২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেয়ার কারসাজিতে ২ জনের কারাদণ্ড

  • ট্রাইব্যুনালের ২য় রায়

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিডি ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রোডের শেয়ার কারসাজির ঘটনায় ২ জনের ৩ বছর করে কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা হয়েছে। পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সোমবার বেল ১১টার দিকে এ রায় দিয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বিডি ওয়েল্ডিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এম নুরুল ইসলাম এবং ডেইলি ইন্ডাস্ট্রির সম্পাদক এনায়েত করিম। একইসঙ্গে উভয়কে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সোমবার পুঁজিবাজার মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) হুমায়ুন কবীর এ রায় ঘোষণা করেছেন। এটি ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় রায়।

এর আগে ৩ আগস্ট ফেসবুকে শেয়ার কেনাবেচার আগাম মিথ্যা তথ্য প্রচারকারী মাহাবুব সরোয়ারকে ২ বছর কারাদ- দিয়েছিলেন আদালত। সকাল সাড়ে ১০টায় রায় পড়া শুরু করেন এবং ১১টার দিকে রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে উভয় আসামি উপস্থিত ছিলেন। কারাদ-প্রাপ্ত দুইজনকে প্রথমে ট্রাইব্যুনালের অস্থায়ী কারাগারে রাখা হয়। এ সময় এস এম নুরুল ইসলামকে কারাগারে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তার স্ত্রী। পরে তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রায়ে বিচারক হুমায়ুন কবীর বলেন, আসামিরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে স্বার্থ হাসিলের জন্য পত্রিকায় মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রকাশ করে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ার দর বৃদ্ধিতে কৃত্রিমভাবে প্রভাব ফেলে স্বার্থ হাসিল করে।

রায়ে আরও বলা হয়, সৌদির আল-আওলাদ গ্রুপ বাংলাদেশ ওয়েল্ডিংয়ে বিনিয়োগ করবে বলে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে আসামিরা। আর এই বিনিয়োগ নিয়ে গ্রুপটির সঙ্গে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে বলে উল্লেখ করে। কিন্তু সৌদিতে আল-আওলাদ গ্রুপ নামে কোন কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া আসামিরা যোগসাজশ করে নিজেদের মধ্যে ই-মেইল আদান-প্রদান করে সৌদির আল-আওলাদ গ্রুপের নাম প্রচার করে। রায়ে বলা হয়, ডেইলি ইন্ডাস্ট্রির সম্পাদক ২০০৬ সালে ২০ হাজার ৫০০টি শেয়ার ক্রয় করে প্রায় ৬ টাকা করে। আর মিথ্যা তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে দর বাড়িয়ে তা বিক্রয় করে ৩৩-৩৪ টাকা করে। এছাড়া ওই সময় আরও ১ লাখ ৭২ হাজার শেয়ার ক্রয় করে প্রায় ৬ টাকা করে, যা বিক্রয় করে ৪৬ টাকা করে।

রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আইনজীবী মাসুদ রানা খান ও হাসিবুর রহমান সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। উচ্চ আদালতে আপীল করা হলেও মামলার রায় বহাল থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

হাসিবুর রহমান জানান, সৌদির আল-আওলাদ গ্রুপ বাংলাদেশ ওয়েলডিং কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবে বলে তথ্য প্রকাশ করে আসামিরা। যার ফলে ওই সময় কোম্পানিটির শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ে। কিন্তু তদন্তে জানা যায়, ওই কোম্পানির বিনিয়োগ তো দূরের কথা বরং এ নামে সৌদি আরবের কোন কোম্পানি নাই। নিজেদের মধ্যে মেইল আদান প্রদান করে সৌদি থেকে এসেছে বলে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে।

বিডি ওয়েলডিংয়ের এমডি এস এম নুরুল ইসলামের আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ করার মতো কোন উপাদান ছিল না। ওই সময় এনায়েত করিম শেয়ারের মাধ্যমে মুনাফা করলেও আমার মক্কেল কোন ধরনের মুনাফা করেনি। আমরা উচ্চ আদালতে আপীল করব। সেখানে বেকসুর খালাস পাব বলে আমরা আশা করছি।

উল্লেখ্য, বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ার কারসাজির অভিযোগ তদন্ত করে ২০০৭ সালের ২২ মে এনায়েত করিম ও এস এম নুরুল ইসলাম এবং বিডি ওয়েলডিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।