২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হত্যা ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে সবাই রাস্তায় নামুন ॥ এরশাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হত্যা ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে সবাইকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় পার্টি আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে এরশাদ এ আহ্বান জানান। সারাদেশে শিশু ও নারী হত্যার প্রতিবাদে এ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, দেশে এখন আইনের শাসন নেই। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। কার কখন কি হবে কেউ বলতে পারে না। আমরা সবাই যেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এটা তো হতে পারে না। কোন অবস্থাতেই এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোথায় আজ বাঁচার অধিকার? আমাদের বাঁচার অধিকার কে দেবে? তাই নারী ও শিশু হত্যা নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলতে হবে।

দীর্ঘদিন পরে হলেও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচী দেয়া হলো। সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে জাতীয় পার্টির দলীয় কর্মকা- যেমন ঝিমিয়ে আছে তেমনি জনস্বার্থেও কোন কার্যক্রম নেই। দুপুরে একটি খোলা গাড়িতে করে এরশাদ প্রেসক্লাব থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যান। এ সময় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁকে রাস্তায় সেøাগান দিতে দেখা যায়। কর্মসূচী সফল করতে সকাল থেকেই দলের নেতাকর্মীরা রাস্তায়-রাস্তায় অবস্থান নেন। প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এরশাদ বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে নয়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবেও নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রতিবাদ করতে এসেছি। এ প্রতিবাদ দেশের সকল মানুষের পক্ষ থেকে। তাছাড়া বলা বা প্রতিবাদ করার অধিকার সকল নাগরিকের থাকা উচিত। তিনি বলেন, আজ সবার সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে বলতে এসেছি, কেন এমন হচ্ছে? কেন ধর্ষণ হচ্ছে? আমাদের শিশুদের নির্মমভাবে একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে?

তিনি সমবেত সবার উদ্দেশে বলেন, আপনারা রাস্তায় নামুন। প্রতিবাদের ঝড় তুলুন। আমরা আর বসে থাকব না। সন্ত্রাসীদের সমাজ আমরা চাই না। আমরা চাই শান্তির সমাজ। যেখানে আমাদের শিশুরা নিরাপদে চলবে, হাসবে। তার চলার পথ অন্ধকার হবে না কখনই। সবাই মিলে সন্ত্রাসী আর অপরাধীদের বয়কট করতে হবে। ওরা যেন সমাজের কোথাও মিশতে না পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বলেন, সমাজের কাছে, সরকারের কাছে শিশুহত্যা ও নির্যাতনের জবাব চাই। যদি প্রশ্ন করি কেন এমন হচ্ছে? সবাই বলবে, রাজনৈতিক কারণে। এমন সমাজে মানুষ বাস করতে পারে না। হত্যা ও নির্যাতনকারীদের বিচার করুন। ফাঁসি দিন। শিশু হত্যা, নারী লাঞ্ছনা বন্ধ করুন। নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন কোন সভ্য সমাজের উদাহরণ হতে পারে না। মানববন্ধনের সমাপ্তি টেনে মতিঝিলে এরশাদ বলেন, ‘বিবেকের তাড়নায় রাস্তায় নেমেছি। বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। মানুষ পরিবর্তন চায়। জনগণ দুই নেত্রীকে চায় না। তারা পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের অপেক্ষায় সবাই।’ তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। আমি যখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতায় ছিলাম তখন দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহতা ছিল না। তখন কেউ অপরাধ করার আগে উপযুক্ত বিচারের কথা ভেবে নিত। কারণ আমার সময়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছিল না। এখন হয়েছে।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, উত্তরের সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতী, সভাপতিম-লীর সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, যুগ্ম মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ছাত্র সমাজের সভাপতি ইফতেখার আহসান হাসান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, বাহাউদ্দিন বাবুল, মনিরুল ইসলাম মিলন প্রমুখ।

সিলেটে শিশু রাজন হত্যার প্রধান আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিচার করা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এরশাদ বলেন, অপরাধ করে অপরাধীরা দেশের বাইরে চলে যাবে, তা হতে পারে না। তাকে ফিরিয়ে আনা হবে না, বিচার হবে না- এভাবে দেশ চলে না।