১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পিপলস লিজিং শেয়ার কারসাজি মামলার শুনানি পিছিয়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার কারসাজি মামলার শুনানি পিছিয়েছে। মামলার বিবাদী সিরাজ উদ দৌলার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুনানি স্থগিত করেছেন বিচারক। মঙ্গলবার এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসির পক্ষের আইনজীবী ছিলেনÑ ড. মোঃ মাহবুব আলম ভূঁইয়া মিলন ও মোঃ রেজাউল করিম রেজা। এছাড়া আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেনÑ বাকী মোঃ মর্তূজা ও মোঃ ইসমাইল হোসেন দিদার।

আসামিপক্ষের আইনজীবী বাকী মোঃ মর্তূজা সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবারে মামলা নং ১৮/১৫-এর দিন ধার্য ছিল। আমরা আসামিপক্ষ থেকে বিজ্ঞ আদালতে দায়েরকৃত ফৌজদারি রিভিশন ৫২২/২০১২-এর আদেশ দাখিলের জন্য সময় চেয়েছি। ওই মামলাটা হাইকোর্টে বিচারপতি সৈয়দ এবিএম মাহমুদুল হক ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল এর কোর্টে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। সেটা শুনানি শেষে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর জন্য আমরা বিজ্ঞ আদালতে সময় আবেদন করেছি। আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ৬ সেপ্টম্বর ১৫ শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

জানা গেছে, সিকিউরিটিজ এ্যান্ড একচেঞ্জ অধ্যাদেশ (অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর ১৭ (ই) (৫) ধারায় অভিযোগ এনে ২০১১ সালের ২১ আগস্ট মামলাটি দায়ের করা হয়। এ মামলাটি দায়ের করেন বিএসইসির পরিচালক শেখ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। ২০১০ সালে করা এ মামলার আসামিরা হলেনÑ বিনিয়োগকারী সৈয়দ সিরাজ উদ দৌলা, তাঁর স্ত্রী রাশেদা আক্তার মায়া ও তার আত্মীয় হাবিবুর রহমান মোড়ল।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ২১ আগস্ট রবিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম এজিএম আল মাসুদ বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ শেষে সমন জারি করেন। ওই বছর ১৭ অক্টোবর আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন। সৈয়দ সিরাজ উদ দৌলা, তাঁর স্ত্রী রাশেদা আক্তার মায়ার ঠিকানা ৩/১৪, ব্লক-জি, লালমাটিয়া, ঢাকা এবং হাবিবুর রহমানের ঠিকানা এসটিএম ডি-৪, গণভবন, শেরে বাংলানগর, ঢাকা।

আদালতে দাখিল করা এসইসির (বিএসইসি) অভিযোগনামায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা ২০১০ সালের ৩০ জুন থেকে ৪ নবেম্বরের মধ্যে সংঘবদ্ধ ও কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কার্যদিবসে সৈয়দ সিরাজ উদ দৌলা পিপলস লিজিংয়ের ২ লাখ ২২ হাজার ৭০০ শেয়ার বিভিন্ন মূল্যে ক্রয় করেন। ওই সময়ে শেয়ারটির দর ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। পরবর্তীতে শেয়ারটির অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় রূপান্তরের পর ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩০০ শেয়ার বিক্রি করেন। আবার ৪ আগস্ট থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত পিপলস লিজিংয়ের ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৩০০ শেয়ার ক্রয় করেন। একই সময়ে ৯ লাখ ১৭ হাজার ২০০ শেয়ার বিক্রি করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সিরাজ উদ দৌলার স্ত্রী রাশেদা আক্তার মায়া ১০ আগস্ট থেকে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পিপলস লিজিংয়ের ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ শেয়ার ক্রয় করেন। একই সময়ে তিনি ৩ লাখ ৩১ হাজার ৯০০ শেয়ার বিক্রি করেন। অপর অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান একই সময়কালে পিপলস লিজিংয়ের ৭৫ হাজার শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করেন। তারা সবাই পিএফআই সিকিউরিটি হাউসের মাধ্যমে শেয়ার ট্রেডিং করতেন।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারি তদন্তে বাংলাদেশ কৃষিব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির বাকি দুই সদস্য ছিলেনÑ বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ আবদুল বারী। তদন্ত কমিটি ২০১১ সালের ৩১ মার্চ সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে এই তিন জনের বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজির অভিযোগ করা হয়। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের এই মামলা নম্বার হলো- ১৮/১৫।