২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বহুমাত্রিক সাফল্যে জাতিসংঘে বাড়ছে বাংলাদেশের গুরুত্ব

তপন বিশ্বাস ॥ জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দারিদ্র্যবিমোচন, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, মা ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ প্রভৃতি বিষয়ে সাফল্যের কারণে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের মডেল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকেই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চায় জাতিসংঘ। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলবে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অধিবেশনে যোগ দেয়ার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতিসংঘের কাছে এখন বাংলাদেশের গুরুত্ব বেড়েছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই এমডিজি অর্জনেও সফল হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সাফল্য দেখিয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যু হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ এমডিজি পুরস্কার পেয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে ইতোপূর্বে ব্রিটিশ চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেটে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ল্যানসেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হওয়ার পরেও গত ৪০ বছরে স্বাস্থ্যখাতে যুগান্তকারী সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে, গড় আয়ু বেড়েছে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে দারুণ অগ্রগতি হয়েছে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে ‘ই-স্বাস্থ্য’ সেবা চালু করায় জাতিসংঘের ‘সাউথ সাউথ’ পুরস্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের এখন ৯ হাজার ৫৯৩ সদস্য রয়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ সুদান ও কঙ্গোতে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা খুবই সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বাংলাদেশ যে কোন পরিস্থিতিতেই এখান থেকে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে জাতিসংঘে সেনা সদস্য পাঠাতে সক্ষম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১২২ সদস্য নিহত হয়েছেন। বিগত বছর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বিভাগের মহাসচিব হার্ভে লাডসুস বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তিনি গত কয়েক দশক ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর অসাধারণ ভূমিকা, কর্ম দক্ষতা ও পেশাগত আচরণের গভীর প্রশংসাও করেন। জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশে গরিব মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনা, জঙ্গী ও সন্ত্রাস দমন, নারীর ক্ষমতায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও এমডিজি অর্জনে সরকারের সাফল্য তুলে ধরা হবে। এছাড়া বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা, আন্তর্জাতিক অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বল্পোন্নত দেশের সমস্যা, বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব, ইরাক ও ফিলিস্তিন সঙ্কটের মতো আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এমডিজির সাতটি লক্ষ্যমাত্রাই পূরণের পথে বাংলাদেশ। দারিদ্র্যবিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিশু মৃত্যুহার হ্রাস, শিক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সাফল্য এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এমডিজি লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে রয়েছে। উন্নয়ন অগ্রগতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০১০ সালে শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে সাফল্য অর্জন করায় জাতিসংঘের এমডিজি পুরস্কার পেয়েছে।