২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করত খাদ্য উৎপাদনে ভর্তুকি দেয়ার পরামর্শ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রাথমিক শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসে বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত উন্নতি করেছে। এখন লড়াই শুরু করতে হবে ক্ষুধা ও অপুষ্টিহীনতাকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরআই) সফররত মহাপরিচালক ড. শেংগেন ফ্যান ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রশংসা করে এ মন্তব্য করেন। তিনি ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করতে নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণসহ আমিষ জাতীয় খাদ্য উৎপাদনে ভর্তুকি দেয়ারও পরামর্শ দেন। তিনি ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার কারওয়ানবাজারে লা ভিঞ্চি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মহাপরিচালক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইএফপিআরআইয়ের কৌশলগত কর্মসূচীর অংশীদারিত্বের বিষয়ে সমন্বয়কারী ড. তিউনিস ভ্যান রিহনেন এবং আইএফপিআরআইয়ের বাংলাদেশ শাখার সিনিয়র গবেষক ড. আখতার আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তি বৃদ্ধি, মা ও শিশু পুষ্টি বৃদ্ধির মতো উন্নয়নমূলক কর্মসূচীতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ নতুন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। দীর্ঘ সময়ে তার সুফলও উঠে এসেছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) আটটির মধ্যে পাঁচটিতেই সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দারিদ্র্য হ্রাস, প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা বৃদ্ধি এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা। তবে ক্ষুধা, উন্নততর পুষ্টি, উন্নত স্যানিটেশন, টেকসই পরিবেশ এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার বিষয়ে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে নতুন গবেষণায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উৎসাহ যোগানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, আইএফপিআরআই চলতি বছর এর ৪০তম বার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছে। বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অপুষ্টি ও ক্ষুধার সমাপ্তি টেনে দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্য নিয়ে গবেষণা করে থাকে আইএফপিআরআই। ৫০টি দেশে এ সংস্থা কাজ করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশে এর আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। আগামী নবেম্বরে সংস্থাটি অংশীদারি দেশগুলোর আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর নতুন ধরনের গবেষণা নীতি গ্রহণের মাধ্যমে ২০২৫ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণে কৌশল নির্ধারণে কমপ্যাক্ট ২০২৫ কর্মসূচী শুরু করতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন সংস্থার দুই কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে আইএফপিআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শেংগেন ফ্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ শিশুর অপুষ্টি দূর করতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও এখনও পাঁচ বছরের কম বয়সী ৩৬ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীনতার শিকার। এরপরও বাংলাদেশ যেভাবে ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ক্ষুধা দূরীকরণকে অর্ধেকে নামিয়ে নিয়ে এসেছে তাতে আমি আশাবাদী ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটি অপুষ্টি নির্মূল করতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ক্ষুধা বহাল থাকলে দরিদ্রতা দূর সম্ভব নয়। দুটি বিষয় একটি অপরটির সঙ্গে জড়িত। তাই দারিদ্র্য দূর করতে হলে ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হতেই হবে। বাংলাদেশকে সেক্ষেত্রে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে।