২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পশ্চিমা নয় বরং মুসলিমবিদ্বেষী আইএস

রমজানে প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ ছিল বাগদাদবাসী। ফলে ইফতারের আগেই তাদের বরফ সংগ্রহের প্রবণতা ছিল। এমনি এক রৌদ্রতপ্ত দুপুরে বাগদাদের শহরতলীর এক বাজারে ইফতার ও বরফ সংগ্রহ করছিলেন রোজাদার মুসলিমগণ। হঠাৎ একটি ট্রাকভর্তি বরফ নিয়ে হাজির হলো একজন বিক্রেতা। তার খুব সস্তায় বরফ বিক্রির ঘোষণায় অতি সহজে ভিড় জমে যায় ট্রাকের চারপাশে। খানিক বাদে গগণবিদারী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বাজার। বরফভর্তি সেই ট্রাকের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে নিথর মানুষের অসংখ্যা ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহ। নিহত মানুষদের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় শতকেরও বেশি। মূলত বরফভর্তি ট্রাকের মধ্যে শক্তিশালী বোমা লুকিয়ে রাখা হয়। আইএস জঙ্গীরা এ হামলার দায় স্বীকার করে।

আইএস কর্তৃক এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনা নতুন নয়। বিগত বছর ধরে তাদের এমন কাপুরুষোচিত অসংখ্য হামলা বিশ্ব মিডিয়ায় স্থান পেয়ে আসছে। কখনও সংখ্যালঘু ইয়াজিদিদের বন্দী করে হত্যা, কখনও বা বন্দী জর্দানী পাইলটকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা। ইরাক ও সিরিয়ার কিছু পুরাকীর্তিও তারা ধ্বংস করে। জ্বালিয়ে দেয় কিছু তেল ও গ্যাসক্ষেত্র। তাদের এমন হামলার বলি কেবল আরব বিশ্ব এবং ঘটনার শিকার কেবল মুসলিম রাষ্ট্র। বর্তমানে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু রাষ্ট্রে তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বিরাজমান এমনকি গেল সপ্তাহে সৌদি এয়ারফোর্সের জামে মসজিদে হামলাও প্রমাণ করে তাদের হাত কতটা বিস্তৃত। একটা সময় আইএসকে আল কায়েদা কিংবা জাবাখ-আল-নুসরার উৎস ভাবা হলেও বর্তমানে সন্ত্রাসবাদের মূল প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে সংগঠনটি, লিবিয়া থেকে আফগানিস্তান সর্বত্র যাদের ছায়া। আফগান তালেবানরাও এখন তাদের নৃশংসতার কট্টর সমালোচক। তালেবান আইএস জঙ্গীদের মতো এমনটা উগ্রবাদী না হলেও বর্বরতার দিকে তারাও কম যায় না। চলতি বছরের শুরুর দিকেই তালেবানের হামলায় প্রাণ যায় শত শত পাকিস্তানী শিশুর।

পাকিন্তানী সেনাবাহিনী পরিচালিত এক স্কুলে হামলা চালিয়ে তারা একশ’রও বেশি স্কুলছাত্র হত্যা করে। মানবতাবিরোধী এমন দুটি সংগঠন কতটা পশ্চিমাবিদ্বেষী আর কতটা মুসলিম হত্যাকারী- তাই সকলের প্রশ্ন। কারণ তাদের হামলা কিংবা নৃশংসতার মূল টার্গেট এখন মুসলিম ও ইসলাম।

প্রতিদিন আইএস কিংবা তালেবানের নৃশংসতা যত বাড়ছে পশ্চিমা বিশ্বে ইসলামবিদ্বেষ ততখানি চাউর হচ্ছে। আইএস কিংবা তালেবানের নামে পশ্চিমা মিডিয়া মূলত ইসলাম ও মুসলিমদের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণœ করছে। প্রতিদিন নিত্যনতুন সংবাদ পরিবেশন করে বিপদগ্রস্ত করছে অভিবাসী মুসলিমদের।

এখন প্রশ্ন- আইএস কিংবা তালেবান কি আদৌ পশ্চিমাবিদ্বেষী নাকি ইসলামবিরোধী। কারণ তাদের কর্মকা-ের মূল শিকার মুসলিম রাষ্ট্র, পশ্চিমা বিশ্ব নয়। এখনও পর্যন্ত হাতে গোনো ক’জন পশ্চিমা নাগারিক হত্যার বাইরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র রাষ্ট্রদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারেনি। তাদের কর্মকা- কেবল মানবতাকেই লজ্জিত করেনি বরং মুসলিম ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করছে প্রতিদিন প্রতিক্ষণ।

মুসান্না সারজিল