২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাল বেতন, মানসম্পন্ন শিক্ষক

বেতন স্কেল নিয়ে শিক্ষক সমাজে ক্রমাগত অসন্তোষ বাড়ছে। প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বস্তরের শিক্ষকদের ভেতরেই রয়েছে অসন্তোষ। বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করার পর কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিক্ষকরা। নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত না করায় আন্দোলনে নেমেছেন বেসরকারী স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা। ন্যায্য সম্মান ও স্বতন্ত্র বেতন স্কেল আদায়ের জন্য ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে যুগপৎ কর্মসূচী চলছে।

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের সঙ্গে বেশকিছু বিষয় যুক্ত। শিক্ষণ ও শিখন পদ্ধতির উন্নয়নের কথা সবার আগে বলতে হবে। শিক্ষার্থীকে শ্রেণীকক্ষে প্রয়োজনীয় ও মানসম্পন্ন পাঠদান সম্ভব হলে কোচিংয়ের মতো সময় ও অর্থনাশকারী প্রক্রিয়ার মধ্যে যাওয়ার যে দরকার পড়ে না তা বলাই বাহুল্য। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর যুগোপযোগী শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোও যে জরুরী সেটাও অনস্বীকার্য। সর্বোপরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। সরকার আগামীতে এ লক্ষ্যে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণীকক্ষের পাঠদান কার্যক্রম, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য সব পাওয়া যাবে ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ফলে সারাদেশের শিক্ষা কার্যক্রম পরিস্থিতি শিক্ষা প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। ইতোমধ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ‘উপযোগী’ ওয়েবসাইট তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। নজরদারি তখনই অর্থপূর্ণ হয়ে উঠবে যখন কার্যকর জবাবদিহির আওতায় চলে আসবে পুরো কর্মতৎপরতা। এসবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ, সন্দেহ নেই। কিন্তু কথা হচ্ছেÑ শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে কতটুকু অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

ভাল শিক্ষাদান করতে পারেন একজন ভালমানের শিক্ষকই। ভালমানের শিক্ষক পাওয়া তখনই সম্ভব যখন একজন মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিকে আমরা শিক্ষকতা পেশায় পাব। আর্থিক বিচারে একজন শিক্ষক স্বাচ্ছন্দ্যভাবে জীবনযাপন করতে না পারলে এই মহান পেশায় তারা কেন আসবেন? বরং তারা চলে যাবেন এমন একটি পেশায় যেখানে ভাল উপার্জনের নিশ্চয়তা রয়েছে। হতে পারে সেটা ব্যাংক, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কিংবা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও কাজে লাগাতে পারেন তারা ব্যবসার মাধ্যমে। বাস্তবতা হলো ভাল বেতন ও মানসম্পন্ন শিক্ষকÑ একের সঙ্গে অন্য বিষয়টি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আমরা যদি ভবিষ্যতের কথা ভাবি, আমরা যদি চাই দেশের ভবিষ্যত কর্ণধাররা সুযোগ্য হয়ে উঠুক, তাহলে তাদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে ভালমানের শিক্ষক সবার আগে আবশ্যক। আমরা মনে করি, সার্বিক বিবেচনায় ভাল শিক্ষক প্রাপ্তি ও শিক্ষকতা পেশায় তাদের ধরে রাখার লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সব কিছুর আগে শিক্ষকদের যুগোপযোগী বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা চাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষক নেতৃবৃন্দ উভয়পক্ষের আলোচনার মধ্য দিয়ে বিদ্যার্জনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।