২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্থনৈতিক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ॥ গবর্নর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। শীঘ্রই এটি প্রকাশ করা হবে। তাতে অর্থনৈতিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য আমরা টাকা আকাশে উড়াব না। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে মাটিতে ঢালব। কৃষকদের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াব। ফলে দেশে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এমনিতেই বেড়ে যাবে। ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফিন্যান্স (আইএনএম) ১৮ ও ১৯ আগস্ট ইনক্লুসিভ ফাইনান্স ইন বাংলাদেশ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী একটি জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিকরণ অর্থায়নের অবস্থা ও ভবিষ্যত দিকনির্দেশনা বিষয়ক এবং সঠিক অন্তর্ভুক্তিকরণে ক্ষুদ্র অর্থায়ন ব্যবস্থার অবদান সম্পর্কে আলোচনা করা।

ড. আতিউর রহমান আরও বলেন, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পেলে অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব বেড়ে যাবে। তবে সমাজে গুটি কয়েক মানুষের হাতে যাতে অর্থ না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ দিকটি বাংলাদেশ ব্যাংক বেশি নজর দিচ্ছে। অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি বাড়লে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে। এজন্য সবাই মিলে অর্থনৈতিক শিক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এ কে এম নুরুন্নবীর সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের আলস্টার ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. এস আর ওসমানী। এছাড়া প্যানেলিস্ট হিসেবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার উপর আলোচনা করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির ডিরেক্টর সাজ্জাদ হোসাইন, পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ইকবাল আহমেদ, উদ্দীপনের নির্বাহী পরিচালক ইমরানুল হক চৌধুরী ও দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিইও ড. মাসুদুল কাদের।

সভাপতির বক্তব্যে এ কে এম নুরুন্নবী বলেন, ২০১০ থেকে ১৪ সালের মধ্যে ঋণ গ্রহীতাদের ওভারলেপিং বেশি হয়েছে। তবে ঋণ গ্রহীতাদের উপর ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সুষ্ঠু মনিটরিং থাকার কারণে দেউলিয়া হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এ নিয়ে চিন্তারও কোন কারণ নেই। আমাদের দেশে ক্ষুদ্র অর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একটি সিস্টেমের মধ্যে কাজ করছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট অব মাইক্রো ফিন্যান্স-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর প্রফেসর এম এ বাকী খলিলী। এছাড়া প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ইকোনমিক এ্যাডভাইজর ড. মোঃ আখতারুজ্জামান ও বিআইবিএম এর ডিরেক্টর জেনারেল ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।

এম এ বাকী খলিলী তাঁর প্রবন্ধে বলেন, অর্থনৈতিক জ্ঞান যাদের বেশি তাদের অর্থনৈতিক কর্মকা-ও বেশি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত জ্ঞান যাদের আছে তারা ক্রেডিট ও সেভিংস বেশি করে থাকে। এ জন্য সকলের আর্থিক ও ব্যাংক সম্পর্কিত জ্ঞান থাকা দরকার। গ্রামের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামের মহিলাদের অর্থনৈতিক জ্ঞান ও শিক্ষা কম থাকায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা কম। এ জন্য গ্রামে শিক্ষা প্রসারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।