১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জিএসপির শর্ত পূরণ নিয়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন মত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) পেতে সব ধরনের শর্ত পূরণ হয়েছে। তবে একথা মানতে নারাজ বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লম বার্নিকাট। তিনি বললেন, জিএসপির দেয়া শর্ত এখনও পূরণ হয়নি। শর্ত পূরণ হলেই বাংলাদেশ জিএসপি ফিরে পাবে।

বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং বার্নিকাট এক বৈঠক শেষে নিজ নিজ বক্তব্যে একথা বলেন।

বার্নিকাট বলেন, জিএসপি ফিরে পেতে আরোপিত শর্ত এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি, এজন্যই জিএসপি পুনর্বহাল হয়নি। কারখানার কর্মপরিবেশ, শ্রমিক নিরাপত্তা এখনও উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেনি। তবে তৈরি পোশাক কারখানার কর্ম-পরিবেশ অনেক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে বলে জানান তিনি।

এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, জিএসপির ১৬টি শর্ত পূরণ করা হয়েছে। ১২৩টি মধ্যে ১২২টি দেশকে জিএসপি সুবিধা দেয়া হয়েছে। আমাদের দেশে, এখন কারখানা পরিবেশ ভাল, শ্রমিকরা খুশি, তাদের বেতন ২১৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অনেক দেশের চেয়ে কারখানা পরিবেশ ভাল, তারপরও জিএসপি দেয়া হয়নি। বৈঠকে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বলেছে, ৩০ শতাংশ কারখানা ঠিকমতো বেতন-ভাতা দেয় না, আমি বলেছি এ তথ্য ঠিক না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জিএসপি বিরাট কিছু নয়, শুধু ইমেজের ব্যাপার। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে চিলি ১৬ শতাংশ শুল্কমুক্ত পণ্যে রফতানি সুবিধা দিয়েছে। চিলিতে ৪০ মিলিয়ন ডলার রফতানি করছি। টোব্যাকো, সিরামিকসহ কয়েকটি আইটেমে আমরা জিএসপি সুবিধা পেতাম সামান্য; মাত্র ২৩ মিলিয়ন ডলার। আরএমজি খাতে কখনো জিএসপি পাইনি। কিন্তু আরএমজির কথা বলা হচ্ছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি আছে, লেবার আইনে তারা খুশি। আগামী সেপ্টেম্বরে মার্কিন বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) বাংলাদেশ আসবে। ওই সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তারা বসবেন, আশা করি জিএসপির ফিরবে।

এ সময় বার্নিকাটের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এর পরও জিএসপি না ফিরলে, জনগণ ভাববে যুক্তরাষ্ট্র ৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার ভূমিকা থেকে সরে আসেনি।