২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সালিশী ব্যবস্থা জোরদার হলে সমাজে অপরাধ কমবে

  • আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অভিমত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অপরাধ মীমাংসা ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সামাজিক বিচার ব্যবস্থা প্রচলন জরুরী। সেজন্য সালিশী ব্যবস্থা জোরদার হলে সমাজে অপরাধ কমে আসবে। এছাড়া অপরাধের ন্যায্য নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সামাজিক বিচারে ক্ষতিগ্রস্ত, অভিযুক্ত ও কমিউনিটির সদস্যকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সামাজিক বিচার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনলে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীই লাভবান হবে বেশি। বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘সামাজিক বিচার : অপরাধ প্রতিরোধ ও দ্বন্দ্বের ইতিবাচক অবসান’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জন ব্রেইথওয়েইট। এছাড়াও প্রথম দিনের বিভিন্ন সেশনে বক্তব্য রাখেন জিআইজেড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টোবিয়াস বেকার, ডিএফআইডি বাংলাদেশের প্রতিনিধি সারা কুক, ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ফার্ডিন্যান্ড ফন ভাইয়ো, সামাজিক ন্যায়বিচার বিশেষজ্ঞ জেরেমি সাইমন্স, কানাডার ভ্যানকুভার অ্যাসোসিয়েশন ফর রেস্টোরেটিভ জাস্টিসের বোর্ড সদস্য এম আসাদুল্লাহ ও ইসলামিক ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য ড. আবদুল হাকিম সরকার।

অনুষ্ঠানে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন বলেন, সমাজে সালিশী ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সালিশী ব্যবস্থা জোরদার হলে ন্যায়বিচার দ্রুত নিশ্চিত সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী যে কোন নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়া মৌলিক অধিকার। তবে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য অনেক সময় আদালতে দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে পড়তে হয়। এক্ষেতে সালিশী ব্যবস্থা জোরদার হলে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত সম্ভব হবে।

স্পিকার বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সালিশী ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। সেসব দেশের অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাতে পারি। তবে সেসব দেশের অভিজ্ঞতা আমাদের দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে কাজে লাগাতে হবে। সালিশী ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে সৌহার্দ্য ও শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, অপরাধ দমনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে সালিশ ব্যবস্থার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সালিশ ব্যবস্থা জোরদার হলে দেশে মামলার পরিমাণ কমবে। এছাড়া কারাগারেও কয়েদীর সংখ্যা হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কারাবন্দীর সংখ্যা অনেক বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশের কারাগারে বন্দী ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার ৬৮১ জন। অথচ বন্দীর সংখ্যা ৬৯ হাজার ৭১৯ জন। এটা প্রকৃত ধারণক্ষমতারও দ্বিগুণের বেশি। এই কারাবন্দীর প্রায় ৭০ শতাংশই বিচারাধীন। আবার বিচারাধীন বন্দীদের মধ্যে অনেকেই আবার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী। সে কারণে সালিশ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সালিশী ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আর সালিশী ব্যবস্থাকে জোরদার করতে সামাজিক বিচার (রেস্টোরেটিভ জাস্টিস) একটি নতুন ধারণা। এটিকে যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া সরকারের ভিশন-২০২১ সফল করতে হলেও সামাজিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ফার্ডিন্যান্ড ফন ভাইয়ো বলেন, সালিশী ব্যবস্থা একটি পুরনো বিষয়। তবে নতুন করে এটি এখন শুরু হয়েছে। এই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা গেলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে। একই সঙ্গে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক বিচার (রেস্টোরেটিভ জাস্টিস) ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরী। সামাজিক বিচার প্রচলিত আনুষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থার বিকল্প নয়। এটি কারাগারেরও বিকল্প নয়। এটি আসলে এক ধরনের দিকনির্দেশনা মাত্র, যার মাধ্যমে সমাজে অনেকাংশে অপরাধ ও ক্ষতিকর ঘটনা কমিয়ে আনা যেতে পারে।

সম্মেলন উদ্বোধনের পরে একটি সামাজিক বিচার ব্যবস্থা নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়েলের মোড়ক উম্মোচন করা হয়। দু’দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশেষজ্ঞ, নীতি প্রণেতা, বাস্তবায়নকারী এবং অনুশীলনকারী ব্যক্তিবর্গ যোগ দেন। সম্মেলনের প্রথম দিনের আলোচনার বিষয় ছিল ‘সামাজিক ন্যায়বিচারের মাধ্যমে পুনঃঅপরাধ হ্রাস।’ আজ বৃহস্পতিবার সম্মেলন শেষ হবে।

আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড) ও যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি)। এছাড়া সম্মেলনের সহযোগিতায় রয়েছে জার্মান সংস্থা জিআইজেড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট।