২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তারুণ্য উপযোগী কর্মক্ষেত্র

  • পান্থ আফজাল

একুশ শতকের এই সময়ে চাই ঝামেলামুক্ত সুন্দর জীবন। জীবনকে সহজ-সুন্দর ও আরামপ্রদ করার প্রয়াসে প্রতিনিয়ত রাত-দিন প্রতিটি মানুষ কাজ করে যায়। অপরপক্ষে, বর্তমান সময়টা হলো নিজেকে এগিয়ে রাখার সময়; নিজেকে যাচাই করার উপযুক্ত সময়। বিশেষ করে যারা সবেমাত্র পড়াশোনা শেষ করে চাকরি ক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন, তাদের প্রতিযোগিতাটা অনেক বেশি। প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই কর্মজীবনে সকল তরুণ-তরুণী চায় উপযুক্ত পেশা ও কাজের ক্ষেত্র। সঠিক ও কর্মবান্ধব স্থানে কাজ করার স্পৃহা যেমন বেড়ে যায়, তেমনি জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোও সহজ হয়ে যায়।

তবে একথা সত্য যে, আজকালের মেধা-মনন সমৃদ্ধ তরুণ প্রজন্ম তাদের কর্মক্ষেত্র পছন্দের ব্যাপারে যেমন স্বকীয়তার পরিচয় দেয়, তেমনি তারা সেই ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম হয়। তরুণরা প্রচলিত পেশার দিকে ঝুঁঁকছে ঠিকই, আবার তারা নানা ধরনের সৃজনশীল ও চ্যালেঞ্জিং পেশাও বেছে নিচ্ছে। অনেকেই সুবিধাজনক পেশা বেছে নিয়ে যেমন চিন্তামুক্ত থাকতে পছন্দ করেন, তেমনি অনেকেই নিজেদের স্বকীয়তা ঠিক রেখে মেধা ও মননের সমন্বয় ঘটিয়ে পেশাজীবন শুরু করতেও ইচ্ছুক। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগের এই অপার সম্ভাবনাময় তরুণরাই তাদের সকল মেধার স্ফুরণ এবং তার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে আগামীতে সুন্দর দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তরুণদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে কিছু দিক নির্দেশনা দেয়া হলোÑ

টেলিসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান : প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে বাড়ছে এর ব্যবহার। বিশেষ করে ইন্টারনেটকে হাতের মুঠোয় এনে দিতে টেলিকমের উন্নতি ও দ্রুত বিস্তার ভূমিকা রাখছে। আর এজন্য এই খাতকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন পড়ছে দক্ষ কর্মীবাহিনীর। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ার হিসেবেও অনেকেই একে বেছে নিচ্ছেন। এ সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়লে একজন কর্মী অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। বেতন ও কাজের পরিবেশও ভাল। আপনি যদি টেলিকমিউনিকেশনে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে আপনাকে কিছু কাজ করতে হবে। এ সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে হলে গ্র্যাজুয়েটসহ নেটওয়ার্কিং, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, কম্পিউটার ও টেলিকমিউনিকেশন জানা থাকলে ভাল। পাশাপাশি এ সেক্টরের জন্য নিজেকে গড়তে হবে স্মার্ট ও রুচিশীলভাবে। হতে হবে দক্ষ ও প্রগতিশীল। থাকতে হবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা। এখানে পুঁথিগত বিদ্যা আর নিজের ব্যক্তিগত দক্ষতার সমন্বয়ে যে কেউ গড়তে পারেন নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যত।

মার্কেটিং সেক্টর : এ পেশাটি খুব চ্যালেঞ্জিং অথচ সম্ভাবনাময়। যারা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য সেলস এ্যান্ড মার্কেটিং সেক্টর উপযুক্ত স্থান। পণ্য বাজারজাত করতে প্রচুর সেলস এ্যান্ড মার্কেটিং কর্মীর প্রয়োজন হচ্ছে। যদিও এক সময় সেলস এ্যান্ড মার্কেটিং একই ডিপার্টমেন্ট ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেলস ও মার্কেটিং আলাদা ডিপার্টমেন্ট হয়েছে। কনজ্যুমার ফুড আইটেম থেকে শুরু করে রড, সিমেন্ট পর্যন্ত বিক্রি হয় সেলস এ্যান্ড মার্কেটিংয়ের সঠিক কর্মতৎপরতার মাধ্যমে। দেশীয় কোম্পানির পাশাপাশি বিদেশী অনেক কোম্পানিও বাংলাদেশে তাদের পণ্য বাজারজাত করছে। ফলে এক্ষেত্রে বাড়ছে কর্মসংস্থান। তাই এসব ডিপার্টমেন্টে প্রচুর দক্ষ লোকবল প্রয়োজন হচ্ছে। এ সেক্টরে চাকরির জন্য সাধারণত বিবিএ, এমবিএ, মার্কেটিং, ফিন্যান্স ও হিসাববিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েট চাওয়া হয়।

ব্যাংকিং সেক্টর : বর্তমানে চাকরির বাজারে ভাল অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকিং সেক্টর। সদ্য শিক্ষাজীবন শেষ করা তরুণ-তরুণীদের পছন্দের প্রথম কাতারে রয়েছে এই পেশা। ব্যাংকিং সেক্টরে প্রাইভেট ব্যাংকগুলো প্রবেশ করায় এই পেশায় কাজের সুযোগ বাড়ছে। প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর সেবার মান সরকারি ব্যাংকের তুলনায় ভাল বলে গ্রাহকসংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে বাড়ছে বেসরকারি ব্যাংকের নতুন শাখা। সেইসঙ্গে সেবার মান উন্নত করতে প্রয়োজন পড়ছে অধিক কর্মীর। আর ভাল জনশক্তি সংগ্রহের জন্য ব্যাংকিং সেক্টরে কাজের ভাল পরিবেশের সঙ্গে রয়েছে ভাল বেতন কাঠামো। রয়েছে চাকরির নিরাপত্তা। আছে পেনশনের ব্যবস্থা। তাই এই পেশার জন্য নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন। ব্যাংকে বিভিন্ন পোস্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন যোগ্যতা চাওয়া হয়। তবে এমবিএ/এমবিএম/পোস্ট গ্র্যাজুয়েট/সিএ ডিগ্রীসহ বিভিন্ন ডিগ্রীধারীরা এখানে প্রাধান্য পেয়ে থাকে।

ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড আর্কিটেক্ট : স্থাপত্যের সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার যুগে যুগে বিভিন্ন স্থাপনাকে করে তুলেছে নান্দনিক শিল্পকর্ম। দিন পাল্টেছে। লেগেছে বদলের ছোঁয়া। দেশে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখান থেকে যে কেউ ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেকচার হিসেবে ভবিষ্যত গড়তে পারেন। আমাদের দেশের তরুণদের এ সেক্টরের প্রতি আগ্রহও বেড়েছে। ভাল বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অন্য সেক্টর থেকে এখানে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন নিশ্চিন্তে। শুধু প্রয়োজন নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও কিছু কারিগরি অভিজ্ঞতা। এ পেশায় রয়েছে অর্থ-বিত্তের পাশাপাশি সম্মান-সমীহ এবং সামাজিক মর্যাদা। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেক্টের ওপর বিভিন্ন কোর্স রয়েছে। এ সেক্টরে চাকরি করতে হলে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ, মাস্টার্সসহ বিভিন্ন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যোগ্যতা চাওয়া হয়।

মেডিকেল সেক্টর : উন্নত বিশ্বের মার্কেটে

বাংলাদেশের ওষুধ নিজের জায়গা করে নিয়েছে। দেশের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ওষুধ শিল্পের বিস্তার ঘটে। তবে বর্তমানে দেশের গার্মেন্ট শিল্পের মতো একটি অন্যতম লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে ওষুধ শিল্প। মেডিকেল এ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরে কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, মাসিক নির্দিষ্ট বেতনের পাশাপাশি টার্গেট পূরণের ওপর অতিরিক্ত টাকা দেয়া হয়। বর্তমানে অনেকেই ডিগ্রী পাস করে এ সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ে তুলছে। কাজের ক্ষেত্র অনেক বড় হওয়ায় এ সেক্টরে চাকরি পেতে তেমন কষ্ট পোহাতে হয় না। সেলসম্যান থেকে শুরু করে রিজিওন্যাল ম্যানেজার পর্যন্ত খুব সহজেই পাড়ি দেয়া যায়। থাকতে হয় অধ্যবসায় ও ইচ্ছা। তবে পরিশ্রমীরা এক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে যায়। কাজের অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকলে এখানে খুব দ্রুত বেতন বেড়ে যায়। তাই নতুন যারা চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন, তাদের জন্য উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার মেডিকেল এ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টর। আর এ সেক্টরে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দেয়া হয় বিশেজ্ঞভাবে। এছাড়া এমএসসি, এমবিএ, এম ফার্ম, বি ফার্ম ইত্যাদি শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়।