২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিলটিরাই অইলো শ্রেষ্ঠ ফুটবল দর্শক

স্পোর্টস রিপোর্টার, সিলেট থেকে ॥ খেলা শুরু বিকেল ৫টায়। যেখানে দুই-এক ঘণ্টা আগে বাসা থেকে বের হলেই চলে, সেখানে যদি কেউ পাঁচ-ছয় ঘণ্টা আগেই স্টেডিয়ামের সামনে চলে আসে, টিকেট সংগ্রহের চেষ্টা করে, অনাহারে থেকে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভেজে, পুলিশের লাঠির মার হজম করে- তাহলে তাকে কি বলবেন, ফুটবলের প্রতি নিখাদ ভালবাসা? ফুটবল পাগলামী, নাকি ফুটবলের প্রতি দায়বদ্ধতা? বাংলাদেশের কোন সেই অঞ্চল, যেখানে চর্মগোলকের এই খেলাটি নিয়ে কেন হয় এত মাতামাতি? উত্তর হচ্ছে- সিলেট, একদা যে অঞ্চলের নাম ছিল ‘শ্রীহট্ট।’ যে অঞ্চল বিখ্যাত শাহজালাল আর শাহপরানের পুণ্যভূমি আর আলী আমজাদের ঘড়ি, দেশের সবচেয়ে ধনী জেলার জন্য, যে অঞ্চল সুপরিচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ওসমানীর জন্মস্থান হিসেবে, সেই অঞ্চল এখন আরও একটা কারণে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, আর তা হলো সিলেট ফুটবলের দেশ এবং সিলেটের দর্শকরাই হলো শ্রেষ্ঠ ফুটবল দর্শক! আজ থেকে বছরখানেক আগে আবিষ্কৃৃত হয়েছিল এই ব্যাপারটি। এক বছর আগে যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, এক বছর পরেও মোটামুটি সেই একই চিত্র। বলা হচ্ছে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের ভেতর আর বাইরের কথা। তবে এক বছর পর সরেজমিন এসে কিছু তফাতও চোখে পড়েছে। সে প্রসঙ্গে পরে আসা হবে। আগে সংক্ষেপে বলা যাক এক বছর আগের কথা। ২৯ আগস্ট, ২০১৪। এশিয়ান গেমস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচ। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা প্রীতি ম্যাচ। অংশ নেবে বাংলাদেশ অনুর্ধ ২৩ জাতীয় ফুটবল দল বনাম নেপাল অনুর্ধ ২৩ জাতীয় ফুটবল দল। ওই ম্যাচে স্বাগতিকরা হেরে যায় ০-১ গোলে। ওই ম্যাচে দর্শক ধারণক্ষমতার চেয়ে টিকেট ছাপা হয়েছিল বেশি। ২০ হাজারের জায়গায় ২৫ হাজার! ফলে অনেক দর্শকই টিকেট কেটেও মাঠে ঢুকতে পারেননি। একপর্যায়ে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠের ঢোকার দুটি গেট ভেঙ্গে পঙ্গপালের মতো মাঠে ঢুকে পড়ে আরও বাড়তি ২৫ হাজার ফুটবল পাগল দর্শক! তবে বিশেষ ধন্যবাদ দিতেই পারে মাঠে ঢুকে পড়া দর্শকরা। কেননা, তারা নিয়ম ভেঙ্গে মাঠে ঢুকলেও কোন ধরনের মারমারি, অরাজকতা বা উশৃঙ্খল আচরণ করেননি। যদিও মাঠে ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জে রক্তাক্ত ও আহত হতে দেখা গেছে একাধিক দর্শককে। মাত্রাতিরিক্ত দর্শক মাঠে ঢোকায় খেলাই প- হয়ে গেছে, এমন নজির বাংলাদেশের ইতিহাসে বোধ করি নেই। সেবার এমন কারণেই প- হতে বসেছিল বাংলাদেশ বনাম নেপাল জাতীয় অনুর্ধ ২৩ ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি! অনেক কষ্টে প্রশাসন ম্যাচ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর! তবে ফিফার নিয়মকানুন মানা যায়নি। কোচ ও বদলি খেলোয়াড়দের বসতে হয়েছে দর্শকদের সঙ্গেই। দর্শকই পালন করে বলবয়ের ভূমিকা! ওই স্মরণীয় ঘটনায় প্রশ্ন ওঠেÑ কে বলে বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা নেই? জনপ্রিয়তা আছে এবং সেটা আছে ঢাকার বাইরে। এবং সবচেয়ে বেশি সিলেটেই! সেই ঘটনার এক বছরের পরের চিত্র অনেকটা কাছাকাছিই ছিল। ১৮ আগস্ট, ২০১৫ মঙ্গলবার। একই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাফ অনুর্ধ ১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলার আগে স্টেডিয়ামের বাইরে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের ঢল দেখে মনে পড়ে যাচ্ছিল বছরখানেক আগের সেই ঘটনার কথা।