২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ত্বরান্বিত হচ্ছে মোহাম্মদ আমিরের প্রত্যাবর্তন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের আরও কাছে বহুল আলোচিত পাকিস্তানী পেসার মোহাম্মদ আমির। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়েন তরুণ এই ক্রিকেটার। বিষয়টি তখন ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে। লন্ডনে জেল-জরিমানার পর ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি কর্তৃক পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন আমির। এ বছরই শেষ হতে যাচ্ছে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ। ইতোমধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অনুমতি মিলেছে। খোদ পাকিস্তান বোর্ড (পিসিবি) কর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য ডন’ জানিয়েছে, শীঘ্রই জাতীয় দলের দরজা খুলতে যাচ্ছে আমিরের।

‘আইসিসির নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর খুব দ্রুতই জাতীয় দলে ফিরবেন আমির। পাকিস্তান এখন ভাল মানের পেসারের অভাবে ভুগছে। আমিরের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে বোলিং বিভাগ আরও শক্তিশলী করবে।’ ডনকে বলেন পিসিবির এক দায়িত্বশীল কর্তা। ২৩ বছর বয়সী আমির নিজেও ফিরতে মরিয়া। বছরের শুরুর দিকে স্থানীয় এক কর্পোরেট টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। পিসিবি তখন বলেছিল, ফেরার আগে অবশ্যই ঘরোয়া ক্রিকেটে তাকে ফর্ম ও ফিটনেস ফিরে পেতে হবে। শীঘ্রই সেই সুযোগটাও এসে গেছে। আসন্ন ঘরোয়া ন্যাশনাল টি২০ কাপ টুর্নামেন্টে আমিরের পারফর্মেন্স পর্যবেক্ষণ করবে পিসিবি। রাওয়ালপিন্ডি রামসের হয়ে খেলবেন বাঁহাতি এই পেসার। রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামেই ৮ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠবে ওই টুর্নামেন্টের।

আগামী মাসে আমিরের পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে। লন্ডনপ্রবাসী আইনজীবীকে বিয়ে করে ব্যক্তিগত জীবনে নিজেকে অনেক গুছিয়ে এনেছেন। অতীত ভুলের জন্য পাকিস্তানের জনগনের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছেন। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনে দারুণ চমক দেখিয়েছিলেন। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফয়সালাবাদের এক সুপার এইট টি২০ লীগে রাওয়ালপিন্ডির হয়ে ফেরার পর নিজের প্রথম ম্যাচে প্রথম বলেই পেয়েছিলেন উইকেট! ২.১ ওভারে ১৫ রান দিয়ে শিকার ২। সেদিন তার দল পেয়েছিল ৬ উইকেটের বড় জয়। তার আগে খেলেছেন নন-ফাস্ট ক্লাস প্যাট্রনস ট্রফিতে। যেখানে চার ম্যাচে শিকার করেছেন ২২ উইকেট। তখনই হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে পরে মাঠে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। এখন পুরোপুরি সুস্থ। ন্যাশনাল টি২০ কাপ টুর্নামেন্টে তাই আমিরকে ফেরার দ্বার উন্মুক্ত করে দিতে পারে। বর্তমানে পাকিস্তান জাতীয় দলের পেস বোলিংয়ের অবস্থা মোটেই ভাল নয়। ইনজুরিতে প্রধান দুই ভরসা জুনায়েদ খান ও ওয়াহাব রিয়াজ। যা আমিরের পথ সুগম করে দিতে পারে। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্টে আলোচিত স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়েন তৎকালীন অধিনায়ক সালমান বাট, পেসার আমির ও মোহাম্মদ আসিফ। জেল খাটার পাশাপাশি বিভিন্ন মেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন তিনজন। বয়স কম হওয়ায় কিশোর সংশোধন কেন্দ্র থেকে অল্পতে ছাড়া পান আমির। ২০০৯-১০ দুই বছরে পাকিস্তানের হয়ে ১৪ টেস্ট ও ১৫ ওয়ানডে খেলে যথাক্রমে ৫১ ও ২৫টি করে উইকেট নেন দারুণ প্রতিভাবান আমির। আগমনেই বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। বোলিংয়ের পাশাপশি ভাল ব্যাটিংয়ে আমিরের মাঝে অনেকে গ্রেট ওয়াসিম আকরামের ছায়া দেখতেন।