২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিপিএল ॥ দশ প্রতিষ্ঠান দল কিনতে আগ্রহী

  • বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টি২, দলের সংখ্যা ৭

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) ৭ দল কিনতে আগ্রহী ১০ প্রতিষ্ঠান! ব্যাপক সাড়া পড়েছে বিপিএলে দল কিনতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের।

বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিকানা চেয়ে দেয়া আবেদনপত্র জমার শেষ দিন ছিল সোমবার। আবেদনপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। অবশেষে বিপিএলে দলগুলোর মালিকানা কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে দেশের ১০ নামী-দামী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তাদের নামও মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছে।

বিপিএলের তৃতীয় আসরের জন্য দলগুলোর মালিকানা কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করা ১০ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নতুন হিসেবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তিন প্রতিষ্ঠান। নতুন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো মিডিয়াকম, স্কয়ার এবং সোহানা গ্রুপ অব কোম্পানি। এছাড়া বাকি সাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইনডেক্স, এক্সিওম টেকনোলজি, ডিবিএল, বিবিএস কেবল, বেঙ্গল গ্রুপ, ব্লুজ কমিউনিকেশন এবং নেট ওয়ার্ল্ড বিডি লিমিটেড।

মঙ্গলবার রাজধানীর একমি ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় দলগুলোর মালিক বা ফ্র্যাঞ্চাইজি হতে আবেদন করা ১০ প্রতিষ্ঠানের নাম। পরবর্তী সময়ে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে থেকে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করা হবে বিপিএলের তৃতীয় আসরের সাত দলের মালিকানা।

গবর্নিং কাউন্সিলের সভা শেষে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ঘোষণা করেন বিপিএল কার্যকরী পরিষদের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিপিএল গবর্নিং কাউন্সিলরের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা, বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান এবং বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া।

দলগুলোর মালিক বা ফ্র্যাঞ্চাইজি হতে আবেদন করা এই ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাত প্রতিষ্ঠানকে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করা হবে ৭ দলের মালিকানার জন্য। এ বিষয়ে বিপিএল কার্যকরী পরিষদের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে আমরা চূড়ান্তভাবে সাত প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করব। দশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যারা ক্রিকেটের জন্য বেশি আগ্রহী, যাদের ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বেশি, ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করতে ইচ্ছুক তাদেরই বেছে নেয়া হবে।’

বিপিএলের তৃতীয় আসর মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে নবেম্বরের ২২-২৫ তারিখের মধ্যে। এমনটিই জানান ইসমাইল হায়দার মল্লিক। এছাড়া তিনি আরও জানান, বিপিএলের আগের আসরগুলোর খেলোয়াড়দের বকেয়া পাওনার বিষয়টি দেখভাল করছেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেন্স কমিটির চেযারম্যান নাঈমুর রহমান দূর্জয়। বিসিবির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০১২ সালে বিপিএলের প্রথম আসরটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল দ্বিতীয় আসর। তবে, দ্বিতীয় আসরে ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারিতে বন্ধ হয়ে যায় বিপিএল। ২০১৪ সালে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা আর সম্ভব হয়নি। অনেকটা বাধ্য হয়ে ওই সময় বিপিএল বন্ধ ষোষণা করেছিল বিসিবি। তাছাড়া বড় ধরনের সমস্যা হয়েছিল, বকেয়া পরিশোধ না করার বিষয়টিও আছে। ক্রিকেটাররাও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো থেকে ঠিকমতো পারিশ্রমিক পাচ্ছিলেন না।

বিপিএলের প্রথম আসরে মোট ৬ দল অংশ নিয়েছিল। তবে, দ্বিতীয় আসরে একটি দল বাড়ানো হয়। এবারের আসরেও থাকছে সাত দল। পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ক্রিকেটারদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় নতুন মালিকানায় খেলবে তারা। গত ২৮ জুলাই জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিজ্ঞাপন দিয়ে নতুন মালিকানার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। দরপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল গত ১৭ আগস্ট, সোমবার।

বিপিএলের তৃতীয় আসরে নতুন মালিকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় দারুণ সন্তুষ্ট বিপিএলের কার্যকরী পরিষদের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই আমাদের কাছ থেকে ইওআই (এক্সপ্রেসন অব ইন্টারেস্ট) কিনেছেন। এদের প্রায় সবাই তাদের আগ্রহপত্রগুলো দাখিল করেছেন। এছাড়া পুরনো কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজিও আগ্রহ দেখিয়েছে। সব মিলিয়ে বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রিতে এমন সাড়া পাওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। আবেদন করা এই দশ প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে যাদের ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করতে ইচ্ছুক তাদের বেছে নেব।’