২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাদা মনের ‘সি আর সেভেন’

  • অতশী রহমান

নিজের দলকে জেতাতে মাঠে প্রাণপণ লড়াই করে থাকেন ফুটবলাররা। অন্য খেলার তারকাদের ক্ষেত্রেও কথাটি প্রযোজ্য। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এমনই একজন তারকা। বর্তমান বিশ্বসেরা ফুটবলার। রিয়াল মাদ্রিদে খেলেন পর্তুগীজ এই সুপারস্টার।

মাঠের পরিচয়টাই তাঁর সবচেয়ে বড়। কিন্তু এর বাইরে যে আরও বড় গুণ আছে পর্তুগাল অধিনায়কের, তা ক’জন খোঁজ রাখেন। মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে জীবনের লড়াইয়ে আরও বেশি বেগবান বর্তমান ফিফা বর্ষসেরা এই ফুটবলার। মানবিকতার দিক দিয়েও তিনি এগিয়ে। অনেকে রোনাল্ডোর মেজাজি রূপটাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখে থাকেন। কিন্তু তার ভেতরটা যে সাদা, সে প্রমাণ তিনি সম্প্রতি রেখেছেন।

কিছুদিন আগেও শিশুদের জন্য দান করেছেন লিওনেল মেসি। তবে নিজ দেশে বন্যার্তদের জন্য সাহায্যের আবেদন জানালেও নিজের কিছু দেয়ার কথা জানা যায়নি। তাহলে কি কাজের চেয়ে কথা বেশি বলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক! এর মাশুলই হয়ত তাঁকে দিতে হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে দানশীল ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের তালিকাতেই নাম নেই মেসির। অথচ এই তালিকায় সবার সেরা হয়েছেন তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

মেসির চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থেকে দাতব্য কার্যক্রমে এই মুহূর্তে বিশ্বসেরা খেলোয়াড় রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ তারকা। যুক্তরাষ্ট্রের এক ওয়েবসাইট ‘এ্যাথলেটস গন গুড’ সম্প্রতি দাতব্য কার্যক্রম করছেন এমন কিছু খেলোয়াড়ের তালিকা প্রকাশ করেছে। দানশীল ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব নির্বাচনে এ্যাথলেটিকস গন গুডের সঙ্গে একত্রে কাজ করেছে ‘ডুসামথিং ডট অরগানাইজিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের সহায়তায় মোট ২০ জান তারকা খেলোয়াড়কে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই তালিকা। অবাক করা ব্যাপার, ২০ জনের এই তালিকায় নেই মেসির নাম। তালিকায় তিন নম্বরে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়াম। পাঁচ নম্বরে আছেন ব্রাজিলের অধিনায়ক নেইমার। রাশিয়ান টেনিস সুন্দরী মারিয়া শারাপোভার অবস্থান আট নম্বরে। এই তালিকায় ঢুকে সবাইকে চমকে দিয়েছেন ভারতের তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় সাইনা নেহওয়াল। তার অবস্থান ১৮ নম্বরে। সেরার বিশের শেষ স্থানে আছেন পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি। জরিপের শীর্ষ স্থান পাওয়া রিয়াল তারকা রোনাল্ডো ১০ বছর বয়সী এক শিশুর মস্তিষ্ক অস্ত্রোপচারের জন্য এগিয়ে আসেন। এজন্য তিনি ৮৩ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। নিজের জন্মভূমি পর্তুগালের মাদেইরা ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্রে ১ লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলার আর্থিক সাহায্য দেন ‘সিআর সেভেন’। ২০০৮ সালে সেখানে ক্যান্সারের চিকিৎসা করিয়েছিলেন রোনাল্ডোর মা ডোরোরেস এ্যাভেরো। ২০১২ সালে গাজার শিশুদের জন্য তাঁর গোল্ডেন বুট নিলামে তুলে জোগাড় করে দিয়েছিলেন ১৫ লাখ ইউরো (প্রায় ১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা)। তাই সঙ্গত কারণেই এই তালিকার এক নম্বর স্থান পেয়েছেন রোনাল্ডো। সিআর সেভেনের সঙ্গে এই তালিকায় মেসি না থাকলেও আছেন নেইমার। তাঁর অবস্থান পঞ্চম। রোনাল্ডোর পরে দ্বিতীয় স্থানটি রেসলার জন সেনার। কিছুদিন আগেই বিজ্ঞাপন মূল্যের দিক দিয়ে প্রভাবশালীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। ওই তালিকায়ও ছিলেন রোনাল্ডো ও নেইমার। ওই তালিকায় ছিল মেসি ছাড়াও ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনির নাম।। কিন্তু এবার দাতব্য কার্যক্রমের তালিকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি এদের কাউকেই।

আট নম্বরে আছেন রুশ টেনিস তারকা শারাপোভা। দিন কয়েক আগে আবারও নারী এ্যাথলেটদের মধ্যে এক বছরে সবচেয়ে বেশি আয় করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। বিশ্বের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ফোর্বসের মতে, সর্বোচ্চ আয়ের দিক দিয়ে নারী ক্রীড়াবিদের তালিকায় আবারও শীর্ষে থাকা শারাপোভা এ নিয়ে টানা ১১ বছর শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। আয় করা অর্থ যে পরপোকারে কম বিলিয়ে দেন না সে প্রমাণ আরও একবার রেখেছেন রাশান ডার্লিং।

২০০৭ সালে ‘লিও মেসি ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করা মেসির নাম এ তালিকায় না থাকায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। তবে দানের দিক দিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা অনেক পেছনে থাকাতেই তিনি তালিকায় আসেননি। তবে সম্প্রতি আর্জেন্টিনার অভাবগ্রস্ত শিশুদের জন্য ইউনিসেফকে আর্জেন্টাইন মুদ্রায় ৪৫ লাখ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন এ বার্সা তারকা। যা প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের সমান। ২০১০ সালে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হওয়ার পর থেকে শিশুদের অধিকার রক্ষার কাজে মেসি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৩ সালে নিজ শহর রোজারিওতে অবস্থিত শিশু হাসপাতালে ছয় লাখ ইউরোর অর্থ সহায়তা দেন চারবারের এ বিশ্বসেরা খেলোয়াড়। সম্প্রতি প্রবল বন্যায় আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আইরেসের অন্তত ১১ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। অবশ্য এ ব্যাপারে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সাহায্যের আবেদন জানান মেসি। আকস্মিক বন্যায় বুয়েন্স আইরেসের জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। টানা ঝড়-বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত তিনজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। বিপুল সংখ্যক মানুষ পানিবন্দী হয়ে জীবনযাপন করে। রোজারিওতে জন্ম নেয়া মেসি তার ফেসবুকে দুর্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে মেসি বলেন, আর্জেন্টিনার বন্যা পরিস্থিতির কিছু ছবি দেখে দেশবাসীর জন্য আমি খুবই উদ্বিগ্ন। এ কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বিভিন্ন সময় শিশুদের পাশে দাঁড়াতেই বেশি দেখা গেছে মেসিকে। তার দেশের মানুষ বন্যায় কবলে পড়ে দুস্থ জীবনযাপন করতে থাকে। যে কারণে সমবেদনা জানিয়ে সাহায্যের আবেদন জানান সাবেক ফিফা সেরা ফুটবলার। তবে নিজের পক্ষ থেকে মেসির কোন অর্থ সহায়তা দেয়ার খবর মেলেনি। এরপরও মানবিক দিক দিয়ে মেসির অবদানকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। এক্ষেত্রে অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বী রোনাল্ডোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।