২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাকৃবির ৯৬ কর্মচারীর নিয়োগ বাতিল

বাকৃবি সংবাদদাতা ॥ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রফিকুল হকের সময় বহুল আলোচিত নিয়োগের ৯৬ জন ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারীর নিয়োগ বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রবিবার তদন্ত সাপেক্ষে ওই সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩১৩ কর্মচারীর মধ্যে ২১৭ কর্মচারীকে নিয়োগের বৈধতা দিয়েছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে উপযুক্ত কাগজপত্র, নিয়োগে অনিয়ম, আবেদন না করেই চাকরিসহ বিভিন্ন অভিযোগের সঙ্গে জড়িত থাকায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় ৯৬ কর্মচারীর নিয়োগ বাতিল করেছে।

জানা যায়, ড. রফিকুল হক উপাচার্যের দায়িত্বে থাকার সময় ২৮৭ কর্মচারী নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ৩১৩ জনকে নিয়োগ দেন। পরে ওই নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা ভঙ্গের এবং ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। এ সময় উপাচার্যের নিয়মনীতিবহির্ভূত ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আবেদন করেন একদল আওয়ামীপন্থী শিক্ষক। শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে তদন্ত করে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানায় ইউজিসি। প্রায় একই সময় নিয়োগবাণিজ্য, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে শিক্ষকদের তীব্র আন্দোলনের মুখে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতনের ব্যবস্থা না করেই ৭ এপ্রিল পদত্যাগ করেতে বাধ্য হন তৎকালীন উপাচার্য ড. মোঃ রফিকুল হক। পরবর্তীতে প্রায় দেড় মাস পরে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোঃ আলী আকবর দায়িত্ব নিলেই ওই নিয়োগপ্রাপ্তরা বেতন-ভাতার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকে। শিক্ষকসহ বিভিন্ন মহলে এবং ইউজিসিতে ওই নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মুঃ আবুল কাসেমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন তিনি। ওই তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা ভঙ্গের এবং ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ৯৬ কর্মচারীর নিয়োগ বাতিল করার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেন বলে জানা যায়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের প্রেক্ষিতে নিয়োগ বাতিল করা হয়। তবে এই বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি ওই তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মুঃ আবুল কাসেম।

কর্মচারীর নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্তে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেক কর্মচারীর ব্যাংক ড্রাফট না থাকা, একই ব্যক্তির ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীতে নিয়োগ হওয়া এবং নানা অনিয়ম পাওয়া ৯৬ জনের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মোঃ আফজাল হোসেন জানান, তদন্তের সাপেক্ষ তাদের বাদ দেয়া হয়েছে।