২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লাখ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি

  • রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আতঙ্কে শীর্ষ কর্মকর্তারা ॥ তদন্ত চলছে

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষকদের নামে ভুয়া বিল তৈরি করে একের পর এক চেক জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর শঙ্কায় রয়েছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। বোর্ডের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে উপ-পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা বোর্ডের একটি তদন্ত টিম চেক জালয়াতির বিষয়টি তদন্ত করছেন। এতে ফেঁসে যেতে পারেন শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান ও সাবেক সচিবসহ হিসাব শাখার কর্মকর্তারাও।

দুর্নীতি দমন কমিশনের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক খায়রুল হুদা সাংবাদিকদের জানান, কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে উপ-পরিচালক কেএম মেজবাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে তিনি অসুস্থ থাকায় এখনও তদন্ত কাজ শুরু করতে পারেননি। শীঘ্রই তিনি তদন্ত শুরু করবেন বলে জানান দুদকের এই কর্মকর্তা।

এদিকে শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত কমিটির সূত্র জানায়, তাদের তদন্তে এ পর্যন্ত জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলনের ৪০টি চেক উদ্ধার করা হয়েছে। যার মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে ২ লাখ ৮৫ হাজার ২৮০ টাকা উত্তোলন করা হয়। গত দেড় বছরে এ অর্থ ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত রবিবার তদন্ত কমিটি ৪৪ হাজার ১৬৬ টাকার একটি চেক উদ্ধার করে। নওগাঁর সাপাহারের ‘চৌধুরী চাঁন মোহাম্মদ মহিলা ডিগ্রী কলেজ’ অধ্যক্ষের নামে গত ১৬ মার্চ চেকটি ইস্যু করা হয়। সোনালী ব্যাংক রাজশাহীর গেটার রোড শাখার শিক্ষা বোর্ডের ০১৬০৯৩৬০০০০৬৮ নম্বর হিসাব থেকে ওই দিন নগদ টাকা উত্তোলন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি চেকে ‘শুধু প্রাপকের হিসাব’ (এ্যাকাউন্ট পে) সিল দেয়া থাকে। কিন্তু জালিয়াতি করা চেকগুলোতে ওই সিলের নিচে ‘নগদ প্রদান’ সিল দিয়ে সেখানে সচিবের স্বাক্ষর রয়েছে।

তবে এভাবে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের কত টাকা খোয়া গেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ৮/৯ বছর থেকে এভাবে চেক জালিয়াতি হচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে বোর্ডের তদন্ত কমিটি। যার অর্থের পরিমাণ বিশ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পরে বলেও তাদের ধারণা।

জানা যায়, কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় শিক্ষা বোর্ডের হিসাব শাখায় দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কর্মরত নজরুল ইসলাম বাদল নিজে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতেন। গত দুই বছরে তিনি ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন বলে তদন্ত কমিটির কাছে জবানবন্দী দিয়েছেন। একই সঙ্গে ৪ লাখ টাকা তিনি ফেরতও দিয়েছেন। এর আগে তিনি কত টাকা উত্তোলন করেছেন এবং এর সঙ্গে কোন কোন কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে সে ব্যাপারে তিনি এখনও কিছু স্বীকার করেননি। তবে লিখিত জবানবন্দীর সঙ্গে সাবেক ও বর্তমান দুই সচিবের যে জাল নমুনা স্বাক্ষর নজরুল ইসলাম দিয়েছেন তার সঙ্গে চেকে দেয়া সচিবের স্বাক্ষরের মিল নেই।

এদিকে গত ১৬ মার্চ ৪৪ হাজার ১৬৬ টাকার ইস্যুকৃত চেকে নগদ প্রদানে নিজের স্বাক্ষরের কথা স্বীকার করে শিক্ষা বোর্ডে সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, নগদ প্রদানের চেক দেয়ারও নিয়ম রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া সব চেকে তার স্বাক্ষর নেয়। তার স্বাক্ষর জাল করে ওইসব চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল হায়াত জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন তিনি। যোগদানের পর কয়েকটি দফতরের মতো হিসাব শাখার কর্মকর্তাদেরও তিনি রদবদল করেছেন। এরপর শিক্ষকদের নামে ভুয়া বিলের মাধ্যমে চেক জালিয়াতির বিষয়টি তার নজরে আসে।

চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি জানার পর গত ১২ মে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে গত ১৯ মে তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে ৩৯টি চেকের মাধ্যমে ২ লাখ ৪১ হাজার ১১৪ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জন্য দোষী করা হয়েছে হিসাব শাখার কর্মচারী নজরুল ইসলাম বাদলকে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম বাদলের বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় একটি জিডি করে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

চেয়ারম্যান আবুল হায়াত আরও বলেন, কতদিন থেকে ও কত টাকা চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাত করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত তা বের করতে ৪ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। সে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।