২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভেজার সুখ

  • গৌরব জি. পাথাং

মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ময়মনসিংহ জেলার ঘিলাগড়া গ্রাম। তার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে রা¯œা নদ। বর্ষায় রাত্না নদ ফিরে পায় তার হারানো যৌবন। ভারি বর্ষণে রা¯œার বুকে নেমে আসে পাহাড়ী ঢল। আর সেই পাহাড়ী ঢল বেয়েই নামতে থাকে অসংখ্য কাঠ, কাঁশ ও লাকড়ি। তাই ঢল নামলেই সবাই সেইগুলো সংগ্রহ করার জন্য নদীর তীরে সমবেত হয়। সবাই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। নদীর দুই ধারে দাঁড়িয়ে কেউ লাকড়ি ধরে, কেউ মাছ ধরে আর কেউবা ঢেউ দেখে। বৃষ্টিতে মাঠ ক্ষেত, খাল বিল ও নদ-নদী অথৈ জলে ভেসে যায়। বাড়ি থেকে চোখ মেলে মেঘালয় পাহাড়ের দিকে তাকালেই দেখতে পাই বলাকার মতো সাদা মেঘ উড়ে বেড়ায়। ধুয়োর মতো পাথর থেকে বেরিয়ে সাদা মেঘ দূর দিগন্তে উড়ে যায়। তা দেখে দুরন্ত মন বার বার ছুঁতে চায়। কিন্তু ভারতের কাঁটাতার অন্তরায়। বর্ষায় গ্রামের রূপ থাকে সবুজ, ¯িœগ্ধ ও চঞ্চল। যেদিকে তাকাই, সেদিকেই দেখতে পাই সবুজ গাছ কিশোরীর মতো ¯œান সেরে ¯িœগ্ধ সজীব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গ্রামের মেঠো পথ, ঘরের উঠোন, জমির মাটি বৃষ্টির জলে পবিত্র হয়ে যায়। তাই সবাই নগ্ন পায়েই হেঁটে বেড়ায়। কেউবা জল পানের জন্য বৃষ্টির জল কলসীতে সংগ্রহ করে রাখে। আমার জীবনের দিনগুলোও এই রকম বৃষ্টিভেজা দিনের মধ্য দিয়েই অতিবাহিত হয়েছে। তাই এখনও শৈববের স্মৃতিগুলো আমায় পিছু থাকে। আমি আকাশে মেঘ জমতে থাকলেই বৃষ্টিতে ভেজার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকতাম। কারণ বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ উপলব্ধি করতাম। রামপুরা, ঢাকা থেকে

নির্বাচিত সংবাদ