২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোমর ব্যথায় করণীয়

  • অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন

কোমরের ব্যথা কম-বেশি সব মানুষের জীবনে কোন না কোন সময় কষ্ট দেয়। সচেতন মানুষ ছাড়া অধিকাংশ রোগীই সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেন না। নির্ভর করেন ভুল চিকিৎসায় যেমন মালিশ, অপরিকল্পিত বিশ্রাম, অপ্রয়োজনীয় কোমরের বেল্ট, অনেক সময় অকারণে কোমরে স্টেরয়েড জাতীয় ইনজেকশনও নিয়ে থাকেন অনেকে। এসবের ফলে ব্যথা তো ভাল হয়ই না, বরং রোগী আগের চেয়ে বেশি ব্যথায় ভোগেন।

আবার যারা সচেতন নাগরিক তারাও অনেক সময় ভুল রেফারেন্সের কারণে অন্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর কাছে যান, এবং দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেন। এতে পাকস্থলী ও অন্ত্রে আরসার, কিডনি ফেইলিওর, লিভার এর সমস্যাসহ নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এক পরিসংখানে দেখা গেছে, প্রতিবছর প্রতি ৩০ জন মানুষের অন্তত একজন কোমর ব্যথায় ভোগে। আবার প্রতি পাঁচজন মানুষের মধ্যে অন্তত একজন জীবনের কোন না কোন সময়ে কোমরের ব্যথায় ভোগে। ৯২ শতাংশ মানুষ দুই মাসের আগেই কোমর ব্যথা থেকে সেরে ওঠে আর ১৪ শতাংশ মানুষ দুই সপ্তাহের আগেই সুস্থ হয়।

কোমর ব্যথার কারণ ॥ পরিসংখ্যান ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা অনুযায়ী ৯৫ শতাংশ কোমর ব্যথারই কোন কারণ থাকে না। বাকি ৫ শতাংশ কোমর ব্যথার নানা রকম কারণ থাকতে পারে। অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে মাংস হাড়ের আঘাত বার্ধক্যজনিত রোগ (যেমন অস্টিওআর্থ্রাইটিস, অস্টিওপরোসিস) বিভিন্ন প্রদাহ, স্পানাল স্টেনোসিস, পিএলআইডি ইত্যাদি। অনেক রকম কোন টিউমার, ক্যান্সার, হাড়ের যক্ষ্মা, কিডনি রোগ ইত্যাদি থেকেও কোমরের ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা ॥ যেহেতু ৯৫ শতাংশ মানুষেরই কোমর ব্যথার কোন কারণ থাকে না, সেহেতু কোমর ব্যথা হলেই প্রথমেই খুব খারাপ কিছু চিন্তা করে সঙ্গে সঙ্গে গ. জ. ও, ঈঞ ঝপধহ ইত্যাদি দামী পরীক্ষা করাটা হঠকারিতা। প্রথমে রোগীর রোগের বর্ণনা শুনে ও ফিজিক্যাল ঊীধসরহধঃরড়হ করে সর্বোচ্চ একটি মেরুদ-ের এক্স-রে করা যেতে পারে। এছাড়া কিছু সহায়ক পরীক্ষা যেমন : ঈইঈ, জইঝ, ঝ-ঈৎবধঃরহরহব খবাবষ করে দেখা যেতে পারে।

প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের যদি সন্দেহ হয় যে এটি সাধারণ কোমর ব্যথা নয়। এর পেছনে অবশ্যই কোন কারণ আছে, শুধু সে ক্ষেত্রেই গ.জ.ও-এর সাহায্য নেয়া যেতে পারে নার্ভ ও স্পাইনাল কর্ড-এর সমস্যা চিহ্নিত করার জন্য।

চিকিৎসা ॥ প্রথম ধাপেই রোগীকে আশ্বস্ত করতে হবে। রোগীকে জানাতে হবে কোন কারণ ছাড়াই কোমরের ব্যথা হতে পারে এবং নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে এবং সঠিক ব্যায়ামের মাধ্যমে তা আপনাআপনি সেরেও যায়। রোগীকে হাল্কা কিছু ব্যথানাশক ও মাসেল রিলাকজোন বা কুসুম গরম সেক দেয়া যেতে পারে অল্প কিছু দিনের জন্য। ব্যথা খুব মারাত্মক হলে অল্প কিছু দিন বিশ্রাম এবং সহায়ক হিসেবে লম্বর ট্রাকশন অথবা লম্বর করসেট/বেল্ট ব্যবহার করতে দেয়া যেতে পারে, তবে কখনই একটানা ২ সপ্তাহের বেশি নয়। সব সময় জোর দিতে হবে নির্দিষ্ট কোমরের মাংসগুলোকে শক্ত-সবল করার ব্যায়ামের প্রতি। সম্ভব হলে প্রতিদিন সাঁতার কাটতে পারলে ফলাফল খুবই ভাল হয়।

এ ছাড়া যদি নির্দিষ্ট কিছু কারণে কোমর ব্যথা হয় তবে সেই কারণটির চিকিৎসা করতে হবে। যেমন ডিস্ক প্রলাপ্স যদি মারাত্মক হয়ে স্পাইরাল স্টেনোসিস করে এবং নার্ভকে ইনভল্ব করে তবেই অপারেশনে যেতে হবে।

অনেক সময় কোন কোন ক্ষেত্রে কোমরে স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করে ব্যথা কমানো যেতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে যে কাউকে দিয়ে এই ইনজেকশন দেয়ালে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ছাড়া স্টেরয়েড ইনজেকশনের ক্ষতিকর দিক হচ্ছে এটি মেরুদ-ের হাড়ের অস্টিওপোরেটিক পরিবর্তন করে হাড়কে ভঙ্গুর করে দেয়। তাই যেখানে সেখানে চিকিৎসা না করে একজন নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সর্বশেষ কোমর ব্যথায় দুঃশ্চিন্তা করবেন না। এলোমেলো ওষুধ বা বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে না ঘুরে নিয়মিত ব্যায়াম করুন, ওজনের দিকে খেয়াল রাখুন, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস করুন তাতে নিজের শরীর ভাল থাকবে, সুস্থ থাকবে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা বা পরামর্শ নিয়ে সুস্থ থাকুন।

চিফ কনসালটেন্ট, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ, ল্যাবএইড হাসপাতাল

নির্বাচিত সংবাদ