২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংশোধিত শ্রম আইনের বিধিমালা চূড়ান্ত হবে আগামী এক সপ্তাহে

  • সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, জিএসপি প্রাপ্তিতে এই একটিই আপত্তি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংশোধিত শ্রম আইনের বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে টিকফা চুক্তি রয়েছে। আগামীতে টিকফা ফোরামের বৈঠকেও জিএসপি বিষয়টি উপস্থাপন করবে বাংলাদেশ। জিএসপি সংক্রান্ত ইস্যুতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেনস বার্নিকাট বলেন, এ্যাকশন প্লানের বেশকিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি ভাল, তবে শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরি, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নে আরও জোর দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও চারজন রাষ্ট্রদূত বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পরে ওই সাক্ষাত প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এসব কথা বলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, জিএসপি পেতে যে ১৬টি শর্ত বেঁধে দেয়া হয়েছিল, সেগুলো পূরণ করেছি আমরা। এখন কেবল সংশোধিত শ্রম আইনের বিধিমালার ক্ষেত্রে তাদের আপত্তি রয়েছে, সেটাও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। বিধিমালাটি এখন ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ১২২টি দেশের জন্য জিএসপি সুবিধা বহাল করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেখানে পোশাক নেই। ফলে জিএসপি স্থগিত থাকলেও আমাদের কোন সমস্যা নেই।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তি (টিকফা) ছাড়াও আরও কিছু চুক্তির সুবাদে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এখন ১৬ শতাংশ দিয়ে পোশাক রফতানি হচ্ছে। জিএসপি স্থগিত একটি ইমেজের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আমরা নতুন বাজারের সন্ধান করছি। এখন অনেক দেশেই পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বা জিএসপি রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। এ্যাকশন প্লানের ১৬টি শর্ত পূরণ হওয়ার কারণে অধ্যাপক রেহমান সোবহানসহ দেশের বিশিষ্টজনরা বলছেন, জিএসপি সুবিধা বাংলাদেশের পাওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, শ্রমসচিব মিখাইল শিপার এবং পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন। তারা সেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বাণিজ্য দফতর ইউএসটিআরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের অবাধ বাজারসুবিধা নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতও তার দেশের সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।

এদিকে, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, কিছুক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি ভালো হলেও এ্যাকশন প্লানের সব শর্ত পূরণে আরও কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শ্রম আইনের বাস্তবায়ন জরুরী। এছাড়া কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং ট্রেড ইউনিয়ন সংক্রান্ত যেসব সমস্যা রয়েছে তা দ্রুত দূর করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ইউএসটিআর এর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবেন। তারা এ্যাকশন প্লানের অগ্রগতি এবং জিএসপি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করবে।