১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্দুকযুদ্ধে হাজারীবাগে রাজা হত্যার প্রধান আসামি আরজু নিহত

বন্দুকযুদ্ধে হাজারীবাগে রাজা হত্যার প্রধান আসামি আরজু নিহত
  • গ্রেফতার সানির স্বীকারোক্তি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর হাজারীবাগে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া (২৮) নিহত হয়েছে। তিনি মোবাইল চুরির অভিযোগে কিশোর রাজাকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি ছিলেন। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান জানান, সোমবার রাতে আরজুকে আটক করার পর তাকে নিয়ে বাকি আসামিদের গ্রেফতার অভিযানে গেলে বেড়িবাঁধের কাছে বাড়ুইবাড়ি এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে আরজু গুলিবিদ্ধ হয়। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এদিকে শান্তিনগরে ‘র‌্যাবের ভয়ে’ পালাতে গিয়ে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছে।

হাজারীবাগ থানার ওসি (তদন্ত) পরিদর্শক খন্দকার মোহাম্মদ আলী জানান, হাজারীবাগের মোঃ রাজা নামে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তার বোন রেশমা আক্তার শাবানা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। সেই মামলায় আরজু এক নম্বর আসামি ছিলেন। আরজু হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি জানান, সোমাবার রাতে তার গণকটুলী লেনের বাসা থেকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চুরি হয়। সেই চুরির জন্য আরজু সোমবার সকালে ওই এলাকার বাবুল মিয়ার ছোট ছেলে রাজাকে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর করেন।

পরে রাজাকে অচেতন অবস্থায় তার বাসার সামনের রাস্তায় ফেলে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা রাজাকে ওই অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে নিহত রাজার বোন রেশমা আক্তার শাবানা সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগ সভাপতি আরজুকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পরই পুলিশ ওই মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি মনির (৩৫), সাগর (২২) ও সুজনকে (২৫) গ্রেফতার করে। ওসি তদন্ত জানান, গ্রেফতারকৃতরা রাজাকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সভাপতি আরজুর সঙ্গে চলাফেরা করত।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ রানা জানান, কিশোর রাজা হত্যা মামলা দায়েরের পর র‌্যাব-২ এ বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাজারীবাগ পার্কের পানির পাম্পের কাছ থেকে এই হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামি আরজুকে আটক করা হয়। তিনি জানান, আরজুকে আটকের পর তাকে নিয়ে বাকি আসামিদের ধরতে অভিযানে নামেন র‌্যাব সদস্যরা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে বেড়িবাঁধের বাড়ুইবাড়ি এলাকায় মান্নান প্রিন্সিপালের বাড়ির সামনে এলে ওতপেতে থাকা আরজুর সহযোগীরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আরজুর গায়ে গুলি লাগে। পরে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে গুলিবিদ্ধ আরজুকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনা হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ রানা জানান, ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব সদস্যরা দুটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করেছে। নিহত আরজু মিয়ার বাবার নাম লাল মিয়া। তিনি হাজারীবাগ গণকটুলি এলাকার ৪৫/১/এ নম্বর বাড়িতে সপরিবারে থাকতেন। সেখানে মোবাইল চুরির অপরাধে রাজাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

হাজারীবাগে কিশোর রাজা পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সানির স্বীকারোক্তি ॥ আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান, রাজধানীর হাজারীবাগে মোবাইল চুরির অভিযোগে কিশোর রাজাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সাগর আহম্মেদ সানি আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট শামছুল আরেফীন তার স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন তাকে কারাগারে পাঠান। অন্যদিকে আসামি মনিরুজ্জামান ও সুমন হোসেনকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। এর আগে তদন্তকারী কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার এসআই অলিভ মাহমুদ আসামি মনিরুজ্জামান ও সুমনকে ১০দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।

উল্লেখ্য, হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগ সভাপতি আরজুর বাসা থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে সোমবার সকালে প্রতিবেশী কিশোর রাজাকে তার বাসায় নিয়ে আসে। বাসার গেট বন্ধ করে রাজাকে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। তারা বিকেলে রাজাকে অচেতন অবস্থায় তার বাসার সামনে রাস্তায় ফেলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঢামেক হাসপাতালে আনেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফুপু রতœা বেগম জানান, আরজুই রাজাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

র‌্যাবের ভয়ে পালাতে গিয়ে মাদক বিক্রেতার মৃত্যু ॥ রাজধানীর শান্তিনগরে র‌্যাবের ভয়ে পালাতে গিয়ে তিনতলা ভবনের রড বেয়ে ওঠার সময় পিছলে নিচে পড়ে ফয়েজ মোহাম্মদ বাবর (২৮) নামে এক মাদক বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের বাবার নাম মুজিবুর রহমান। তিনি রামপুরার ওয়াপদা রোডের জাহাজ বিল্ডিং এলাকায় থাকতেন। র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক খন্দকার গোলাম সরওয়ার জানান, বাবর একজন মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবী ছিল। রবিবার রাতে শান্তিনগর মসজিদ মার্কেটে মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীরা অবস্থান করছে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে রমজান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে বাবর একটি টিনশেড ঘরের চালার ওপর থেকে পাশের তিনতলা বাড়ির সঙ্গে লাগানো একটি রড বেয়ে ওঠার সময় পিছলে নিচে পড়ে আহত হন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩৬ ঘণ্টা পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরেরদিকে তার মৃত্যু হয়।