২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চ্যাম্পিয়ন চেলসিকে লজ্জা দিল ম্যানসিটি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কোচ জোশে মরিনহো এবার নিজেই আটকা পড়েছেন নিজের ফাঁদে। অন্যকে নিয়ে সবসময় সমালোচনায় মেতে থাকা তারকা এই কোচ ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলে টানা দুই ম্যাচে জয়ের দেখা পাননি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে সোয়ানসি সিটির সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে মরিনহোর চেলসি।

রবিবার রাতে দ্বিতীয় ম্যাচে ডুবতে হয়েছে আরও বড় লজ্জায়। এবার ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সিটির জয়ে গোলগুলো করেন আর্জেন্টাইন তারকা সার্জিও এ্যাগুয়েরো, অধিনায়ক বেলজিয়ান ডিফেন্ডার ভিনসেন্ট কোম্পানি ও ম্যাচসেরা ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফার্নান্ডিনহো।

সিটির মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন চেলসিকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেন ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে বলার মতো তেমন কিছুই করতে পারেননি মরিনহোর ছেলেরা। এই ম্যাচের আগে পর্তুগীজ লৌহমানব আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের সমালোচনায় মেতে ওঠেন। কিন্তু ম্যাচ শেষে তাকেই মাথা নিচু করে ডাগআউট ছাড়তে হয়েছে। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ম্যানসিটি। সমান ম্যাচে এক ড্র ও এক হারে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমান শিরোপাধারী চেলসির অবস্থান ১৬ নম্বরে। নিজেদের প্রথম ম্যাচেও একই ব্যবধানে ওয়েস্টব্রুমউইচকে হারিয়েছিল সিটি।

ঘরের মাঠে শুরু থেকেই অতিথি চেলসির উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে স্বাগতিক ম্যানসিটি। প্রথম ৩০ সেকেন্ডেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু এ্যাগুয়েরোর ডান পায়ের জোরালো শট অতিথি গোলরক্ষক রুখে দেয়ার পর ফিরতি বলে জেসুস নাভাসের কোনাকুনি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের ১৬ মিনিটে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার এ্যাগুয়েরোর দ্রুতগতির শট গোলরক্ষক আসমির বেগোভিচ ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করলে আরেকবার গোলবঞ্চিত হতে হয় সিটিকে। ২১ মিনিটে আরেকটি সুযোগ হারান এ্যাগুয়েরো। তবে এবারের দায়টা তার নিজেরই। খুব কাছ থেকে বলে ঠিকমতো পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন তিনি। আর্জেন্টাইন তারকাকে অবশ্য বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারেনি চেলসির রক্ষণভাগ। ৩১ মিনিটে ডেভিড সিলভার পাস পেয়ে ডি বক্সের মধ্যে চার জনকে ফাঁকি দিয়ে বাঁ পায়ের শটে বল জালে জড়ান গত আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

বিরতির পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সিটি। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে পাল্টা আক্রমণে উঠতে থাকে চেলসিও। লড়াইও বেশ জমে ওঠে। ম্যাচের ৭০ মিনিটে চেলসি প্রথমবারের মতো সিটির দুর্গ কাঁপাতে সক্ষম হয়। এ সময় ডি বক্সের মধ্যে ইডেন হ্যাজার্ড ব্লুজদের সমতায় ফেরানোর মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করেন। এরপরই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে মরিনহোর দল। ৭৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সিটি। এবারও স্প্যানিশ খেলোয়াড় ডেভিড সিলভার কর্নারে হেড করে গোলটি করেন অধিনায়ক কোম্পানি। ম্যাচ শেষের ছয় মিনিট আগে চেলসির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ফার্নান্ডিনহো। চেলসির রক্ষণের ভুলে ডি বক্সের সামনে বল পেয়ে যান সিটির সিলভা। তার পা ঘুরে বল পেয়ে ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দারুণ কোনাকুনি শটে গোল করেন উঠতি এই মিডফিল্ডার।

ম্যাচ শেষে ম্যানসিটি কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি বলেন, চেলসির বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন। তারা অত্যন্ত শক্তিশালী দল। বিশেষ করে তাদের কাউন্টার এ্যাটাক ভয়ঙ্কর। এরপর তিনি বলেন, কিন্তু এই ম্যাচটি ছিল অন্যরকম। আমার ছেলেরা কমপ্লিট ফুটবল খেলেছে। আমরা তিন গোলের বেশি পেতে পারতাম। প্রথমার্ধেই তিন গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। এটি ছিল অসাধারণ দলগত পারফর্মেন্স। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে চেলসি কোচ জোশে মরিনহো বলেন, আমরা দ্বিতীয়ার্ধে সেরা দল ছিলাম। কিন্তু সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারিনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় পেয়েছে সিটি।

এই ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মরিনহোকে সিটি কোচ মানুয়েল পেলেগ্রিনির চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করে সাংবাদিকরা। গত মৌসুমের ব্যর্থতার পরও সিটি কোচের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোয় বিস্মিত হয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জববে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ বলেন, ‘কেন? কিছু ক্লাব ১৫ বছর ধরে হতাশ, কিন্তু কোচ তো সেই একই। এই কথা বলে তিনি খোঁচা দেন আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারকে। ওয়েঙ্গারের অধীনে আর্সেনাল সর্বশেষ প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা জিতেছে সেই ২০০৩-০৪ মৌসুমে। কিন্তু ফ্রান্সের এই কোচ ইংল্যান্ডের ক্লাবটির দায়িত্বে আছেন ১৯৯৬ সাল থেকে।