১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক ॥ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশাল বাজারকে কাজে লাগাতে পারলে প্রতিবেশী এই দুই দেশ ‘বড় কিছু’ করতে পারে।

বুধবার নয়া দিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন বলে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান।

বাংলাদেশের মেয়ে শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সকালে দিল্লি পৌঁছান শেখ হাসিনা।

তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তার ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

পরে লোধি রোডের শ্মশানে গিয়ে শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

শেষকৃত্য শেষে রেস কোর্স রোডে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে যান শেখ হাসিনা। সেখানেই বৈঠক করেন দুই নেতা।

শেখ হাসিনার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম পরে সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বিশাল বাজারের কথা প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরাই অনেক কিছু করতে পারি’।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক চুক্তিকে দুই প্রধানমন্ত্রীই স্বাগত জানান।

প্রেস সচিব জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যৌথ মহড়ার কথা বলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের মহড়া হলে তা হবে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ এগিয়ে চলায় সন্তোষ প্রকাশ করে নরেন্দ্র মোদী বলেন, যে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে বাস্তবায়ন ‘অনেক কঠিন’।

কোনো ‘সমস্যা ছাড়াই’ স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হওয়ায় এ ঘটনা বিশ্বের কাছে ‘দৃষ্টান্ত’ হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোদী বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের এ ঘটনা রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য গবেষণার বিষয় হতে পারে।

গত জুন মাসে ঢাকা সফরের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মোদী বাংলাদেশের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন।

‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনের স্মৃতিচারণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে গিয়ে তিনি অভিভূত হয়েছেন।

এই জাদুঘরের ডিজিটাইজেশন এবং আধুনিকায়নে প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেন নরেন্দ্র মোদী।

ইহসানুল করিম বলেন, “এজন্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়েও ভারতের প্রধানমন্ত্রী আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”

শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ের কথা বৈঠকে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাবা শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা হত্যার শিকার হওয়ার পর দীর্ঘদিন তিনি নির্বাসনে ভারতে ছিলেন। তখন থেকেই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক, যা দিন দিন আরও গভীর হয়েছে।

এ কারণে ভারতের রাষ্ট্রপতির স্ত্রীর প্রয়ানের কথা শুনেই ‘ছুটে এসেছেন’ বলে শেখ হাসিনা জানান।

নরেন্দ্র মোদী তার আসন্ন যুক্তরাজ্য সফরের কথা তুলে ধরে বলেন, তখন তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নাতনি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে দেখা হবে।

দুই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সময় শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুল ছাড়াও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ও প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও পররাষ্ট্র সচিব জয়শংকর উপস্থিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত সফর শেষে স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার পথে রওনা হন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিং এবং বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান।