২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দাসিয়ারছড়ায় নাগরিকত্ব নিয়ে অভিযোগ ॥ সত্যতা মেলেনি

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ বাংলাদেশ ভূখ-ের সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত দাসিয়ারছড়ায় মঙ্গলবার যৌথ টিম নাগরিকত্ব নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত করেছেন। কিন্তু যৌথ তদন্ত দল এ অভিযোগের সত্যতা পায়নি। বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত দু’দেশের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এই তদন্তে নেতৃত্ব দেন।

তদন্তে ভারতের পক্ষে ছিলেন কুচবিহারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রবীন্দ্রনাথ বোস এবং বাংলাদেশের পক্ষে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মাহমুদ। দাশিয়ারছড়ার রাশমেলা এলাকার মফিজ উদ্দিনের অভিযোগের ভিত্তিতে এ তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের মনজু বেগম, মনিরা বেগম, মজিদুল ইসলাম, মনিষা খাতুন ও মোখছেদুল হক ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণে আগ্রহী। কিন্তু গত ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই ভারত-বাংলাদেশের যৌথ জরিপ চলাকালে তারা স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারেননি। তিনি চাপে পড়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। কিন্তু এ অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, অভিযোগকারী পাঁচজন এখন ভারতে অবস্থান করছেন। একমাত্র ছেলে মোখছেদুল হক, মামা ও খালার বাড়ি থেকে তালুকদারটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র মোখছেদুল হক জানায়, তার বাবাসহ পরিবারের সবাই ভারতে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছে। সে বাংলাদেশে থাকতে চায়। তার মামা রফিকুল ইসলাম জানান, মফিজ উদ্দিন যৌথ জরিপের শেষ দিন ১৬ জুলাই ছিটমহলে এসে যৌথ জরিপ দলের কাছে স্বেচ্ছায় পরিবারের সবার পক্ষ থেকে একাই মতামত দিয়ে আবারও ভারতে চলে যায়।

‘মুই মরি যাইম,

ভারত যাইম না’

এ রহমান মুকুল, পঞ্চগড় থেকে জানান, নতুন পাকাবাড়ি, সরকারী হাজারো সুযোগ-সুবিধা দিলেও আর ভারত যাব না। ভুল না হয় একটা হয়েছে। তার জন্য কি, এই দেশে থাকতে পারব না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বললেন দেবীগঞ্জ উপজেলার অভ্যন্তরে বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দা রঞ্জিত বর্মণ। তিনি গত ৬-১৬ জুলাই জনগণনা চলাকালীন ভারতে যাওয়ার নির্দিষ্ট ফরমে স্বাক্ষর ও ছবি তুলে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণের আবেদন করেন। পরে নিজের ভুল বুঝে ও পরিবারের অনুরোধে মত পরিবর্তন করে বাংলাদেশে থাকার আবেদন করেন। রঞ্জিতের মতো ওই ছিটমহলের আরও ২১ জন দেশ পরিবর্তন না করার জন্য পঞ্চগড় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন জমা দেন। এছাড়াও পঞ্চগড় সদরের গারাতীতে ৪ জন বোদা উপজেলার নাজিরগঞ্জ-দইখাতা থেকে ৬ জনসহ মোট ৩২ জন অনুরূপ আবেদন করেন। বিলুপ্ত ছিট দহলা-খাগড়াবাড়ির বাসিন্দা লতা রানী বলেন, ছাওয়ালার পাল্লাত পড়ে মুই ভারত যাওয়ার চাহিছু। সইও দিছু। এখন মনটা টানে না। তাই, ডিসির কাছে দরখাস্ত দিছু নামটা কাটি দিবার জন্য। আইজ দেবীগঞ্জ ডাকিছে মুই ক্যান ভারত যাবার না চাও এইগুলা পুছিবার তানে। মরি যাইম, ভারত যাইম না- এ কথা সাহেবলাক কয়া দিনু। রঞ্জিত ও লতা রানীর মতো ভারতে বসবাসের অপশন থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদনকারী অন্যান্য ছিটবাসীও মঙ্গলবার দেবীগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলোয় আয়োজিত যৌথ শুনানি অনুষ্ঠানে একই কথা বলেন। দুপুর ১টায় শুরু হওয়া যৌথ শুনানিতে ভারতের কোচবিহার জেলার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নুর আলম এবং বাংলাদেশের পক্ষে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম আযম ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সফিকুল ইসলাম শুনানি গ্রহণ করেন। এর আগে সকালে ভারতের কোচবিহারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেড নুর আলম লালমনিরহাটের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের বুড়িমাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে তিনি দুপুর সাড়ে ১২টায় দেবীগঞ্জে আসেন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পঞ্চগড়ে সদ্য বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের বাসিন্দাদের মধ্যে সর্বশেষ ৬-১৬ জুলাই জনগণনায় ৪৬৭ জন বাসিন্দা ভারতে যাওয়ার অপশন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২৯ জুলাইর মধ্যে পঞ্চগড় সদরের ৪ জন, বোদা উপজেলার ৬ জন ও দেবীগঞ্জ উপজেলার ২২ জন ভারতে বসবাসের অপশন থেকে তাদের নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেন। সূত্রমতে, শুনানির পর দু’দেশের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে এসব বিলুপ্ত ছিটবাসীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে তারা কোন দেশের নাগরিক, ভারতীয় না বাংলাদেশী। দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সফিকুল ইসলাম বলেন, দেবীগঞ্জের বিলুপ্ত বিভিন্ন ছিটমহলের ৪টি পরিবারের ২২ জন ভারতের অপশন থেকে তাদের নাম প্রত্যাহারের যে আবেদন করেন সে বিষয়ে যৌথ শুনানি শুরু হয়। এমন আরও কয়েকজন আবেদনকারীর আবেদন বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে তিনি জানান।