২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘শান্ত থাকার পরিস্থিতি নেই’

অনলাইন ডেস্ক ॥ সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, এসব ঘটনার পর কোনো বিবেকবান মানুষের আর শান্ত হয়ে থাকার সুযোগ নেই।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে মঙ্গলবার তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “অঙ্গ হারানো একজন মানুষকে হাতকড়া দিয়ে নিয়ে যাওয়া, তার ছবি প্রকাশ করা, এতো তড়িঘড়ি করে তাকে রিমান্ডে নেওয়া স্বাভাবিক মনে হয়নি।

“তাকে হাতকড়া পরিয়ে রাতের আঁধারেই ফরিদপুর নিয়ে যেতে হল? এতো এফিশিয়েন্ট হয়ে গেল পুলিশ, ডিবি?”

এসব ঘটনার পর কোনো বিবেকবান মানুষের আর শান্ত হয়ে থাকার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন সরকার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত।

“সাংবাদিক, সাংবাদিকতা একটি প্রতিষ্ঠান। আমি মনে করি একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের এভাবে দাঁড়ানো উচিত নয়।”

রোববার রাতে ডিবি কার্যালয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ফেইসবুকে লিখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সুনাম ক্ষুণ্ণের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দাবি করেছেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্যের জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।

সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়নি। কারও কণ্ঠ রোধ করার জন্য, গণমাধ্যমে কোনো সংবাদ প্রকাশ করার জন্য কিংবা নিজের মতামত প্রকাশ করার কারণে আমরা কাউকে ধরিনি। এক ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও প্রবীর সিকদারকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, “সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। এর আগেও কয়েক বছর আগে তিনি এ ধরনের বিপদে পড়ছিলেন। তখন আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সহায়তার চেষ্টা করেছি।

“এখন তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আমি মনে করি। তিনি যাতে নিশ্চিতভাবে আইনি সুরক্ষা পান, সেজন্য তথ্যমন্ত্রণালয় কাজ করবে।”

সাংবাদিককে গ্রেফতার করা নিয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সরব ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো নিন্দা ও সমালোচনা করলেও এনিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।