২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খেলাপী ঋণের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি কমছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ খেলাপী ঋণ কমার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণও কমেছে। চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারী খাতের ৫টি ব্যাংক তিন হাজার ৪৩৭ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতিতে পড়েছে। এর আগে মার্চ প্রান্তিকে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা। ফলে তিন মাসের ব্যবধানে প্রভিশন ঘাটতি কমেছে ৯২৮ কোটি টাকা। আর এক বছরের ব্যবধানে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ কমেছে এক হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপী ঋণ এবং প্রভিশনিং সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে খেলাপী ঋণ কমার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণও কমেছে। আলোচ্য সময়ে খেলাপী ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর ৩০ হাজার ৩৬ কোটি টাকার প্রভিশন রাখার কথা থাকলেও এ সময়ে তারা ২৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকার প্রভিশন রেখেছে। ফলে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।

যা এর আগের প্রান্তিক মার্চ শেষে ছিল ৩ হাজার ৭৭৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ শেষে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ মোট ৮টি ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতির তালিকায় থাকলেও জুন শেষে তা কমে ৫টিতে দাঁড়িয়েছে। প্রভিশন ঘাটতির তালিকা থেকে বের হয়ে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। আর এ সময়ে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সোনালী ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে তার বেশিরভাগই আমানতকারীদের অর্থ। আমানতকারীদের অর্থ যেন কোন প্রকার ঝুঁকির মুখে না পড়ে সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। এর একটি হলো প্রভিশন সংরক্ষণ।

নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণীকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিম্নমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা খেলাপী ঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ। ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে এ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়। খেলাপী ঋণ বেড়ে গেলে আর সে অনুযায়ী ব্যাংকের আয় না হলে প্রভিশন ঘাটতি দেখা দেয়।

অর্থাৎ ব্যাংকটি যে পরিমাণ আয় করে তা দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে না পারায় ঘাটতি দেখা দেয়। প্রভিশন ঘাটতি হলে ওই ব্যাংকের রিটেইল আর্নিং কমে যায়। এভাবে পরে সমন্বয় করতে না পারলে মূলধন ঘাটতি দেখা দেয়। আর সেইসঙ্গে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয়ও (ইপিএস) কমে যায়। আয় কমে গেলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হন।