২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার ওয়ারীতে খুন যুবলীগ নেতা মান্নান

এবার ওয়ারীতে খুন যুবলীগ নেতা মান্নান
  • ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ॥ গ্রেফতার ২

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীতে আবারও সরকার দলীয় এক নেতাকে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ১১টায় মাথায় ও বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে সন্ত্রাসীরা ঢাকার ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নানকে (৩২) আহত করে। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ব্যবসায়ীক পার্টনার রনি সহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে গত ১৩ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডায় ঝুট ব্যবসার সূত্রধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সরকার দলীয় তিন নেতাকে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। আহত হন সরকার দলীয় আরেক নেতা। এমন ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ওয়ারীতে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে খুন হতে হলো যুবলীগ নেতা আবদুল মান্নানকে। ইয়াবা ব্যবসার টাকার ভাগ-বাটোয়ারার সূত্রধরে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটতে পারে। নিহত মান্নান খুন ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি ছিলেন। আবদুল মান্নান হত্যার ঘটনায় মামলা হচ্ছে। হত্যাকারীরা ভাড়াটে খুনী হতে পারে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর ওয়ারী থানাধীন নক্শি রূপায়ণ টাওয়ারের নিজ বাসার সামনে ঘটনাটি ঘটে। নিহত মান্নান মূলত রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বসবাস করতেন। মাস খানেক আগে রাজধানীর ওয়ারী থানাধীন হাটখোলা রোডের রূপায়ণ টাওয়ারের তৃতীয় তলায় দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস শুরু করেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিবেশক ও মিটফোর্ডে ওষুধের ব্যবসা করতেন।

ঘটনার রাতে রিক্সাযোগে বন্ধু আল আমিনের সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। রিক্সাটি বাসার নিচে থামা মাত্রই একটি মোটরসাইকেলযোগে দুই সন্ত্রাসী সেখানে হাজির হয়। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা মান্নানের মাথায় ও পেটে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালায়। মান্নান চিৎকার দিয়ে রিক্সার মধ্যেই ঢলে পড়েন। এ সময় হত্যাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করেই পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আল আমিন ও রিক্সাচালক সরে যান।

নিহতের স্ত্রী নুসরাত জাহান জানান, গুলির শব্দ শুনে তিনি বারান্দায় বের হন। ঝাঁপসা আলোতে তিনি স্বামীকে রিক্সার মধ্যে ঢলে পড়তে দেখেন। তিনি দ্রুত নিচে নামেন। এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাত ১২টার দিকে রাজধানীর পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্কয়ার হাসপাতাল থেকে রাতেই আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, আব্দুল মান্নানের মাথার পেছনে ও পেটে দুটি গুলি লেগেছে।

ওয়ারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শুভাষ কুমার পাল জনকণ্ঠকে জানান, বুধবার সকাল ৭টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ্যাপোলো হাসপাতালে আব্দুল মান্নানের মৃত্যু হয়। লাশ উদ্ধার করে পুরানা ঢাকায় অবস্থিত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। বিকেলেই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে মামলা হচ্ছে। এমনকি নিহতের সঙ্গে থাকা আল আমিনেরও হদিস মেলেনি।

ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান জনকণ্ঠকে জানান, নিহত মান্নান ওয়ারী থানার একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। এছাড়া মাদকসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওষুধ ব্যবসার আড়ালে তার ইয়াবার ব্যবসা ছিল। রাজধানীর শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অন্যতম ছিল আব্দুল মান্নান। পলাতক আল আমিনও ইয়াবা ব্যবসায়ী। আব্দুল মান্নানের সঙ্গেই ইয়াবা ব্যবসা করত। আল আমিন একেবারেই অল্প শিক্ষিত। আব্দুল মান্নানের ইয়াবা দেখাশুনার পাশাপাশি নিজেও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মধ্যবাড্ডার আদর্শনগরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই স্থানীয় যুবলীগ কর্মী ও উত্তর বাড্ডার এইচএএফ হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ফিরোজ আহমেদ মানিক ( ৪৫) ও ঢাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক শামসুদ্দিন মোল্লা ওরফে শামছু মোল্লা (৫৩) নিহত হন। আহত হন যুবলীগ নেতা আব্দুস সালাম (৪৩) ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা উত্তরের সহকারী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা (৪৫)। গত ১৪ আগস্ট রাজধানীর গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালে মাহবুবুর রহমান গামার মৃত্যু হয়। আব্দুস সালাম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত ১৬ আগস্ট মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ রাজধানীর ভাটারা থেকে হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারী বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফারুক মিলন (৪০) ও বাড্ডা থানা ছাত্রলীগ নেতা নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরে আলমকে (২৬) গ্রেফতার করে। নূর মোহাম্মদ ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত গুলশান থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ঝুট ব্যবসার সূত্রধরে হত্যাকা-টি সংঘটিত হয় বলে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার ও ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম জানান।