২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাঙ্ককে বোমা হামলা ॥ সন্দেহভাজন শনাক্ত

  • সন্দেহের তীর সরকারবিরোধী রেডশার্টের দিকে

থাইল্যান্ডের সামরিক জান্তা নেতা মঙ্গলবার বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাঙ্ককের একটি জনাকীর্ণ হিন্দু মন্দিরের সামনে বোমা হামলার ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছে। ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা ২২-এ উন্নীত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় থাই রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে ওই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। পাঁচ তারকা হোটেল ও জমকালো শপিং মলগুলোর কাছে পুণ্যার্থী জনতার ভিড়ের মধ্যে শক্তিশালী বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। হামলায় নিহতদের মধ্যে চীন, হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ফিলিপিন্সের ৮ জন নাগরিক আছে। ঘটনায় চীন ও তাইওয়ানসহ শতাধিক লোক আহত হয়। খবর এএফপি ও ইয়াহু নিউজের।

জান্তা প্রধান প্রায়ুত চান ওচা বোমা হামলাকে থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা আখ্যায়িত করে কর্তৃপক্ষ কারা এর জন্য দায়ী বলে মনে করছে সে ব্যাপারে আভাস দিয়েছেন। প্রায়ুত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার একজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা ওই ব্যক্তিকে খুঁজছি।’ তিনি বলেন, সিসিটিভিতে বিস্ফোরণস্থলে তাকে দেখা গেছে। প্রায়ুত বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সরকার বিরোধী একটি গোষ্ঠীর বলে ধারণা করা হচ্ছে। অঞ্চলটি থাইল্যান্ডের সামরিক জান্তাবিরোধী রেড শার্ট আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংককে মারাত্মক রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ইংলাক সিনাওয়াত্রার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর গত বছরের মে মাস থেকে জান্তা দেশ শাসন করে আসছে। রেড শার্টরা গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্রদের তৃণমূল পর্যায়ের একটি গোষ্ঠী। তারা ইংলাক ও তার স্বনির্বাসিত ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রার প্রতি অনুগত। থাকসিন একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

প্রায়ুতের মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ঘটনার তদন্ত দেশের দক্ষিণ অংশের মুসলিম চরমপন্থীদের দিক থেকে সিনাওয়াতাপন্থী গোষ্ঠীর দিকে সরে যাচ্ছে। দক্ষিণের চরমপন্থীরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেখানে মারাত্মক বিদ্রোহ সংঘটিত করছে। হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি। তবে, থাই কর্তৃপক্ষ বলেছে, সিসিটিভি ফুটেজগুলো তদন্তের শুরুতে সহায়ক হয়েছে।

এই বোমা হামলা থাইল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মঙ্গলবার পুলিশ দলকে রক্তমাখা ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। তাদের অনেকে সাদা দস্তানা পরিধান করে ও প্লাস্টিক ব্যাগ নিয়ে সম্ভাব্য আলামতের সন্ধানে ব্যস্ত ছিল।

এদিকে জাতীয় পুলিশ প্রধান সোমিওত পাম্পানমুয়াং সাংবাদিকদের বলেছেন, পুলিশ ঘটনার নেপথ্যে থাই রাজনীতিসহ জাতিগত উইঘুরদের সঙ্গে সংঘাতÑকোন সম্ভাবনাকেই বাতিল করছে না। কিছুদিন আগে থাইল্যান্ডে ১০৯ জন উইঘুরকে চীনে জোর করে ফেরত পাঠিয়ে ছিল। তিনি বলেন, একটি পাইপ বোমার সাহায্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলের অস্থির পরিস্থিতি থেকে তুর্কীভাষী হাজার হাজার লোক এবং প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘুরা পালিয়ে গেছে। চীনা কর্তৃপক্ষের দমন অভিযানে সেখানে শত শত লোক নিহত হয়েছে। অনেক উইঘুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে তুরস্কে চলে গেছে। সরকারী কর্মকর্তারা ইরাওয়ান মন্দিরে বোমা হামলার জন্য কোন গোষ্ঠীকে দায়ী করেনি।

বিলাসবহুল হোটেল, জমকালো বিপণিবিতান, অফিস ও হাসপাতালের কাছে ইরাওয়ান পূর্ব এশিয়া বিশেষ করে চীনের পর্যটকদের কাছে একটি প্রধান আকর্ষণ। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হিন্দু দেবতা ব্রহ্মার এই মন্দিরে প্রতিদিন থাই নাগরিকসহ হাজার হাজার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী প্রদ্ধাঞ্জলি দেন।

নির্বাচিত সংবাদ