২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দিনাজপুরে শীর্ষ জঙ্গী আফজাল ১০ বছরেও গ্রেফতার হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামী জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন (জেএমবি)সহ বিভিন্ন নামে প্রচারিত সংগঠনের সক্রিয় জঙ্গী সদস্যদের খুঁজছে পুলিশ। গ্রেফতার করলেও আদালতের জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছে এ ধরনের ৩০ সক্রিয় জঙ্গী সদস্য। জেলার স্পর্শকাতর স্থান ও জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নজরদারী জোরদার করা হয়েছে।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার রুহুল আমিন জনকণ্ঠকে জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে পুনরায় বিভিন্ন নামে জঙ্গী সদস্যরা সক্রিয় হয়ে নাশকতামূলক কর্মকা- চালানোর চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় জঙ্গী সদস্যদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। সে লক্ষ্যেই জঙ্গী সদস্যদের নাশকতা কার্যক্রম ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান রেলওয়ে স্টেশন, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী ডিগ্রী কলেজ, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, সদর হাসপাতাল, পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র ও কয়লা খনি এবং মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প, হিলিস্থল বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও শহরের পুলিশ, র‌্যাব সদস্যদের টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সূত্রটি জানায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বেলা ১১ টায় সারাদেশের মতো দিনাজপুর শহরের জঙ্গী সংগঠনের সদস্যরা একযোগে ১১টি স্থানে ১২টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। ওই মামলায় পুলিশ তদন্ত করে আট সক্রিয় জঙ্গী সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটি দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩ আদালতে দীর্ঘ সময় ধরে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০১২ সালের ৩১ অক্টোবর আসামির মধ্যে কারাগারে আটক সাতজনকে খালাসের রায় দিয়ে পলাতক আসামি আফজাল আবেদিনকে ১০ বছর সশ্রম কারাদ- এবং এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ-ের রায় প্রদান করে আদালত।

এই চাঞ্চল্যকর মামলার কারাদ-প্রাপ্ত আসামি আফজাল আবেদিন শহরের ক্ষেত্রিপাড়া মহল্লার জয়নাল আবেদিন মধুর পুত্র। ঘটনার পর থেকেই সে পুলিশের গ্রেফতার এড়িয়ে পলাতক রয়েছে। আফজাল ২০০১ সালে জেলা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতি পদে ছিল। গত ১০ বছরেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। মহল্লাবাসীরা জানায়, তিন বছর আগে আফজালের পিতা জয়নাল আবেদিন মারা যাওয়ার পর তার দাফন করে আদালত এবং পরবর্তীতে কুলখানিতে আফজালের উপস্থিতি দেখা গেছে। সূত্রটি জানায়, এখনও মাঝে মধ্যে তাকে তার বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখা যায়।

নির্বাচিত সংবাদ