১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছত্তিশগড়ে আদিবাসীদের ভিটেছাড়া করার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক ॥ ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে মাওবাদী দমনের নামে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে আদিবাসীদের ওপর চরম অত্যাচার চালিয়ে তাদের ভিটেছাড়া করছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির ভারতের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী।

বুকার প্রাইজ জয়ী লেখিকা অরুন্ধতী রায়, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বা বৃন্দা গ্রোভারের মতো অ্যাক্টিভিস্টরা আজ দিল্লিতে এক বৈঠকে বলেছেন, আদিবাসীদের উচ্ছেদের পেছনে আসল উদ্দেশ্য হল খনিজ সমৃদ্ধ ওই সব এলাকায় শিল্পকারখানা গড়ে তোলার রাস্তা করে দেওয়া।

ছত্তিশগড়ে পুলিশের হাতে অত্যাচারিত বেশ কিছু আদিবাসীও বলছেন, রাষ্ট্র তাদের সঙ্গে যে বর্বর আচরণ করছে তা নীরব গণহত্যা ছাড়া কিছুই নয়।

ছত্তিশগড়ের আদিবাসী শিক্ষিকা সোনি সোরি দিল্লিতে ভারতের জাতীয় প্রেস ক্লাবে বসে এদিন সন্ধ্যায় বলছিলেন পুলিশ কীভাবে তাকে এখনও রোজ জেলে পোরার ভয় দেখায়।

মাওবাদী সন্দেহে ছত্তিশগড়ের জেলে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছিল সোনির ওপর, তার যৌনাঙ্গে পাথর ঢুকিয়েছিল পুলিশ – এখন জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি বস্তার ও দান্তেওয়াড়া জেলায় আদিবাসীদের সংগঠিত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এটাই তার অপরাধ।

সোনি সোরি, তার সঙ্গী লিঙ্গারাম কোড়োপি বা বিনা অপরাধে আট বছর জেলে কাটানো আর বারবার ধর্ষিতা হওয়া কাওয়ামি হিড়মে – ছত্তিশগড়ের আদিবাসী সমাজের এই সব প্রতিনিধিরা এদিন দিল্লিতে এ কথাই বলতে এসেছিলেন যে সে রাজ্যে তাদের ওপর অত্যাচার এতটুকুও থামেনি।

বরং ভুয়ো এনকাউন্টার, মিথ্যা মামলা, জেলে ঢুকিয়ে ধর্ষণ বা নির্যাতন ইত্যাদি নানা পন্থায় পুলিশ ও প্রশাসন তাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইছে।

কেন সরকার ছত্তিশগড়ের আদিবাসীদের নিশ্চিহ্ন করতে চায়, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন লেখিকা ও মানবাধিকার কর্মী অরুন্ধতী রায়।

তিনি বলছেন, ‘সেখানে টাটা-এসারের মতো শিল্পগোষ্ঠী বিশাল ইস্পাত কারখানা গড়তে চায়, যা হবে ভিলাইয়ের চেয়েও অনেক অনেক বড়। বস্তারকে তারা শিল্পাঞ্চল বানাতে চায়, জঙ্গলে মুক্তভাবে ঘোরা আদিবাসীদের কারখানা আর খনির শ্রমিক বানাতে চায়। এই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়েই সুপরিকল্পিতভাবে এই আদিবাসী-বিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে।’

মাওবাদী দমনে ভারতের বিগত ইউপিএ সরকারের আমলে যে অপারেশন গ্রিন হান্ট চালু হয়েছিল, তীব্র জনমতের চাপে সরকার তা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

কিন্তু মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বর্তমান বিজেপি সরকারও এখন একই অভিযান চালাচ্ছে, কিন্তু বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ভয়ে তার কোনও নাম দেওয়া হয়নি। সূত্র-বিবিসি।