২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিশোধের সিরিজ

  • প্রোটিয়া-কিউই প্রথম ওয়ানডে আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ২০১৩ সালে জানুয়ারিতে ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে তিন ওয়ানডের সিরিজ ২-১এ হেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বদলা নিতে সময় লাগেনি, ২০১৪-এর অক্টোবরে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০তে জিতে নেয় এবি ডি ভিলিয়ার্সের দল। বিশ্বকাপের সঙ্গে কি আর তার তুলনা চলে? ২৪ মার্চ ২০১৫- অকল্যান্ডের প্রথম সেমিতে ২৮১ রানের পুঁজি নিয়েও এই নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে রিক্তবদনে বিদায় নিতে হয় প্রোটিয়াদের। ঘরের মাঠে আজ থেকে শুরু হওয়া তিন ওয়ানডের সিরিজ জিতে ‘দুধের সাধ ঘোলে মেটানো’র চেষ্টা করবে ভিলিয়ার্সবাহিনী!

তবে কাজটা সহজ নয়। এগিয়ে গিয়েও দুই ম্যাচের টি২০ ১-১এ ড্র করে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ম্যাচে মার্টিন গাপটিল, কেন উইলিয়ামসনদের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে প্রথমে ১৭৭ রানের ফাইটিং স্কোর গড়ে, এরপর প্রতিপক্ষকে ১৪৫Ñ এ থামিয়ে দিয়ে ৩২ রানের দারুণ জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড। ভাল বল করেন নাথান ম্যাককুলাম, মিচেল ম্যাকক্লেনঘান ও ইস সোধি। নিয়মিত অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককুলামের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উইলিয়ামসন। উইলিয়ামসন, গাপটিল ও রস টেইলরÑ ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে আছেন তিন কিউই তারকা। চলতি ২০১৫ সালে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রান তাদেরই। আগস্ট পর্যন্ত আট মাসেই তারা নিজেদের ভা-ারে জমা করেছেন যথাক্রমে ১২২৪, ১১৪৯ ও ১০৪১ রান। এ তালিকায় ৭৯৭ ও ৭৩১ রান নিয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থানে তাদের আজকের প্রতিপক্ষ এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং হাশিম আমলা।

ডি ভিলিয়ার্সের জন্য চ্যালেঞ্জটা অন্যরকম। বাংলাদেশ সফরে হুট করে দেশে ফিরে যান তিনি। এরপর টাইগারদের কাছে ওয়ানডে সিরিজে ধরাশায়ী হয় বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি দক্ষিণ আফ্রিকা! এবার ঘরের মাটিতে সেই দুঃখ ভোলার সুযোগ। কাজটা একটু বেশিই কঠিন, কারণ প্রতিপক্ষ যে বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট কিউইরা। প্রোটিয়া সেনাপতি সেটি স্বীকারও করেন, ‘বাংলাদেশ সফরে অমন একটা ধাক্কার পর এটা আমাদের প্রথম সিরিজ। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী নিউজিল্যান্ড। তাই কিছুটা চাপ কাজ করছে। শেষ টি২০ জিতে সিরিজ ড্র করার মধ্য দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যরে পরিচয় দিয়েছে ওরা। সুতরাং আমাদের অবশ্যই সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। ’

ঘরের মাটিতে প্রোটিয়াদের সমীহই করছে অতিথিরা। অধিনায়ক উইলিয়ামসন যেমন বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং খুবই শক্তিশালী। আমাদের তাই আগে ব্যাট করলে স্কোর বোর্ডে পর্যাপ্ত রান তুলতে হবে।’ তবে আত্মবিশ্বাসী নিউজিল্যান্ড কোচ মাইক হেসন, ‘আগেরবার পরিস্থিতিটা অন্যরকম ছিল। টেস্ট সিরিজ হারে নেতৃত্ব ছেড়েছিল রস টেইলর। কঠিন সময়ের মধ্যেও ম্যাককুলামের অধীনে ওয়ানডে জিতেছিলাম। এটা অনুপ্রেরণার। মাঝে দল হিসেবে আমরা অনেক গুছিয়ে উঠেছি। বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা তারই প্রমাণ। সুতরাং এবার আমাদের ভাল সুযোগ রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাফল্য পেতে ছেলেরা মরিয়া হয়ে আছে।’ অতিথদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে বিশ্বকাপের স্মৃতি। এই দক্ষিণ আফ্রিকাকেই ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকেট পেয়েছিল তারা।

১৯৯২ থেকে ৬২ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়ে ৩৬টিতে জয় দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের সাফল্য ২১টিতে। পরিত্যক্ত হয় বাকি ৫ ওয়ানডে।