’

এই টুর্নামেন্টটি এবারই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে। নিজেদের মাটিতে ভাল করার লক্ষ্যে ট্যালেন্ট হান্ট করে গড়া বাংলাদেশ দলটি যে ভাল কিছু করতে পারবে এমনটা আগেই প্রত্যাশা করেছিলেন বাদল রায়, হাসানুজ্জামান খান বাবলুর মতো বাংলাদেশের সাবেক তারকা ফুটবলাররা। এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ হারায় শ্রীলঙ্কাকে ৪-০ এবং ভারতকে ২-১ গোলে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়। সেমিতে আফগানিস্তানকে হারায় ১-০ গোলে। আর সেমিতে ভারত ১-০ গোলে হারায় নেপালকে। আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে জিলানীর কিশোর শিষ্যদের। এখন ফাইনালেরর প্রতিপক্ষ ভারতকে বধ করতে পারলেই জেতা যাবে স্বপ্নের ট্রফি। গ্রুপ পর্বে এবার ভারতকে হারানোর স্মৃতি নিঃসন্দেহে দারুণভাবে ‘টনিক’ হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশের জন্য। তাছাড়া নিজেদের চেনা পরিবেশ, আবহাওয়া, মাঠ ও পরিপূর্ণ দর্শক সমর্থনও বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাবে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। বাংলাদেশ দলের কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। সেই সঙ্গে সিলেটের দর্শকদের অনুরোধ জানিয়েছেন আগের মতোই মাঠে এসে বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে। উল্লেখ, এই টুর্নামেন্টের নিয়ম হচ্ছে গ্রুপ পর্বের খেলা শেষে সরাসরি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। কোন কোয়ার্টার ফাইনালেরর ম্যাচ হবে না।

২০১১ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এ টুর্নামেন্টের প্রথম আসর। সে আসরে ৬ দলের মধ্যে চতুর্থ হয়েছিল বাংলাদেশ। পরের আসরেও স্বাগতিক ছিল নেপাল। সেবার সাত দলের মধ্যে তৃতীয় হয়েছিল বাংলাদেশের কিশোররা। এখন দেখার বিষয়, এবারের আসরে প্রথমবারের মতো কাক্সিক্ষত ফাইনালে ওঠা স্বাগতিক বাংলাদেশ দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হতে পারে কি না।