১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমদানি বিকল্প ফসল চাষে ঋণ বিতরণ কমছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আমদানি বিকল্প ফসল চাষে রেয়াতি সুদহারে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি ব্যাংকগুলো। বিদায়ী (২০১৪-১৫) অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মসলা চাষে রেয়াতি সুদহারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৮২ দশমিক ২৪ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। এ সময়ে ব্যাংকগুলো মোট ৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ৯৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছর মসলা চাষে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে মাত্র ৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা কম। আগের অর্থবছরে এ খাতে ৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বিতরণ হয়েছিল ৮০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থবছর শেষে রাষ্ট্রীয় ও বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকগুলো একত্রে ঋণ বিতরণ করেছে ৬৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৮৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো থেকে মসলা চাষে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৮৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর বিদেশি ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা। যা তাদের অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ৮০ দশমিক ০৬ শতাংশ। আর নতুন অনুমোদন পাওয়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে মাত্র ৫৯ লাখ টাকা। যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৩২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে মসলা চাষে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এসব পণ্যে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এছাড়া ভুট্টা চাষে ৮ কোটি ৯১ লাখ, তেল বীজে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ও ডাল চাষে ২ কোটি ১২ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রভাষ চন্দ্র মল্লিক বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবেই কৃষকরা এ খাতে খুব বেশি ঋণ নিতে চায়নি। বিগত অর্থবছরগুলোতে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় কৃষকরা এসব পণ্যে খুব কম উৎপাদন করেছেন। ফলে তারা খুব কমই ব্যাংকমুখী হয়েছেন। তাছাড়া, হরতাল আর অবরোধের কারণে গত অর্থবছর ব্যাংকগুলো সময়মতো এ খাতে ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ বিতরণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।