২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এক রিপাবলিকান প্রার্থীর ব্যতিক্রমী কৌশল

  • এনামুল হক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থিতা লাভের লড়াইয়ে আছেন ওহাইওর গবর্নর জন ক্যাশিচ। প্রার্থিতা লাভের সম্ভাবনা যাই থাক তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার কৌশলটা একটু বিচিত্র ও ব্যতিক্রমী। তিনি হিলারি ক্লিনটন বা প্রতিপক্ষের আর কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘অন্যের সম্পর্কে বলতে গেলে তো নিজের সম্পর্কে কিছু বলা হয় না। অথচ আমার রেকর্ড কি এবং প্যাশনই বা কি জনগণকে তা জানাতে হবে।’

ক্যাশিচ মনে করেন যে, অন্যের সমালোচনায় সময় ব্যয় করলে প্রকৃতপক্ষে কোন লাভ হয় না এবং সত্যি কথা বলতে কি লোকে তা চায়ও না। লোকে জানতে চায় প্রার্থীর সাফল্যের খতিয়ান। জানতে চায় তাঁর হাতে সমস্যার সমাধান আছে কিনা, নেতৃত্ব দিতে পারার যোগ্যতা আছে কিনা। গলা ফাটিয়ে অন্যকে বিদ্রƒপ করার চাইতে নিজের কথাটা বলা তার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ক্যাশিচ।

এই কৌশলে যে কাজ দিচ্ছে তার কিছু কিছু লক্ষণের পরিচয়ও পাওয়া যাচ্ছে। রিপাবলিকান দলের প্রার্থিতা লাভের লড়াইয়ে নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রাইমারিতে ক্যাশিচের জয়লাভের সম্ভাবনা যথেষ্ট ভাল। সেখানে তিন শীর্ষস্থানীয় প্রার্থীর অবস্থানে আছেন। এই রাজ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী রিপাবলিকান সাবেক এ্যাটর্নি জেনারেল টম র‌্যাথের সমর্থন লাভ করেছেন। তিনি সেটা যে কোন প্রার্থীর জন্য অতিমাত্রায় কাম্য। ক’দিন আগে বিতর্ক অনুষ্ঠানে তার ভূমিকা বহুল প্রশংসিত হয়েছে এবং এক জনমত জরিপে তিনি ১২ শতাংশ ভোট পেয়ে এই রাজ্যে তৃতীয় স্থানে আছেন।

ক্যাশিচের এই উত্থান বেশ বিস্ময়কর। যেখানেই সুযোগ পান তিনি নিজের কার্যকলাপের কথা তুলে ধরেন। কোথায় কি করেছেন তার বিবরণ দেন। যেখানে পরামর্শকরা প্রার্থীদের তাদের ভবিষ্যতের ভিশনের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে বলে থাকেন, সেখানে ক্যাশিচ ঠিক এর বিপরীতটাই করেন। তিনি অতীত স্মৃতি স্মরণ করেন। জনগণ ব্যাপারটা পছন্দ করছে। তারা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ক্যাশিচের কথা শুনছে। তাঁর প্রচারাভিযানে এ যাবত সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক সাফল্য হলো নিজের রাজনৈতিক দুর্বলতাকে রাজনৈতিক এ্যাসেটে রূপান্তরিত করা। তিনি এক্ষেত্রে এ পর্যন্ত সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও সফল প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন। ক্যাশিচ ‘ন্যাশনাল জার্নালের’ কাছে বলেন, “ভোটাররা সাধারণত কংগ্রেসের কোন সদস্যকে দেখলে ভাবে ‘এ আর এক গলাবাজ’। কিন্তু আমরা যখন কংগ্রেসে ছিলাম তখন একটা টিম গড়ে উঠেছিল যারা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেছিল। যেমন কল্যাণ ব্যবস্থার সংস্কার করেছিল, বাজেটে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেছিল, কর হ্রাস করেছিল ইত্যাদি। সেটা ছিল এক অসাধারণ সময়।”

ক্যাশিচ তার প্রচারাভিযানে শুধু যে হিলারি ক্লিনটনের সমালোচনা পরিহার করে চলেছেন তা-ই নয়, তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামার বিরুদ্ধেও পারতপক্ষে কিছু বলছেন না। তিনি ওহাইওতে মেডিকেইড সম্প্রসারণে তাঁর সাফল্যের কথা নিয়মিত ব্যক্ত করে থাকেন। তিনি শিক্ষা থেকে শুরু করে পরিবহন ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় ফেডারেল সরকারের অকার্যকর ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং এগুলোর পরিবর্তে রাজ্যভিত্তিক সক্রিয় সরকারী কর্মসূচীগুলোর প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন। কল্যাণমূলক ব্যবস্থা রাজ্য সরকারগুলোর দায়িত্বে ছেড়ে দেয়া উচিত, এই মর্মে তাঁর বক্তব্য নিউ হ্যাম্পশায়ারের ভোটারদের তুমুল করতালির দ্বারা অভিনন্দিত হয়।

বস্তত পক্ষে ক্যাশিচের এই কৌশলের লক্ষ্য হলো সেই সব রাজ্যের সমর্থন অর্জন করা যেখানে মডারেট রিপাবলিকান ভোটার বেশি। নিউ হ্যাম্পশায়ারে তিনি তার সমর্থনের জোয়ার ধরে রাখতে চান যাতে করে প্রাইমারিতে এস্টাবলিশমেন্টের প্রিয়পাত্র হিসেবে জেব বুশকে তার আসন থেকে হটিয়ে দেয়া যায়।