১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টেনিসের নতুন রানী বেনচিচ

  • মাহমুদা সুবর্ণা

মাত্র ১৮ বছর বয়স। এই বয়সেই পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এলেন বেলিন্ডা বেনচিচ। আরও সুস্পষ্ট করে বললে সদ্য সমাপ্ত কানাডার টরেন্টোর রজার্স কাপই তাকে এনে দিয়েছে নতুন উচ্চতা। কেননা এই টুর্নামেন্টেই যে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান তারকা সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়েছেন তিনি। রোমানিয়ার সিমোনা হ্যালেপকে পরাজিত করে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডব্লিউটিএ শিরোপা জিতে জানান দিলেন টেনিসের রানী হয়ে টিকে থাকার জন্যই আসছেন বেলিন্ডা বেনচিচ।

২০১২ সালে সুইজারল্যান্ডের হয়ে ফেড কাপে অভিষেক ঘটেছিল বেলিন্ডা বেনচিচের। এরপর থেকে নিয়মিতই খেলে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারছিলেন না এই সুইস সুন্দরী। তবে রজার্স কাপেই বদলে গেল তার ভাগ্যে। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়েই বড় চমকটা দেন তিনি। তখনই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বেনচিচ। আর রবিবার ফাইনালে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই সিমোনা হ্যালেপকেও পরাজয়ের স্বাদ উপহার দেন তিনি। সেসঙ্গে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো রজার্স কাপের শিরোপা নিজের শোকেসে তুললেন সুইজারল্যান্ডের এই তারকা। ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় ট্রফি। এর আগে প্রথম কোন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ জিতেছিলেন গত জুনে। সেবার ইস্টবার্ন শিরোপা নিজের করে নিয়েছিলেন বেনচিচ। তবে রজার্স কাপের শিরোপাটা সহজে জিতেননি এই অষ্টাদশী। রোমানিয়ার সিমোনার বিপক্ষে ৭-৬ গেমে প্রথম সেট ঠিকই জিতে নেন বেনচিচ। কিন্তু দ্বিতীয় সেটেই ঘুরে দাঁড়ান হ্যালেপ। ৭-৬ গেমে বেনকিচকে পরাজিত করেন তিনি। তৃতীয় সেটে আবারও ঘুরে দাঁড়ান সুইস তারকা। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময়ই ম্যাচ থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন হ্যালেপ। এর ফলে শিরোপা জিতেই কোর্ট ছাড়েন পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই একের পর এক চমক উপহার দেয়া এই সুইস কন্যা। আমেরিকান টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি সেরেনার পর রোমানিয়ার দ্বিতীয় বাছাই হ্যালেপকেও পরাজিত করে রোমাঞ্চিত বেনচিচ। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে আমি আসলেই খুব উপভোগ করেছি। আমি যে এতটা ভাল খেলতে পারি তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। তবে প্রথমেই আমি সিমোনার প্রতিপ কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। কেননা সেই আমাকে দারুণ একটি সপ্তাহ উপহার দিয়েছে। এরপর আমার মা-বাবা এবং আমার দলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। তবে এটা ঠিক যে যদি ফাইনালেও হেরে যেতাম তাহলেও এটা হতো আমার জন্য বিস্ময়কর এক অভিজ্ঞতা।’

তবে বেনচিচের বড় অভিজ্ঞতাটা সেমিফাইনাল। যেখানে হারিয়েছেন সেরেনা উইলিয়ামসের মতো তারকাকে। গত শনিবার শেষ চারের লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের এই তরুণ প্রতিভাবান তারকা ৩-৬, ৭-৫ এবং ৬-৪ গেমে হারান সেরেনাকে। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমবয়সী খেলোয়াড় হিসেবে সেরেনাকে হারান তিনি। এর আগে ২০০৪ সালে রুশ সুন্দরী মারিয়া শারাপোভার কাছে হেরেছিলেন আমেরিকান টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি। উইম্বলডনের সেই ফাইনালের পর সেরেনাকে বড় চমকটা দিলেন বেনচিচ। সেরেনার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম জিতেই টেনিস বিশ্বে উত্থান ঘটে মাশার। এবার হ্যালেপকে হারিয়ে রজার্স কাপের শিরোপা জিতলেও বেনচিচ মূলত পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছেন সেই সেরেনাকে হারিয়েই। যে সেরেনা এই ম্যাচের আগে চলতি মৌসুমে মাত্র এক ম্যাচে পরাজয় দেখেছিল। সময়ের সেরা তারকা সেরেনা উইলিয়ামসকে হারানোর অনুভূতিটা কেমন? এমন প্রশ্নের উত্তরে যেন ভাষাই হারিয়ে ফেলেন এই সুইস তারকা, ‘এই মুহূর্তে অনুভূতি প্রকাশের বর্ণনা করতে পারব না। শুধু এটুকুই বলব যে কোর্টে তখনকার পরিস্থিতিতে আমি অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম। আমি এতটাই আনন্দিত হয়ে ছিলাম যে আগে কখনই এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি। এর অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য। যা প্রকাশের কোন ভাষা জানা নেই আমার।’

রজার্স কাপে টেনিসের সেরা ছয় খেলোয়াড়কে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বেনচিচ। যা অনেকটা বিস্ময়ই বলা চলে। রোমানিয়ার সিমোনা হ্যালেপ আর আমেরিকার সেরেনা উইলিয়ামসকে ছাড়াও রয়েছে টেনিসের সেরা চার খেলোয়াড়। তারা হলেন সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকা ড্যানিশ কন্যা ক্যারোলিন ওজনিয়াকি, সার্বিয়ার আনা ইভানোভিচ, কানাডার ইউজেনি বাউচার্ড এবং জার্মানির সাবিনে লিসিকির মতো খেলোয়াড়দের। এই ছয়জনের সকলেই টেনিসের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট গ্র্যান্ডসøামের ফাইনালে উঠার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। একই টুর্নামেন্টে বিশ্ব টেনিসের সেরা ছয় খেলোয়াড়কে পরাজিত করাটা সহজ কথা নয়। আর কঠিন সেই কাজটাই করে দেখালেন বেনচিচ। সেসঙ্গে রজার্স কাপের শিরোপা জিতে নতুন একটি মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। তার কোচ মার্টিনা হিঙ্গিস যে অর্জন করেছিলেন তাই করে দেখালেন বেনচিচ। ১৯৯৯ সালে এই ১৮ বছর বয়সেই রজার্স কাপের শিরোপা জিতে টেনিস বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন মার্টিনা হিঙ্গিস। টেনিসের জীবন্ত সেই কিংবদন্তির পথেই এবার হাঁটলেন সুইস তারকা। মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের আগে কঠিন সেই কাজটা করেই আনন্দে-আত্মহারা বেনচিচ। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডব্লিউটিএ শিরোপা জয়ের পর টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি ঘটেছে তার। র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮ ধাপ এগিয়ে বর্তমানে ১২তম স্থানে অবস্থান তার। বেনচিচের লক্ষ্য এখন শুধুই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেন। তারই প্রস্তুতি-মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই রজার্স কাপকে। আর রজার্স কাপের শিরোপা জেতায় স্বাভাবিকভাবেই ফেবারিট হিসেবে কোর্টে নামবেন ইউএস ওপেনের ফ্ল্যাশিং মিডোজে। আর ক্যারিয়ারের সোনালি সময় কাটাতে থাকা সেরেনা উইলিয়ামস কিংবা সিমোনা হ্যালেপদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ পরাজয়ের এই হতাশা থেকে বেরিয়ে আসা। তবে ইউএস ওপেনের আগেই তারা আবার নিজেদের স্বরূপে ফেরানোর সুযোগ পাচ্ছেন। সিনসিনাতি মাস্টার্সে যে খেলবেন তারা। এখানে সেরেনা-হ্যালেপদের সঙ্গে কোর্টে নামবেন রুশ সুন্দরী মারিয়া শারাপোভা এবং চেক প্রজাতন্ত্রের পেত্রা কেভিতোভাও। রাশিয়ান টেনিসের গ্ল্যামারগার্ল শারাপোভার এই ইভেন্টে খেলার কথা ছিল। কিন্তু ইনজুরির কারণে রজার্স কাপ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন তিনি। উইম্বল্ডনের পর সিনসিনাতি মাস্টার্সেই প্রথমবারের মতো কোর্টে দেখা যাবে তাকে। পুরুষ এককে সিনসিনাতি মাস্টার্সে পারফর্ম করবেন টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি রজার ফেদেরারও।

নির্বাচিত সংবাদ