২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একেই বলে সত্যিকারের ফুটবলপ্রেমী

স্পোর্টস রিপোর্টার, সিলেট থেকে ॥ উইকিপিডিয়া ঘেঁটে দেখা গেছে ২০০৮ সালে সিলেটের জনসংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৮। মঙ্গলবার এমন দর্শক বিস্ফোরণ দেখে ভিআইপিতে বসা এক রসিক দর্শকের মন্তব্য, ‘সিলেটের মোট জনসংখ্যার মনে হয় অর্ধেকই আজ স্টেডিয়ামে ও স্টেডিয়ামের বাইরে জমায়েত হয়েছে!’ গত ৯ আগস্টের আগেই থেকেই বোঝা গিয়েছিল ফুটবল জ্বরে কাঁপছে সিলেট। শহরজুড়ে শোভা পায় নানা ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন। ৩০, ৫০, ১০০- এই তিন ধরনের দামে টিকেট বিক্রি হয়। ম্যাচের আগে ৩০ টাকার টিকেট কালোবাজারিতে বিক্রি হয় ৫০০ টাকায় পর্যন্ত! কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই তারা স্টেডিয়ামে মহো উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। যদি একটা টিকেট পাওয়া যায়। নিজের দেশের যুবাদের একটা ম্যাচ মাঠে বসে উপভোগ করা যায়। মেঘলা দিন। গুমোট গরম। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা। সাফ অনুর্ধ ১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচ। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক বাংলাদেশ বনাম বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। ম্যাচ শুরু হতে এখনও বাকি পাঁচ ঘণ্টা। অথচ তার আগেই স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে ভিড় করেছে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী, যাদের অধিকাংশই ‘সিলটী’। দুটি টিকেট কাউন্টারের সামনে তারা সুশৃঙ্খলভাবে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে। রাস্তায় ফেরিওয়ালারা বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন আকারের পতাকা, টুপি, হেডব্যান্ড। ‘ভাম্রমান চিত্রকর’রা দর্শনীর বিনিময়ে হাতে ও গালে এঁকে দিচ্ছে বাংলাদেশের পতাকা ও নাম। চারদিকে উৎসব উৎসব ভাব। যেন ঈদের দিন! দুটি কাউন্টারের মধ্যে একটি কাউন্টারে ঘোষণা করা হলো, টিকেট বিক্রি শেষ। এতে ফুঁসে উঠল লাইনে দাঁড়ানো দর্শকরা। মদনমোহন কলেজের শিক্ষার্থী মিজান বলল, ‘সেই সকাল থেকেই একটা টিকেট পাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। অথচ এখনও কিনতে পারিনি। এক কাউন্টারে টিকেট বিক্রি শেষ হলেও এখন আশায় আছি আরেক কাউন্টার থেকে নিশ্চয়ই টিকেট কিনতে পারব। এখানে লাইন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোন ভলান্টিয়ার নেই। কিন্তু আমরা নিজেরাই শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করছি।’ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির চাকরিজীবী লাক মিয়া বললেন, ‘আমরা জানি, কাউন্টার থেকে আগেই কিছু লোক সব টিকেট কিনে তা ব্ল্যাকে বিক্রি করছে। ব্ল্যাকেও টিকেট পাওয়া মুশকিল!’ কিছু প্রভাবশালী লোক তাদের প্রভাব খাটিয়ে কাউন্টারে গিয়ে লাইনে না দাঁড়িয়েই টিকেট কিনছে, এমন অভিযোগ করল নবম শ্রেণী পড়ুয়া শিক্ষার্থী হুসেইন আহমেদ। এদের অনেকেই এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের একাধিক খেলা গ্যালারিতে থেকে উপভোগ করেছে। বৃষ্টি, রোদ, গ্যালারিতে ময়লা-আবর্জনা, আসন না পেয়ে পুরো সময় দাঁড়িয়ে খেলা দেখা ... কোন কষ্টই স্পর্শ করতে পারেনি তাদের।